৯ সরকারি স্কুলে ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণিতে আসন ৩ হাজার ৬১৮টি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ নভেম্ববর, মঙ্গলবার: মহানগরীর নয় সরকারি স্কুলে এবার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হলে এক শিক্ষার্থী দুই দফায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। আর গত বছরের ন্যায় জেলা প্রশাসনের অধীনে সেই পুরনো পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র একদফা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। 1
সেক্ষেত্রে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সরকারি স্কুলগুলোতে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা কোন পদ্ধতিতে নেওয়া হবে, মাউশির সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।
তবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা ক্লাস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে। তারা বলছেন, ক্লাস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা দুই দফায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে।
এবছর মহানগরীর নয় সরকারি স্কুলে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ৩ হাজার ৬১৮ আসনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে ১৯৭৩টি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৬২৫টি, সপ্তম শ্রেণিতে ৮০টি, অষ্টম শ্রেণিতে ২০৫টি, নবম শ্রেণিতে ৭৩৫টি আসন রয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন জানিয়ে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, মহানগরীর নয় সরকারি স্কুলে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির সাড়ে তিন হাজারোধিক আসনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। ক্লাস্টার পদ্ধতিতে হবে নাকি গতবছরের ন্যায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে যেই সিদ্ধান্ত আসে, সেই পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণির ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিবে। অপরদিকে অষ্টম শ্রেণির জেএসসি/জেডিসির ফলাফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ফলাফল দেওয়া হবে। অনলাইনের মাধ্যমে আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তিচ্ছুরা আবেদন করতে পারবে। এবারও ভর্তির আবেদন ফি বাবদ দেড়শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবার ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের মাধ্যমে এ ফি নেওয়ার কথাবার্তা চলছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিগগিরই ভর্তি সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে জেলা প্রশাসন। তখন বিস্তারিত সবকিছু জানা যাবে বলেও জানান তিনি।
এডভোকেট মাহতাব হোসেন নামে ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা যদি ক্লাস্টার পদ্ধতিতে করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। কেননা, প্রত্যেক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী দুই দফায় পরীক্ষা দিতে পারবে। এক্ষেত্রে কোন শিক্ষার্থী যদি একবার পরীক্ষা দিয়ে কোন কারণে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়, সেক্ষেত্রে ওই শিক্ষার্থী অন্য আরেক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিতে পারবে। তাই ক্লাস্টার পদ্ধতিতে সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সচিব সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক হেনরী বলেন, ক্লাস্টার পদ্ধতিতে হবে নাকি গতবারের ন্যায় পরীক্ষা হবে সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। তবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুতি চলছে। মাউশি যে সিদ্ধান্ত দিবে সে অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ আসন্ন ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে মহানগরীর নয় সরকারি স্কুলের প্রধানদের নিয়ে সভা করেছেন।
ভর্তি পরীক্ষায় এবার যদি ক্লাস্টার পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা একই শ্রেণিতে (পঞ্চম থেকে অষ্টম) দুই দফায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এক্ষেত্রে মহানগরীর নয় সরকারি স্কুলগুলোকে ছাত্র ও ছাত্রী দুই ক্লাস্টারে ভাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে। একটি ক্লাস্টারের জন্য একবার পরীক্ষা নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে দুই ক্লাস্টারে প্রত্যেক্ষ শিক্ষার্থী দুই দফায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
ছাত্রদের জন্য সরকারি কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে একটি ক্লাস্টারে ভাগ করা হবে। আর সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে আরেকটি ক্লাস্টারে ভাগ করা হবে।
অন্যদিকে, ছাত্রীদের জন্য ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে একটি ক্লাস্টার। আর চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়কে আরেকটি ক্লাস্টারে ভাগ করা হবে।
তবে এবছর সম্মিলিতভাবে ক্লাস্টার পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যেকোন সময় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করবে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন।
কোন স্কুলে কত আসন :
মহানগরীর নয় সরকারি স্কুলে এবার পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণিতে আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৬১৮টি। যা গতবছর ছিল ৩ হাজার ৫৫৬টি।
ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবছর শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির ৩২০ আসনে ছাত্রী ভর্তির সুযোগ রয়েছে।
কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজে শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির ৩২০ আসন ও নবম শ্রেণির ১৪০ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ১৭৩ আসনে, ষষ্ঠ শ্রেণির ১৬০ আসনে ও নবম শ্রেণির ১৪০ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এই স্কুলে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না।
নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ১৬০ আসনে, ষষ্ঠ শ্রেণির ১৮০ আসনে, অষ্টম শ্রেণির ৭০ আসনে ও নবম শ্রেণির ১৫০ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না।
চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ২৪০ আসনে, অষ্টম শ্রেণির ৮০ আসনে ও নবম শ্রেণির ৮০ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এই স্কুলে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না।
চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ১৬০ আসনে, ষষ্ঠ শ্রেণির ১০০ আসনে ও নবম শ্রেণির ৪৫ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এই স্কুলে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না।
হাজী মুহাম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ১৬০ আসনে, ষষ্ঠ শ্রেণির ৩০ আসনে, সপ্তম শ্রেণির ২০ আসনে ও নবম শ্রেণির ৪০ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এই স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না।
বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির মোট ২০০ (ছাত্র ১০০ ও ছাত্রী ১০০) আসনে, ষষ্ঠ শ্রেণির ১৫৫ (ছাত্র ১১০ ও ছাত্রী ৪৫) আসনে, সপ্তম শ্রেণির ৬০ (ছাত্র ৩০ ও ছাত্রী ৩০) আসনে, অষ্টম শ্রেণির ৫৫ (ছাত্র ৪০ ও ছাত্রী ১৫) আসনে ও নবম শ্রেণির ৮০ (ছাত্র ৪০ ও ছাত্রী ৪০) আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
ৎসিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণির ২৪০ আসনে ও নবম শ্রেণির ৬০ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ স্কুলে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না।

Leave a Reply