চট্টগ্রামে সোনার বার ছিনতাই দেড় কোটি টাকার

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৬ নভেম্ববর, রবিবার: চট্টগ্রাম নগরীতে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে একজনের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকার ২৭টি1 সোনার বার ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৫ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের অদূরে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় নগরীর পতেঙ্গা থানা পুলিশ রোববার মাসুদ নামে একজনকে আটক করেছে।
নগরীর পতেঙ্গা থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ বলেন, ২৭টি সোনার বার ছিনতাইয়ের একটি অভিযোগ পেয়েছি। মাসুদ নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। সূত্রমতে, শনিবার সন্ধ্যায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ওমানপ্রবাসী হাটহাজারীর এক ব্যক্তি সোনার বারগুলো নিয়ে আসেন। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাহক মাসুদের কাছে সেগুলো হস্তান্তর করেন তিনি।
শনিবার রাত ৮টার দিকে মাসুদ সোনার বারগুলো নিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে নেভাল রোডে আসার পর ডিবির টিম পরিচয় দিয়ে কয়েকজন একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাসে থেকে নেমে তাকে প্রথমে ঘিরে ধরে। এরপর তাকে জোর করে ওই মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের দিকে আনুমানিক আধা কিলোমিটার গিয়ে সোনার বারগুলো কেড়ে নিয়ে তাকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মাসুদকে মাইক্রোবাসে তোলার সময় সেখানে কয়েকজন স্থানীয় লোক বিষয়টি দেখতে পান। তবে পুলিশ অপরাধীকে আটক করছে ভেবে এসময় তারা নিশ্চুপ থাকেন। ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত মাইক্রোবাসের নম্বর চট্টমেট্রো-১১-৬২৬৫।
কিন্তু ঘটনার পর নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনের একটি টিম বিমানবন্দর এলাকায় ছিনতাই করেছে বলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে খবর পৌঁছে। এতে তোলপাড় সৃষ্টি হয় সিএমপির কর্মকর্তাদের মধ্যে।
জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (বন্দর) মো. মারুফ হাসান বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ঘটনার সময় বিমানবন্দর এলাকায় আমাদের কোন টিম ছিল না। এরপরও বিষয়টি আমরা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।
‘এমনও তো হতে পারে, স্বর্ণের বারের মূল মালিক যাকে দিয়ে সেগুলো পাঠাচ্ছিলেন অর্থাৎ বাহকই সেগুলো আত্মসাৎ করেছে। এখন নিজে ফেঁসে যাবার ভয়ে ছিনতাইয়ের নাটক সাজাচ্ছে। আদৌ এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা সেটার ব্যাপারেও সন্দেহ আছে। ’ বলেন মারুফ হাসান।
সূত্রমতে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী মাইক্রোবাসটি ছিল কালো রংয়ের। তবে বিআরটিএতে খোঁজ নিয়ে পুলিশ চট্টমেট্রো-১১-৬২৬৫ নম্বরের সিলভার রংয়ের একটি মাইক্রোবাসের সন্ধান পেয়েছে।
সূত্রমতে, ছিনতাই করা প্রতিটি স্বর্ণের বারের ওজন ১০৫ গ্রাম। প্রতি পিস বারের দাম ৫ লাখ টাকা হিসেবে ২৭টি সোনার বারের মোট দাম এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
সোনার বারগুলো বৈধভাবে আনা হয়েছিল কিনা, অবৈধ হলে সেগুলো কিভাবে বিমানবন্দর পার হল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের পর মাসুদকে নিয়ে সন্ধ্যায় সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন পতেঙ্গা থানার ওসি আলমগীর মাহমুদ।

Leave a Reply