ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় মন্দিরে হামলার ঘটনা পরিকল্পিত: রিজভী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১ নভেম্ববর, মঙ্গলবার: পবিত্র কাবা শরিফের অবমাননার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনা 1পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এমন মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘গত রবিবার ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগরে রসরাজ দাস নামে একজন ব্যক্তি পবিত্র কাবা শরিফ অবমাননা করে আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে তা নজীরবিহীন। এই ঘটনা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং সামাজিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।’
বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিন্দা জানান রিজভী। একইসঙ্গে অভিযোগের বিষয় অস্বীকারের পরও রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা ও সত্যিকারের অপরাধের বিষয়টি যাচাই না করে আইন হাতে তুলে নেয়া বর্বরতারই নামান্তর বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি পবিত্র কাবা শরীফকে অবমাননা করে কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় চেতনায় আঘাত করার ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে নিন্দা জানান। এবং এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘হুজুগ সৃষ্টি করে দোষারোপের মাধ্যমে একটি সংঘাতপূর্ণ অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে একটি মহল বিশেষ ইন্ধন যুগিয়ে থাকে। বিএনপি সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্ম বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে এবং দেশের সব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
তিনি বলেন, ‘সরকার নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায়ের মধ্যে পরস্পরের শুভেচ্ছাবোধ, সামাজিক বন্ধন ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে, সমাজের অভ্যন্তরে অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে।’
রিজভীর অভিযোগ, নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দির, দত্তবাড়ি মন্দির ও জগন্নাথবাড়ি মন্দিরসহ ১৩টি বাড়িঘর লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া সরকারি দলের উচ্চ পর্যায়ের কোনো নেতা বা সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী এলাকা পরিদর্শন ও সংকট উত্তরণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সিপাহী বিপ্লব দিবসের নামে বিএনপিকে কোনো সমাবেশ করতে দেয়া হবে না-আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবল আলম হানিফের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত বলে দাবি করেন রিজভী। ৭ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সরকার সমাবেশের অনুমতি দেবে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।

Leave a Reply