হাজীদের সম্মাননা জানানোর উদ্দেশ্যে তা’লীমুল কুরআন কমপ্লেক্সের সংবর্ধনা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৬ নভেম্ববর, রবিবার: পবিত্র হজব্রত পালন শেষে স্বদেশ ফেরত আল্লাহর মেহমান হাজীদের সম্মাননা জানানোর উদ্দেশ্যে তা’লীমুল কুরআন কমপ্লেক্সের উদ্যোগে গতকাল ৫segun নভেম্বর শনিবার বিকেল ৪ টায় সেগুনবাগান তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অত্র মাদ্রাসার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ তৈয়্যব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফীন, পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার পিপিএম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সফর আলী, চসিক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আরব বাংলাদেশ ওভারসীজ এন্ড হজ্ব গ্র“পের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু তাহের, অধ্যাপক এম.এ বারী ফারুকী, শ্রমিক নেতা কামালুদ্দীন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়র হুমায়ুন কবীর পাটোয়ারী, ব্যাংকার আলহাজ্ব হাবীবুর রহমান, মক্কা মোকাররমা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ সালাহউদ্দিন, শোহাদায়ে বদর হজ কাফেলার চেয়ারম্যান মাওলানা যাকারিয়া খালেদ, মাদরাসা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী এম.এ জাহের, সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোস্তাফা, ১৩নং পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মোঃ কায়সার মালিক, আলহাজ্ব নুর আহমদ, আলহাজ্ব হায়দার হোসেন বাদল, ছৈয়দ মোঃ মুনিরুল আলম, মাওলানা মুফতি আবদুল ওয়াহাব, ইকাবের চেয়ারম্যান নূর হোসেন, সেগুনবাগান তা’লীমুল কুরআন মাদ্রাসার মুফতি আবদুল হক, এম এ বারেক কাদেরী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ইসলামের পাঁচটি রুকুনের মধ্যে হজ অন্যতম। হজ মানুষের প্রতি মহান আল্লাহ কর্তৃক ফরজকৃত একটি আর্থ-দৈহিক ইবাদত- যা সক্ষম ব্যক্তির ওপর সারা জীবনে কেবল একবারই ফরজ। হজ কবুল হওয়ার জন্য হালাল সম্পদ থাকা বাঞ্ছনীয়। অন্যথায় তা কবুল হবে না। কেননা নবী সা: বলেছেন, ‘আল্লাহ পূতঃপবিত্র। তিনি পবিত্র সম্পদ ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না।’ অপর এক হাদিসে আছে, ‘যখন কোনো ব্যক্তি হালাল সম্পদ নিয়ে হজের উদ্দেশ্যে বের হয়, অতঃপর বাহনে আরোহণ করে বলেন, ‘লাব্বায়িক আলাহুম্মা লাব্বায়িক’ তখন আসমান থেকে জবাব আসে, ‘হজের উদ্দেশ্যে তোমার বের হওয়া ও হজের উদ্দেশ্যে আগমন মঞ্জুর, তোমার সৌভাগ্যের দ্বার উদঘাটিত, তোমার পাথেয় হালাল, তোমার বাহন হালাল, তোমার হজ কবুল ও ত্র“টিমুক্ত ঘোষণা করলাম।’
বক্তারা বলেন, জীবনে একবার হজ করা ফরজ। মহান আল্লাহ হজ ফরজ হওয়া সম্পর্কে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যার সেখানে (মাসজিদুল হারামে) যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওই ঘরের হজ করা তার অবশ্য কর্তব্য। আর যে প্রত্যাখ্যান করবে সে জেনে নিক, নিশ্চয় আল্লাহ বিশ্ববাসীর মুখাপেক্ষী নন’ (সূরা আলে ইমরান : ৯৭)। যে কোন সৎআমল করার পর আমাদের নিকট যে বিষয়টি মূখ্য হয়ে দাঁড়ায় তা হলো: আমল কবূলের বিষয়; কবূল হলো কি হলো না।
বক্তারা আরো বলেন, নিশ্চয়ই সৎআমল করতে পারা বড় একটি নেয়ামত; কিন্তু অন্য একটি নেয়ামত ব্যতীত তা পূর্ণ হয় না, যা তার চেয়ে বড়, তা হলো কবূলের নিয়ামত। এটি নিশ্চিত যে হজের পর এত কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে তা যদি কবূল না হয়, তবে অবশ্যই এক মহা বিপদ। এর চেয়ে আর বড় ক্ষতি কি রয়েছে যদি আমলটি প্রত্যাখ্যাত হয়। আর দুনিয়া আখেরাতের স্পষ্ট ক্ষতিতে প্রত্যাবর্তন করে?
বক্তারা আরো বলেন, বান্দা যেহেতু জানে, অনেক আমলই রয়েছে যা বিভিন্ন কারণে গ্রহণযোগ্য হয় না। অতএব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমল কবূলের কারণ ও উপায় সম্পর্কে জানা। যদি কারণগুলি তার মধ্যে বিদ্যমান থাকে, তবে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এবং ক্রমাগত তার উপর অটল থাকে ও আমল করে যায়। আর যদি তা বিদ্যমান না পায় তবে এ মুহূর্তেই যে বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে তা হলো: ইখলাসের সাথে সেগুলোর মাধ্যমে আমল করায় সচেষ্ট হওয়া।
বক্তারা আরো বলেন, আল্লাহর মেহমান হিসাবে হাজী সাহেবেরা আল্লাহর সান্নিধ্যে এবং আল্লাহর হাবীব মুহাম্মদ (সা.)-এর সরাসরি সান্নিধ্য লাভের সুযোগ লাভ করে। এটা মোমিন জীবনের এক দুর্লভ সুযোগ। এই দুর্লভ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে। হজ্ব এবং উমরাকারীগণ হচ্ছেন আল্লাহর মেহমান। বক্তারা বলেন, হজ্ব ইসলামের বুনিয়াদী ইবাদত, ইসলামের প্রতিভূ পর্যায়ের যে সব ইবাদতের রূপরেখা কুরআনে বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে হজ্ব এ জাতীয় ইবাদতের সর্বশেষ বিধান।

Leave a Reply