নাসিরনগরের হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা: জেলা প্রশাসক

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৭ নভেম্ববর, সোমবার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুল হক। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদেরকে এসব কথা বলেন।1
এই পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ঢেউটিন বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। এর বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত কেউ থাকলে তাকেও সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
গত ৩০ অক্টোবর ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার কথিত ছবি প্রকাশের কথা প্রচার করে নাসিরনগরে ১৫টি হিন্দু মন্দির ও শতাধিক বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা করে দুর্বৃত্তরা। মন্দিরের মূর্তি ভাঙার পাশাপাশি বাড়িঘরও লুট করে তারা। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি কেউ। হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত প্রায় সব রাজনৈতিক দলও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সরকারি দল আওয়ামী লীগও দুর্বৃত্তদের বিচারের দাবি জানায়।
ঘটনার পর পর ওই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করে প্রশাসন। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি। তবে এর মধ্যেও গত শুক্রবার ভোরে ছয়টি হিন্দু বাড়িতে আগুন লাগে। এই ঘটনায় ওই এলাকায় বসবাসকারী হিন্দুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক বলছেন, ‘পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন সেখারে পাঁচশর মতো পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার, দফাদার সবাই আছেন। জেলা প্রশাসন থেকেও প্রতিনিয়ত লোকজন আসছে। এসব ঘটনায় সবার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আগের চেয়ে বেড়েছে।’
নাসিরনগর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা দাবি করে রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘এই একটি হামলার ঘটনায় নাসিরনগরকে বিবেচনা করা যাবে না। এখানে সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করছে। গত দুর্গাপূজার সময়ও আপনারা এসেছেন, এখানে উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই আনন্দ করেছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদেরকে আগেই আর্থিক সাহায্য করেছি আমরা। আমাদের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন থেকে সহায়তা করা হয়েছে। তাদেরকে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতেও সহায়তা করা হবে।’
জেলা প্রশাসন এই এলাকার মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর আছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি এখন পরীক্ষা কেন্দ্রে (জেএসসি) যাবো। সেখানে এই এলাকা থেকে যারা পরীক্ষা দিচ্ছে, তাদের খোঁজ খবর নেবো।’

Leave a Reply