সিটিসেল চালুর নির্দেশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩ নভেম্ববর, বৃহস্পতিবার: আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে সিটিসেল চালু করতে বরাদ্দকৃত তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আবারও তরঙ্গ বরাদ্দ বাতিল করতে পারবে বিটিআরসি।1 বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন আদালত। কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
তরঙ্গ ফেরতের দাবিতে সিটিসেলের আবেদনের ওপর গত ১ নভেম্বর শুনানি শেষে ৩ নভেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। সেই অনুযায়ী আজ এই আদেশ আসল। আদালতে সিটিসেল এর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ।
বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হয়নি এই অভিযোগে গত ২১ অক্টোবর সিটিসেলের কার্যক্রম (স্প্রেকট্রাম বা তরঙ্গ) বন্ধ করে দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। সংস্থাটির সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে আবেদন করে সিটিসেল।
গত ২৬ অক্টোবর অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। সে অনুযায়ী ১ নভেম্বর আবেদনের ওপর শুনানি হয়।
বিটিআরসি দাবি করেছে, সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। যদিও এই পাওনা নিয়ে পরস্পর বিরোধী দাবি রয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে আপিল বিভাগ ছয় সপ্তাহের মধ্যে পাওনা টাকার তিন ভাগের দুই ভাগ এবং বাকি টাকা দুই মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য সিটিসেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল।
সিটিসেল তাদের হিসাব মতো বকেয়া টাকার মধ্যে ১৩০ কোটি বিটিআরসিকে এবং ১৪ কোটি টাকা এনবিআরের খাতে জমা করে। কিন্তু বিটিআরসি দাবি করে প্রথম কিস্তির টাকার অঙ্ক ৩১৮ কোটি টাকা। টাকার অঙ্ক নিয়ে দুই পক্ষের এই মতবিরোধের মধ্যে বিটিআরসি সিটিসেলের তরঙ্গ বরাদ্দ স্থগিত করে দেয়।

Leave a Reply