আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর, সোমবার: ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসির নগরে সাম্প্রদায়িক হামলায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির-বাড়িঘর পরিদর্শন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ ও গাইবান্ধা -সিলেটসহ দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের উস্কানী ও জঙ্গিবাদের প্রতিবাদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি আজ ১৪ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আহলে সুন্নাত সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এড. মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার বলেন, দেশে হঠাৎ করে গর্জে ওঠা জঙ্গিবাদী তৎপরতার প্রেক্ষিতে ইসলামের মূলধারা সূফিবাদী সুন্নী মুসলমানদের সমন্বিত আন্দোলন হিসেবে এই বার আউলিয়ার চট্টগ্রাম aথেকে ২০১৩ সনে আত্মপ্রকাশ করেছিল আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটি। ২০ এপ্রিল ২০১৩ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে স্মরণকালের বৃহত্তম জঙ্গিবাদ বিরোধি মহাসমাবেশ আয়োজনের পর থেকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এমন একটি জঙ্গিবাদ বিরোধি মহাসমাবেশ আয়োজনের জন্য শেষ পর্যন্ত ১২ নভেম্বর ২০১৬ তারিখ নির্ধারণ করা হয়। যা দেশব্যাপি সুন্নি জনতার মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমরা স্বপ্নের এ মহাসমাবেশ স্থগিত করি এবং একইদিন দেশব্যাপি জেলায় জেলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও উস্কানি বন্ধের দাবিতে জঙ্গিবাদ বিরোধি মানববন্ধন পালন করি। এর আগেই ১১ নভেম্বর ২০১৬ আমরা নাসির নগরে ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দির পরিদর্শন করি এবং সরেজমিনে পাওয়া তথ্যগুলো জাতিকে অবহিত করে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামার বিরুদ্ধে পরবর্তি কর্মসূচি ঘোষণার জন্য এই সংবাদ আয়োজন করেছি। তিনি বলেন, আমরা নাসির নগরের উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী, আহত ব্যক্তি, ক্ষতিগ্রস্থ মন্দির, বাড়িঘর পরিদর্শন করি, তাদের সাথে কথা বলি এবং তাৎক্ষণিক প্রেসব্রিফিংসহ প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখি। আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতি সহানুভূতি জানাই এবং দুর্বৃত্তদের শাস্তি দাবি করি। বিশেষত: মামলার বাদী কাজল দত্ত রায় এবং আহত বিনোদ বিহারি চৌধুরীর সাথে আলাপ করে জানতে পারি যে, সেদিন উপজেলার বাইরে থেকে ১৪/১৫ টি ট্রাকে করে আসা সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা চালায় যাদের পরনে ছিল হাফ প্যান্ট এবং গেঞ্জি আর বয়সে ছিল তরুন। দত্ত বাবু সেখানে আমাদের সাথে উপস্থিত আহলে সুন্নাত কর্মীকে দেখিয়ে দিয়ে বলেন যে, সেদিন হামলার সময় ঐ যুবকরা না থাকলে সন্ত্রাসীরা তাঁকেও মেরে ফেলতো। মামলার বাদী এবং আহত ব্যক্তি উভয়েই স্থানীয় সুন্নী-সূফিবাদী মানুষের সাথে দীর্ঘদিনের সখ্যতা সম্পর্কে আমাদের জানান এবং আহলে সুন্নাতের মানুষগণ তাদের বিশ^স্থ প্রতিবেশি বলে উল্লেখ করেছে। যদিও কুচক্রি মহল শুরু থেকে কা’বা শরীফ অবমাননার প্রতিবাদে সমাবেশ আয়োজনের জন্য সুন্নি জনতাকে দায়ী করবার নির্লজ্জ্ব অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিরীহ মানুষকে আসামী বানিয়ে প্রকৃত প্রভাবশালী অপরাধিদের আড়াল করবার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। আমরা কা’বা শরীফ অবমাননাকারী প্রকৃত অপরাধি চক্রকে কঠিন শাস্তি দিতে দাবি জানাই-কারণ এই চক্রই দাঙ্গা-হাঙ্গামার মূল উস্কানিদাতা। একই সাথে ভিডিও ফুটেজ দেখে মন্দিরে সশস্ত্রভাবে প্রবেশকারি দুর্বৃত্তদের সনাক্তকরে শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। সম্পূর্ণ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি আবারো জানাচ্ছি। সাথে সাথে নাসিরনগর, গাইবান্ধা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে bহঠাৎ করে সংখ্যালঘুদের মন্দিরে হামলা চালিয়ে ও সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়ে দেশে একটি অরাজক অবস্থা তৈরির নেপথ্যের নায়কদের চিহ্নিত করা সরকার ও প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একই সাথে ধর্ম অবমাননাকারী যেই হোক তাদেরকে কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে বিদ্যমান জঙ্গি হুমকির পাশাপাশি চলমান এমন সাম্পদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী চক্রান্তের বিরুদ্ধে আহলে সুন্নাত রাজপথে আছে এবং থাকবে ইনশা’আল্লাহ। আমরা দেশের সুুুুুফিবাদী বিশাল জনতাকে নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখা এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির জন্য ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে ও ১১ মার্চ ২০১৭ ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুন্নী মহাসমাবেশের ঘোষণা করছি। নভেম্বর-ডিসেম্বর’ ১৬ পীর-মাশায়েখদের সাথে মতবিনিময় এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগ ও জেলায় সমাবেশের তারিখও ঘোষণা করা হবে। সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী আহলে সুন্নাতের এই যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান সমন্বয়ক এম এ মতিন, স.উ.ম আব্দুস সামাদ, কাজী মুহাম্মদ মুদাচ্ছির হাশেমী, এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, উপাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী চৌধুরী, গাজী মনজুরুল করিম রেফায়ী, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী,আলহাজ্ব নঈমুল ইসলাম পুতুল, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, নাসির উদ্দিন মাহমুদ, মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, ফোরকানুল আলম চৌধুরী, আলহাজ্ব আমান উল্লাহ সমরকন্দি, মাওলানা আবদুল হাকিম, আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু তালেব, শফিউল আলম শফি, মাওলানা আবু তৈয়্যব চৌধুরী, অধ্যাপক মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন নিজামী, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী, জি.এম. শাহাদত হোসেন মানিক, মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, নিজামুল করিম সুজন, ছৈয়দ মুহাম্মদ খোবাইব, মুহাম্মদ মাছুমুর রশিদ কাদেরী, আমিনুল ইসলাম রুবেল, আব্দুল্লাহ আল রোমান প্রমুখ।

Leave a Reply