বর্জন করুন কোমল পানীয়

অধ্যাপক মুনিরউদ্দিন আহমেদ: সারা বিশ্বে কোমল পানীয়র তাণ্ডব চলছে। আমেরিকানরা প্রতি বছর ২০ বিলিয়ন গ্যালন সোডা বা গড়ে ৮০০ বোতল কোমল পানীয় পান করে। বাংলাদেশের মানুষও কোমল পানীয় (কোক, পেপসি, সেভেন আপ ইত্যাদি) পানে কম যায় না। কি আছে এসব পানীয়তে? কত খারাপ ও ক্ষতিকর এসব পানীয়? আমরা বেশি কিছু জানি না। জানলে অবশ্যই এসব পানীয় মানুষ পান করত না। বলি শুনুন। ৩৫৫ মিলি কোমল পানীয়তে রয়েছে ১২ চামচ চিনি বা ক্ষতিকর উচ্চ মাত্রার ফ্রুকটোজ কর্ণ সিরাপ। এই সিরাপ তৈরি হয় জেনেটিক্যালি মডিফাইড শস্য থেকে যা স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে তুমুল বিতর্ক রয়েছে।1
মাত্রাতিরিক্ত চিনি হার্টের রক্তনালিতে প্রবাহ সৃষ্টি করে যা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ। রয়েছে ফসফোরিক অ্যাসিড যা পানীয়র পিএইচকে ৩.২ তে নামিয়ে আনে এবং প্রচণ্ড অ্যাসিডিক এই পিএইচ শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। ফসফোরিক অ্যাসিড না থাকলে যে পরিমাণ চিনি পানীয়র মাধ্যমে আমরা গ্রহণ করি তা বমি হয়ে যেত। কোমল পানীয়তে শিশুর দাঁত রাখলে তা দুয়েক দিনে গলে যায়।
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ কোমল পানীয় পান করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়। ৬ লাখ মানুষের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে বলা হয়, অতিরিক্ত চিনি, ফসফোরিক অ্যাসিড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট, কেরামেল রং, ক্যাফেইন ও আরো অসংখ্য অজানা উপকরণসমৃদ্ধ কোমল পানীয় পান করে প্রতি বছর এক লাখ ৩১ হাজার মানুষ ডায়াবিটিস, ৪৫ হাজার হার্ট অ্যাটাক এবং সাড়ে ছয় হাজার ক্যান্সারে মারা যায়।
কোমল পানীয় পান করে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ওজন বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শিশু ও বয়স্ক মানুষের মধ্যেও ওজন বাড়ার প্রবণতা মারাত্মক হয়ে দেখা দিয়েছে। উচ্চ মাত্রার ক্যাফেইন স্নায়ু উত্তেজক যা ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি করে। ক্যাফেইন রক্তচাপ ও আসক্তি বাড়ায়। শিশুদের কোমল পানীয় পান থেকে বিরত রাখুন। কোমল পানীয় শিশুদের দাঁত নষ্ট ও শরীরের ক্ষতি করে। কোমল পানীয় অনেক ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস বা ধ্বংস করে। টিনজাত কোমল পানীয় ভয়ংকর। কারণ, টিনের ভেতরের দেয়ালে থাকে বিসফেনল যা ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
অ্যাসপারটেমসমৃদ্ধ জিরো ক্যালরির কোমল পানীয় আরো খারাপ। অ্যাসপারটেমসমৃদ্ধ কোমল পানীয় ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। অনেকেই কমোড ও বেসিনের দাগ তোলার জন্য ডিটারজেন্ট হিসেবে কোক-পেপসি ব্যবহার করে। আরো বিস্তারিত জানতে আল্লাহর নাম নিয়ে আমার পরবর্তী প্রবন্ধের জন্য অপেক্ষা করুন। কোমল পানীয় বর্জন করুন, প্রচুর পানি পান করুন। আপনারা সুস্থ থাকুন।
লেখক:ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি অ্যান্ড ফার্মাকোলেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply