মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল আ.লীগে শূন্যতা পূরণে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৭ নভেম্ববর, সোমবার: পবিত্র হজ, তাবলিগ জামায়াত ও প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্যের দায়ে মন্ত্রিত্ব হারান সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর টাঙ্গাইল জেলা প্রথমবারের মতো মন্ত্রিশূন্য হয়। প্রায় আট মাস পর সেটা পূরণ হয় তারানা হালিম ডাক, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে।1
টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র শহিদুর রহমান খান মুক্তির শূন্যতা পূরণ করেছেন মুরাদ সিদ্দিকীর সহযোগী জামিলুর রহমান মিরন। ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে শহিদুর রহমান মুক্তির আত্মগোপনের পর জামিলুর রহমান মিরন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে টাঙ্গাইল সদর পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।
ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা এখন জেলে। সেখানে আলোচনা হচ্ছে লতিফ সিদ্দিকী ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ভাই মুরাদ সিদ্দিকীকে নিয়ে। গুঞ্জন উঠছে তিনি শিগগিরই আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন।
গত ২৯ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাককে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের সমর্থকদের নিয়ে হাজির হন মুরাদ সিদ্দিকী। এরপর থেকে তার আওয়ামী লীগে যোগদান নিয়ে গুঞ্জন চলছে।
কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ ছেড়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করলে ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী তাতে যোগ দেন। ২০০১ ও ২০০৮ সালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনও করেন তিনি। ২০০৮ সালে কৃষক তিনি শ্রমিক জনতা লীগ ছেড়ে দেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন মুরাদ সিদ্দিকী।
আব্দুর রাজ্জাকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুরাদ সিদ্দিকীকে দেখা গেছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে প্রথম সারির আসনে বসতে। জেলা আওয়ামী লীগের সূত্রে জানা যায়, যেকোনো সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করতে পারেন। ৪ নভেম্বর তাকে দেখা গেছে জেলা আওয়ামী লীগের অফিসে সময় দিতে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বেড়ে উঠেছি। মাঝখানে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে কৃষক শ্রমিক দলে গিয়েছিলাম।’ এখন আবার আওয়ামী লীগে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ‘মুরাদ সিদ্দিকী আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। দলীয় সভানেত্রীর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ের মন্ত্রিসভায় টাঙ্গাইলের ১৪ জন রাজনীতিক ২১টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা টাঙ্গাইলের আব্দুল মান্নান বঙ্গবন্ধুর প্রথম মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে মোস্তাকের সময়েও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে ১৯৯৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ছেলে আবুল হাসান চৌধুরী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০৮ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, আর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার তৃতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায় টাঙ্গাইলের একমাত্র আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণের আট মাস পর তারানা হালিম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিত্ব হারানোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী থেকেও বাদ পড়েছিলেন। টাঙ্গাইল থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যপদটি পূরণ করলেন ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। দলের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

Leave a Reply