দোহাজারী-গুনদুম প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৯ নভেম্ববর, বুধবার: দোহাজারী-গুনদুম প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন বলেছেন, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।1
তিনি জানান, প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। এডিবি অর্থায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রকল্পের অধিকাংশ টাকা এডিবি দেবে। তাদের গাইডলাইন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের বিভিন্ন বিভাগের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পটি বহু প্রতিক্ষিত। বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার খুব গুরুত্বের সাথে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পটি ফাস্টট্রেক হিসেবে নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কম সময়ের মধ্যে আমরা এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।এরই অংশ হিসেবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে আসা।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প পরিদর্শনে এসে বুধবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব।
প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করতেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান কাজ হলো ভূমি অধিগ্রহণ। এটি একটি জটিল বিষয়। বিষয়গুলো নিয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।2
প্রকল্পের সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় জড়িত জানিয়ে তিনি বলেন, রেল লাইনের কিছু অংশ সংরক্ষিত বন বিভাগের ভেতর দিয়ে গেছে। যেখানে হাতি চলাচল করে। আমরা কিভাবে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সহাবস্থানের মাধ্যমে পরিবেশের সবচেয়ে কম ক্ষতি করে পরিবেশবান্ধব হিসেবে রেললাইন করতে পারি সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। সভায় বন ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তাদের পরামর্শ গ্রহণ করেছি। প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে আবারও মতবিনিময় করা হবে।
দোহাজারী-গুনদুম প্রকল্পের পরিচালক মাহবুবুল হক বকশী জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আগামী বছরের মার্চের মধ্যে প্রকল্পের জমি হস্তান্তরের আশ্বাস দিয়েছেন।জমি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দুটি বিষয়ে কাজ চলছে। তা হলো- মাঠ পর্যায়ে ভূমি জরিপ ও অধিগ্রহণ এবং টেন্ডারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ।
১২৮ কিলোমিটারের দোহাজারী-গুনদুম প্রকল্পের কাজ দুই ধাপে বাস্তবায়ন হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রথম ধাপে দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। রামু থেকে গুনদুম পর্যন্ত করা হবে পরের ধাপে। প্রথম ধাপে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪২টা ব্রিজ ও কালভার্ট এবং ৯টা স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিবেশের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকায় সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর বিষয় হলো সংরক্ষিত বন এলাকায় হাতি চলাচলের ৫টি স্থায়ী এবং ৬টি মৌসুমি স্থান রয়েছে।
তিনি বলেন, এই জায়গাগুলো আমরা চিহ্নিত করবো। এখানে আন্ডার পাস বা ওভার পাস করে যাতে হাতি চলাচলের সমস্যা না হয় সে ব্যবস্থা করবো। প্রকল্প শুরুর আগেই ২ লাখ গাছ লাগানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকায় আমরা সব গাছ কাটবো না। কেবল ৩২ ফুটের মধ্যে যে গাছ পড়বে সেগুলোই কাটবো।
সভায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক জানান, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও জনবল সংকটের কারণে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। এ বিষয়ে সমাধানের আশ্বাস দেন রেল সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আহমেদ মোর্শেদ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মো. মাসুদ করিম, সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোমিনুর রশিদ আমিন, শঙ্কর রঞ্জন সাহা, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম গোলাম মওলা, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) দৌলতুজ্জামান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply