মার্কিন নির্বাচনের গতি-প্রকৃতির খবর আলোচনার তুঙ্গে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৬ নভেম্ববর, রবিবার: মার্কিন নির্বাচনের গতি-প্রকৃতির খবর এখন আলোচনায় তুঙ্গে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন মহলে গুরুত্ব দিয়ে আলোচিত হচ্ছে নতুন সরকারের আমলে কেমন হবে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি। কারণ বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর এই দেশটির পররাষ্ট্র নীতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে ছোট-বড় সকল রাষ্ট্র। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি প্রায় সব দেশেই প্রভাব ফেলে।0
ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন মার্কিন সিনেটার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে তার কার্যকালে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বেশ কট্টরপন্থী বলে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি ইরাক যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। যদিও এখন তিনি আগের অবস্থানের জন্য অনুশোচনায় ভোগেন বলে দাবি করেন।
অপরদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাক যুদ্ধের এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, শুরু থেকেই তিনি ইরাক যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন, যদিও তার এই বক্তব্যের সমর্থনে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি।
ওবামা প্রশাসনের মধ্যে যারা লিবিয়ায় মার্কিন বিমান হামলার পক্ষে তদবির করেছিলেন ক্লিনটন তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছেন। সিরিয়ায় কথিত ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষেও কাজ করেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বিমান চলাচল নিষিদ্ধ এলাকা জারি করা এবং সিরীয় বিদ্রোহীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া। তবে তিনি সিরিয়ায় স্থল সৈন্য মোতায়েনের বিপক্ষে এবং কুর্দী পেশমের্গা যোদ্ধাদের সশস্ত্র অভিযানে সমর্থন দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প আইএস দমনে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন এবং কোনো কোনো সময় এমন কথাও বলেছেন যে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক হাজার স্থল সেনা পাঠানো উচিত। মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাস মোকাবেলায় ন্যাটোর আরও ভূমিকা রাখা উচিত। কারণ ন্যাটো জোটের ব্যয়ের একটা বড় অংশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য জোটের সদস্যদের নিজেদের নিরাপত্তায় আরও অর্থ ব্যয় করা উচিত।
আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে ছিলেন হিলারি। ন্যাটোয় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকেও সমর্থন করেন তিনি। ক্লিনটন মনে করেন ন্যাটো জোটে থাকাটা ইউরোপীয় মিত্রদের হাত শক্ত করার এবং রুশ শক্তির বিরোধিতার জন্য প্রয়োজন।
ট্রাম্প রুশ নেতা ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমেরিকা ইউরোপ আর এশিয়ায় মিত্র অবশ্যই চায়। কিন্তু এসব দেশকে এই জোটে থাকার জন্য তাদের জাতীয় বাজেট থেকে অর্থের ভাগ দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিতে সবসময়েই নিজেদের স্বার্থকে সবার উপরে রাখতে হবে।

Leave a Reply