বুনো বালিহাঁস বাড়ি বাড়ি আতিথ্য নেয়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ নভেম্ববর, মঙ্গলবার: কবুতর তো ঘরবাড়িতেই ঘুরে বেড়ায়। বুনো শালিক, ময়না কিংবা টিয়ে পাখি মানুষের পোষ মানে এটাও জানা সবার। তবে তাদের আটকে রাখতে হয় খাঁচায়। কিন্তু বনের পাখি একবার উড়ে গেলে ফেরত আসে এমনটা বিরল বলা যায়। ঠাকুরগাওঁয়ে এমনটাই ঘটছে। যতœ ও মমতায় বুনো বালিহাঁস এখন এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘোরে অতিথির মতো। নদীতে ডোবাডুুবি শেষে আবার ফিরে আসে ঘরে।1
বছর দেড়েক আগের আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের এক সন্ধ্যার ঘটনা। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের দাপট শুরু হলে সদর উপজেলার কহরপাড়া গ্রামের এবাদুলের ঘরে এসে হাজির হয় দুটি বালিহাঁস। সঙ্গে আরো দুই-চার দিন বয়সের ১৬টি ছানা।
এবাদুল বুঝতে পারেন বৈরী আবহাওয়ার কারণে বুনো পাখিগুলো টাঙ্গন নদী ছেড়ে তার বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটে এসেছে। এবাদুল গভীর মমতায় বালিহাঁসগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করেন।
ঝড় থামলে কিংবা পরদিন সকালেও পাখিগুলো উড়ে না গিয়ে ছানাদের নিয়ে ঘরের কোনে চুপটি মেরে থাকে। এবাদুল বালিহাঁসগুলোর জন্য বাজার থেকে ছোট মাছ কিনে এনে খেতে দেন, যেন আত্মীয় এসেছে ঘরে। হাঁসগুলো তৃপ্তিভরে মাছ খায়।
এবাদুল ভেবেছিলেন খেয়েদেয়ে দিনের বেলা কোনো একসময় হয়তো চলে যাবে হাঁসগুলো। কিন্তু তা হলো না। ছানাদের নিয়ে হাসঁগুলো থেকে যায় এবাদুলের বাড়িতে।
অগত্যা বাড়ির এক কোণায় পাখিগুলোর জন্য অভয়াশ্রম হিসেবে একটি ঘর তোলেন এবাদুল। কুকুর, বনবেড়ালসহ অন্যান্য হিং¯্র প্রাণীর হাত থেকে রক্ষার জন্য চারদিকে টেনে দেন জালের ঘের।
এরপর কেটে গেছে প্রায় দেড় বছর। এখন পাখির সংখ্যা পাঁচটি। শিকারির লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে আর রোগে-শোকে কমে গেছে ১৩টি পাখি।
পাখিগুলো মাঝে মাঝে উড়ে যায় পাশের টাঙ্গন নদীতে। আবার সন্ধ্যায় হাঁস-মুরগির মতো ফিরে আসে ঘরে। নদীতে বুনো বালিহাঁসের ঝাঁকের সঙ্গে মিশে গেলেও এবাদুরের বাড়িতে ফিরে আসতে ভোলে না হাঁসগুলো।
আবার কখনো কখনো প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় হাঁসগুলো। প্রতিবেশী শিশু-বৃদ্ধ সবাই তাদের খেতে দেয়, যতœ করে যেন আত্মীয় এসেছে বেড়াতে। নদীতে গেলে কোনো শিকারি যাতে পাখিগুলোর ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য গ্রামবাসী নজর রাখে।
দুলাল হোসেন নামের একজন প্রতিবেশী জানান, গ্রামের সবাই এবাদুলের হাঁসগুলোর প্রতি ভালো ব্যবহার করে। কেউ তাদের আঘাত করে না। বরং সবাই কিছু না কিছু খেতে দেয় ওদের। অনেকে নদী থেকে মাছ কিংবা শামুক এনে খেতে দেয় পাখিগুলোকে।
স্কুলছাত্র লিটন জানায়, পাখিগুলো গ্রামের মানুষের মধ্যে মমতা-সহমর্মিতা জাগিয়ে তুলেছে। গ্রামের সবাই এখন পাখিগুলোর নিরাপত্তা ও যতেœর প্রতি আন্তরিক।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, মানুষের মমতা ও অনুকূল আচরণ পেলে বুনো পাখি গৃহপালিত প্রাণীতে পরিণত হতে পারে। এবাদুলের বাড়িতে সেটাই হয়েছে। পাখির প্রতি সবারই আন্তরিক হওয়া উচিত।

Leave a Reply