ফটিকছড়ি পাবলিক লাইব্রেরী এখন বাসাবাড়ী

নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, ফটিকছড়ি: চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম জেলার বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়ি পাবলিক লাইব্রেরীটি র্দীঘদিন যাবৎ বাসাবাড়ীতে পরিণত হওয়ায় সাধারণ ব্যক্তি, ছাত্র-ছাত্রী জ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগে প্রকাশ, উক্ত লাইব্রেরীর প্রধান প্রবেশ পথে ভিতর থেকে আংটাযুক্ত বন্ধ থাকে এবং যদি বা খোলা থাকে ভিতরে কোন বই পুস্তক পড়ার পরিবেশ নেই। কেননা উক্ত লাইব্রেরীতে কোন লাইব্রেরীয়ান ও কেয়ারটেকার নেই। অথচ উক্ত লাইব্রেরীর ভিতরে ডাক বাংলোর কেয়ার টেকার মো: জাফর তার 1সপরিবার নিয়ে উক্ত লাইব্রেরীর ভিতরে বসবাস করে আসছে। কেউ প্রবেশ করলে, তার পরিবারের সদস্যরা বাধা-আপত্তি সৃষ্টি করে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সূর-চিৎকার ও চেচামেচিতে কোন ব্যক্তি লাইব্রেরীতে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এমনকি উক্ত পরিবারের রান্নাঘরের ধূঁয়ার কারণে লাইব্রেরীর পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। উক্ত মো: জাফর ফটিকছড়ি ডাক-বাংলো কেয়ারটেকার হয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর কেয়ার টেকারের দায়িত্ব পালন করছে বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত লাইব্রেরীর ভিতরে জাফরের স্ত্রীসহ বিভিন্ন পাত্র-পাত্রী দেখিয়ে ঘটককালী ব্যবসায় লিপ্ত বলেও জানা যায়। আরও জানা যায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত জাফর ও তার স্ত্রী উক্ত পাবলিক লাইব্রেরীতে ঘরোয়া পরিবেশে খাবার হোটেল চালু রেখেছে। ফটিকছড়ি ডাক বাংলোতে কোন অতিথি আসলে, উক্ত কেয়ার টেকার জাফর পাবলিক লাইব্রেরীর ভিতরে রান্না করে খাবার পরিবেশন করে থাকে। এই প্রতিনিধি গতকাল দুপুরে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি উক্ত লাইব্রেরীর ভিতরে বসে জাফরের ঘরোয়া তৈরি খাবার খাচ্ছে। উক্ত জাফরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ইউ.এন.ও সাহেবের মেহমান এবং তারা ঢাকা থেকে অডিটর হিসাবে উপজেলা ফটিকছড়ি নির্বাহী কার্যলয়ে অডিট করতে এসেছে। কিন্তু তারা ফটিকছড়ি ডাক-বাংলোতে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও পাবলিক লাইব্রেরীতে খাবার খাচ্ছে কেন? অপর প্রশ্নের জবাবে উক্ত কেয়ার টেকার জাফর বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রধানের নির্দেশে তিনি (জাফর) অতিরিক্ত পাবলিক লাইব্রেরীর দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাহী প্রধানের নাম কি জানতে চাইলে সেই জানে না বলে জানান। বিগত ২০১৩-২০১৪ ইং সনে জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে উক্ত পাবলিক লাইব্রেরীটির পুন:উন্নয়ন বাস্তবায়নে ২.৪৯ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। জেলা পরিষদের জেলা প্রশাসক মো: আবদুচ সালাম পুন:নির্মাণের কাজ শুভ উদ্বোধন করলেও উক্ত কাজে কারচুপি বা অনিয়মের অভিযোগ এলাকাবাসীর। বর্তমানে উক্ত লাইব্রেরীর পিছনে সামান্য পাকা দেওয়াল ভেঙ্গে গেলেও তা পুন:নির্মাণ করা হয়নি বরং পাতলা টিন দিয়ে ঘেঁরাবেড়া দিয়েছে। উল্লেখ্য যে, কোন ব্যক্তি উক্ত লাইব্রেরীতে প্রবেশ করতে গেলে উক্ত কেয়ার টেকার জাফরের স্ত্রী পরিবারের সদস্যরা ফটিকছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকতার অনুমতিপত্র চায়। ফলে সাধারণ মানুষ লাইব্রেরীতে প্রবেশ করতে অক্ষম। এ ব্যাপারে সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave a Reply