বাংলাদেশের সাফল্য তামাকপণ্যে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার সূচকে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৯ নভেম্ববর, বুধবার: কানাডিয়ান ক্যানসার সোসাইটি সারা বিশ্বে তামাকপণ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রদানের অবস্থা নিয়ে তাদের পঞ্চম প্রতিবেদন Cigarette Package Health Warnings: International Status Report, ২০১৬ প্রকাশ 1করেছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান এখন সারাবিশ্বে ৫৭তম। ২০১৪ সালে প্রকাশিত চতুর্থ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১১০তম। প্রতিবেদনে ২০৫টি দেশের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যেখানে ১৫২টি দেশ তামাকপণ্যের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদান করছে। এরমধ্যে বাংলাদেশসহ ১০৫টি দেশ তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে মোড়কের উভয় পার্শ্বের ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ চালু রয়েছে।
প্রতিবেদনে প্রথম স্থানে যৌথভাবে জায়গা করে নিয়েছে নেপাল এবং ভানুয়াতু। এই দুইটি দেশ তামাকপণ্যের মোড়কের উভয় পার্শ্বের ৯০ শতাংশ জায়গাজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী চালু করেছে। ৮৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত এবং থাইল্যান্ড। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান এগিয়ে এলেও দক্ষিণ পূর্ব এশিয় দেশ বিশেষ করে নেপাল, ভারত, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলংকার তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনও অনেক নিচে।2
প্রসঙ্গত, ১৯ মার্চ ২০১৬ থেকে বাংলাদেশে সব তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটার উপরিভাগের ৫০ শতাংশ জায়গাজুড়ে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কিত রঙিন ছবি ও লেখা সম্বলিত স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়নের চিত্র হতাশাজনক। সম্প্রতি এক গবেষণা ফলাফলে দেখা গেছে প্রায় ৭৫ শতাংশ তামাকপণ্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী নেই। অথচ সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী এমন এক কার্যকর পন্থা যা তামাক ব্যবহারের সময় প্রতিবারই ব্যবহারকারীকে তামাকের ক্ষতি সম্পর্কিত বার্তা প্রদান করতে থাকে। বাংলাদেশে এই উদ্যোগটির গুরুত্ব অনেক বেশি কারণ, এদেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ লেখাপড়া জানে না।

Leave a Reply