নাসিরনগরে ৭৮ জন ও মাধবপুরে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৩ নভেম্বর, রবিবার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের মাধবপুরের গ্রামে গ্রামে সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে নিস্তব্ধতা। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেয় দূরের মাঠে-ময়দানে। সেখানেই রাত কাটে তাদের। আর এদিকে গ্রামে বিরাজ করে এক ভুতুড়ে পরিবেশ।1
এ অবস্থা সম্প্রতি মাধবপুর ও নাসিরনগরে বিভিন্ন মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলার ঘটনার জের। গ্রামে গ্রামে চলছে গ্রেপ্তার আতঙ্ক। তা থেকে বাঁচতেই সন্ধ্যার পর সবাই ছোটে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে।
হামলার ঘটনার পর ১০ দিন পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এলাকায় ফেরেনি স্বাভাবিক পরিবেশ। প্রতি রাতেই গ্রামে গ্রামে চলছে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান।
দিনের বেলায় লোকজন বিশেষ করে পুরুষরা বিচ্ছিন্নভাবে বাড়িতে অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পরপরই বিছানা-বালিশ নিয়ে চলে যান দূরের কোনো মাঠে। অনেকে আবার কিছুদিনের জন্য চলে গেছে দূরের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।
ইতিমধ্যে অনেক সাধারণ মানুষ গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকায় বেড়ে গেছে পুলিশি আতঙ্ক। বেশি দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মুসলিম সমাজ।
নাসিরনগর উপজেলার হরিণবেড় গ্রামের এক হিন্দু যুবক রসরাস দাসের ফেজবুক পেজের একটি পোস্টে পবিত্র কাবাঘরের ওপর শিবমূর্তি স্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা রসরাস দাসকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন গত ৩১ অক্টোবর নাসিরনগর কলেজ মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় কিছু কিশোর-তরুণ হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি মন্দির ও বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। একই দিন মাধবপুর উপজেলা চত্বরেও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত সমাবেশের আয়োজন করে। এ সময় মাধবপুর বাজারে কালীমন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।
তবে হামলার ঘটনার পরপর ঘটনার মূলে সামনে চলে আসে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব। এখন পর্যন্ত নাসিরনগরে ৭৮ জন ও মাধবপুরে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a Reply