কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় ২ শতাধিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৭ নভেম্ববর, সোমবার: কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় দুই শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও মেরামতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদর।0
এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মেরামত কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ না হলে দুর্ঘটনাসহ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাা করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের বড় মহিষমুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের মধ্যে একটি ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এক মাস ধরে ফাটলের পাশাপাশি পলেস্তার খসে পড়ছে। এরই মধ্যে ভবনের ছাদের দুটি বিম ধসে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ভবনে অবস্থিত পঞ্চম ও শিশু শ্রেণি, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ বন্ধ করে দেয়া হয়। খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদানসহ পঞ্চ শ্রেণির সমাপনী মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।0
বড় মহিষমুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিয়া আক্তারের ভাষ্য, ‘আমাদের ক্লাস রুমের ছাদ খসে পড়ছে। আমরা ভয়ে ক্লাসে ঢুকতে পারি না। এ জন্য স্যারেরা আমাদের মাঠের মধ্যে ক্লাস নেন।’ একই ক্লাসের রনি কুমার বিশ্বাস জানায়, ক্লাস রুমের বাইরে ক্লাস করা ও পরীক্ষা দিতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে। ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক রাহেনা বেগম জানান, বাচ্চাকে স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কখন বিল্ডিং ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এ জন্য স্কুলে এসে বাচ্চার খোঁজ নিয়ে যান তিনি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আখের আলী জানান, দুটি ভবনের মধ্যে একটি ভবনের দুটি বিম ও পলেস্তারা খসে পড়তে থাকায় অফিস রুম ও ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে স্কুল মাঠের গাছতলায় ১ মাস ধরে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্লাস রুম ও অফিস রুমের ব্যবস্থা করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি।
বড় মহিষমুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফজলুল রাব্বী জানান, যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় ভবনটিতে ক্লাস ও অফিস রুমের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে ১৮৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য একটি ভবনে ক্লাস নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে লিখিত জানিয়েছি।’
রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের মজিরন নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের একটি মাত্র একতলা ভবন। সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, জেলার ৯ উপজেলায় মোট ১২১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি উপজেলার ১৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে তালিকায় উলিপুরের বড় মহিষমুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজারহাট উপজেলার মজিরন নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাম নেই।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এনামুল হক জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে উলিপুর উপজেলার ৩৫টি, সদরের ৩টি, নাগেশ্বরীর ২৯টি, ফুলবাড়ীর ১০টি, ভুরুঙ্গামারীর ২৯টি, রাজারহাটের ১২টি ও রৌমারী উপজেলার ২১টিসহ মোট ১৩৯টি বিদ্যালয়ের তালিকা পেয়েছেন তারা। শুধু চিলমারী ও রাজিবপুর উপজেলার তালিকা পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, ‘আমরা এসব বিদ্যালয়ের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়েছি গত ১৩ অক্টোবর। তবে এখনো এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি।’

Leave a Reply