ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অভাবনীয় জয় পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সন্দেহাতীত ভাবে এই মুহূর্তে সারা বিশে^ সবচেয়ে বেশি আলোচিত ব্যক্তিও তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্রেট স্টেট বলে পরিচিত পেনসেলভেনিয়া, ফ্লোরিডা, ওহিও এবং আইওয়া রাজ্যেও নিজের করে নিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই জয়ের পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে নানা বিশ্লেষণ।1
মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ৪৭.৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে। অপরদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৭.৫ শতাংশ ভোটার। দশমিক ২ শতাংশ ভোট কম পেলেও ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে জিতে যান ট্রাম্প।
ভোট পরবর্তী জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ডেমোক্রেট দল জনপ্রিয়তা হারিয়েছে দেশটির মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে। এছাড়া দেশটির পুরুষ ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানের সমর্থকের সংখ্যা বেশি।
মার্কিন পুরুষদের ৫৩ শতাংশই ভোট দিয়েছেন ট্রাম্পকে। অপরদিকে ৪১ শতাংশের পছন্দ ছিল হিলারি। বাকি ছয় শতাংশ এদের কাউকেই ভোট দেয়নি।
অপরদিকে ৪২ শতাংশ নারীর ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প। নারীদের মধ্যে হিলারির জনপ্রিয়তা বেশি দেখা যায়। ৫৪ শতাংশ নারী হিলারিকে পছন্দ করেছেন। এছাড়া চার শতাংশ নারী কোন প্রার্থীকেই ভোট দেননি।
এবিসি নিউজের পক্ষে এডিসন রিসার্চ সাড়ে ২৪ হাজার ভোটারের সঙ্গে কথা বলে এই জরিপ তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ স্টেট বলে পরিচিত ফ্লোরিডা। এই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটদের আধিপত্য থাকলেও এবার সেখানে শাসন করবে রিপাবলিকানরা। যদিও জরিপে দেখা গেছে, এই রাজ্যে আসলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বাড়েনি বরং হিলারির জনপ্রিয়তা কমেছে বলেই এই পতন। ২০১২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্রেটের পক্ষে ৫০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানের পক্ষে ৪৯ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিল। কিন্তু ২০১৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানের পক্ষে ৪৯ শতাংশ ভোটার মত দিলেও ডেমোক্রেটের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৮ শতাংশ ভোটার।
এছাড়া ফ্লোরিডাতে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশি দেখা যায়। ৬৫ বছরের বেশি বয়স্কদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ৪৫ শতাংশ ডেমোক্রেটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ৪৫-৬৪ বছর বয়স্কদের মধ্যেও ৫৩ শতাংশ ট্রাম্প এবং ৪৪ শতাংশ ডেমোক্রেটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ৩০-৪৪ বছর বয়সীরা ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে এবং ৫০ শতাংশ ডেমোক্রেটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ১৮-২৯ বছর বয়স্কদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ৫৫ শতাংশ ক্লিনটনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটেলগ্রাউন্ড স্টেট পেনসেলভেনিয়া। ফ্লোরিডা এবং পেনসেলভেনিয়া এই দুই ব্যাটেলগ্রাউন্ডে জয় নিশ্চিত করতে পারলেই হোয়াইট হাউজের দৌড় প্রার্থীর জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। পেনসেলভেনিয়াতে অবশ্য গতবারের চেয়ে এ বছর রিপাবলিকান সমর্থন বেড়েছে এবং ডেমোক্রেট সমর্থন কমেছে। ২০১২ সালে এখানে বারাক ওবামার পক্ষে ভোট পড়েছিল ৫২ শতাংশ, অপরদিকে ২০১৬ সালে হিলারির পক্ষে সমর্থন ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে মিট রমনির প্রতি সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ এবং ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ৪৯ শতাংশ ভোটার।
ট্রাম্পের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান শে^তাঙ্গ গোষ্ঠীর। ৫৮ শতাংশ শে^তাঙ্গ ট্রাম্পের এবং ৩৭ শতাংশ হিলারির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। হিসপ্যানিক এবং এশিয়ানদের ২৯ শতাংশ ট্রাম্প এবং ৬৫ শতাংশ হিলারির পক্ষে রায় দেন। কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের মাত্র আট শতাংশ ভোট পান ট্রাম্প। হিলারি পেয়েছেন ৮৮ শতাংশের সমর্থন। বাকি চার শতাংশ কোন প্রার্থীর পক্ষেই মত দেননি। যদিও ২০১২ সালে ৯৩ শতাংশ কৃষ্ণাই ভোট দিয়েছিলেন ওবামার পক্ষে।
কম শিক্ষিত কিংবা নন-কলেজ গোষ্ঠীর পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা অবাক করার মতো। বিশ^বিদ্যালয়ে যাননি এমন প্রতি দশজনের সাতজন শে^তাঙ্গ পুরুষ ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন। অপরদিকে প্রতি দশজন নারীর ছয়জন ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউজের পাশাপাশি সিনেট এবং হাউজেও আধিপত্য ধরে রেখেছেন রিপাবলিকানরা। সিনেটে ডেমোক্রেট দল পেয়েছে ৪৮টি আসন, অপরদিকে রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ৫১ আসন। সিনেটে জয় লাভের জন্য প্রয়োজন ৫১ ভোট। হাউজে ডেমোক্রেটরা পেয়েছেন ১৯৩ ভোট এবং রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ২৩৯ ভোট। হাউজে জয় লাভের জন্য প্রয়োজন ২১৮ ভোট।

Leave a Reply