বাংলাদেশের পোশাকের গুণগত মান ভালো হওয়ায় মাইকেল শেরপের প্রশংসা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ নভেম্ববর, মঙ্গলবার: দামে কম হওয়ার পরও বাংলাদেশের পোশাকের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর প্রশংসা করেছেন পোশাক শিল্পের বড় প্রদর্শনীগুলোর অন্যতম সংগঠক মাইকেল শেরপে। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রশংসা করেন।1
শেরপে বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিক সস্তায় পাওয়া যায়। ফলে এখানের পণ্যের দাম কম হয়। তবুও পণ্যের মান ভালো থাকে। তাই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ব্যাপক চাহিদা বলে জানান তিনি।
মাইকেল শেরপে হলেন-তৈরি পোশাক, ফ্যাশন এবং বস্ত্র শিল্পখাতে প্যারিসের বিখ্যাত দুই প্রদর্শনী ‘টেক্সওয়ার্ল্ড’ও ‘অ্যাপারেল সোর্সিং’র আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।
শেরপে বলেন, বিশ্ববাজারে কেবল পণ্যের দামই দেখে না। ক্রেতা এখন পণ্যের উপস্থাপন, পণ্যের সহজলভ্যতা এবং মান সম্পর্কে খেয়াল রাখেন। আর বাংলাদেশের পণ্যের দাম কম ও মানেও ভালো।
শেরপে গতকাল রবিবার বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। পরে তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেইএমই)এর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) মোহম্মাদ নাসির এবং বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মাফরুহা সুলতানারসহ তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন । একইসঙ্গে বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেন।
টেক্সওয়ার্ল্ড ও অ্যাপারেল সোর্সিং বছরে দুইবার অনুষ্ঠিত হয় প্যারিসে। তৈরি পোশাক, ফ্যাশন এবং বস্ত্রশিল্প খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনী এটি। এ প্রদর্শনীতে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, তুরস্ক ও ইতালি থেকে ক্রেতারা আসেন।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় তৈরি পোশাক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ রয়েছে। গত প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ থেকে টেক্সওয়ার্ল্ড ও অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিসে ৩০টিরও বেশি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি) একটি প্যাভিলিয়নের আয়োজন করেছে। সেখানে স্বল্প সংখ্যক স্টল এখনও খালি রয়েছে। যা ২৪৫.০০০ টাকায় নেয়া যাবে।
ইপিবি গত তিন বছর ধরে প্যারিসের প্রদর্শনীতে প্যাভিলিয়ন দিয়ে আসছে। মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট গ্রুপের নেটওয়ার্কে প্রায় ৩০ টি সাবসিডিয়ারি এবং প্রায় ৫৫ জন আন্তর্জাতিক সেলস পার্টনার আছে। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি স্থানে এখন পর্যন্ত ইভেন্টের আয়োজন করেছে মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট।
২০১৫ সালেই মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট ১৩৩টিরও বেশি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে। মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট একটি জন মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। যার ৬০ শতাংশ আছে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের নামে আর বাকি ৪০ শতাংশ হেস রাজ্যের মালিকানায়।
সংবাদ সম্মেলনে মেসে ফ্রাঙ্কফুর্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওমর সালাহউদ্দিন, মিসেস নাজনীন সালাহউদ্দিন এবং রুমানা আফরোজ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply