বাংলাদেশের ব্যাংক নোট

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৭ অক্টোবর: একটি দেশের জাতীয় সংগীত, পতাকা যেমন দেশটিকে পরিচিত করে তোলে, কোনো খেলোয়াড় যেমন নিজের দেশকে বিশ্বব্যাপী পরিচয় করে তোলেন, তেমনি ব্যাংক নোট সে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রসার-প্রচারে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে। takaস্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ম্যাপ সিরিজের ব্যাংক নোট সবার কাছে পরিচিত। কারণ এই ব্যাংক নোটগুলোতে আমাদের মানচিত্রকে তুলে ধরা হয়েছিল। অর্থ সচিব কে এ জামান স্বাক্ষরিত এক টাকার এ নোট ১৯৭২ সালে মুদ্রিত হয়েছিল। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক নোট। তারপর অর্থ সচিব মতিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত ১৯৭৩ সালে ধানের শীষের ছবি সম্বলিত এক টাকার নোট মুদ্রিত হয়। তার স্বাক্ষরিত আরেকটি ব্যাংক নোট যেটি ঢেঁকির ছবি সম্বলিত এটি ১৯৭৩ সালে মুদ্রিত হয়। চতুর্থ বার ১৯৭৯ সালে আবুল খায়ের স্বাক্ষরিত এক টাকার নোট মুদ্রিত হয়, যাতে তিনটি হরিণের ছবি রয়েছে। ১৯৮৮ সালে প্রথম বারের মতো দুই টাকার ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়, এটি স্বাক্ষর করেন অর্থ সচিব গোলাম কিবরিয়া, যার এক পৃষ্ঠায় দোয়েল পাখির ছবি মুদ্রিত হয়েছিল। এই ব্যাংক নোটটি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যাংক নোট প্রদর্শনীতে বিশ্বের সেরা ব্যাংক নোট হিসেবে পুরস্কার পেয়েছিল। মোহাম্মদ তারেক স্বাক্ষরিত আরেকটি দুই টাকার ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়। এতে বঙ্গবন্ধুর ছবি মুদ্রিত হয়েছে। এছাড়াও আরো কয়েকজন অর্থ সচিবের স্বাক্ষরিত এক টাকার ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর এ এন হামিদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত প্রথম পাঁচ টাকার ম্যাপ সিরিজের নোট ১৯৭২ সালে মুদ্রিত হয়। তার স্বাক্ষরিত আর যে সব ম্যাপ সিরিজের ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়েছে তা হচ্ছেÑদশ টাকা ও একশত টাকা। হামিদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত পাঁচ টাকা, দশ টাকা ও একশত টাকার নোট মুদ্রিত হয়। পরবর্তীকালে গভর্নর নাজির উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত দশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা, একশত টাকার ও পাঁচশত টাকার নোট মুদ্রিত হয়। নাজির উদ্দিন আহমদের সময় প্রথম বারের মতো পাঁচশত টাকার নোট মুদ্রিত হয়। পরবর্তী গভর্নর নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পাঁচ টাকা, দশ টাকা, বিশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা, একশত টাকা ও পাঁচশত টাকার নোট মুদ্রিত হয়। তার সময় মুদ্রিত নোটগুলোতে ভিন্নতা আনা হয়েছে, যা ব্যাংক নোট কালেক্টরদের উৎসাহিত করেছে। গভর্নর সেগুফতা বখত স্বাক্ষরিত পাঁচ টাকা, দশ টাকা, বিশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা, একশত টাকা ও পাঁচশত টাকার নোট মুদ্রিত হয়। গভর্নর খোরশেদ আলমের সময়ে পাঁচ টাকা, দশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা, একশত টাকা ও পাঁচশত টাকার নোট মুদ্রিত হয়। পরবর্তীকালে গভর্নর লুৎফর রহমান সরকারের স্বাক্ষরিত ১৯৯৬ সালে দশ টাকার নোট, যা আমাদের দেশের প্রথম স্মারক ব্যাংক নোট। এখানে বিজয় দিবস রজতজয়ন্তী ৯৬ লেখাটি মুদ্রিত হয়েছে। তারপর লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত পাঁচ টাকা, একশত টাকা ও পাঁচশত টাকার ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়। মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন স্বাক্ষরিত দশ টাকা, বিশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা, একশত টাকা ও পাঁচশত টাকার ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়। তার সময় প্রথমবারের মতো পলিমারের তৈরি দশ টাকার ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়। ফখরুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত দশ টাকা, বিশ টাকা ও পাঁচশত টাকার ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়। সালেহ উদ্দিন আহমেদের সময় পাঁচ টাকা থেকে পাঁচশত টাকার ব্যাংক নোট মুদ্রিত হওয়া ছাড়াও প্রথম বারের মতো এক হাজার টাকার ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়। বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান স্বাক্ষরিত পাঁচ টাকা থেকে এক হাজার টাকার বিভিন্ন ডিজাইনের ব্যাংক নোট মুদ্রিত হয়। ড. আতিউর রহমান স্বাক্ষরিত সব ব্যাংক নোট মুদ্রা সংগ্রহকারীদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ তিনি বিষয় বৈচিত্র ব্যাংক নোটগুলোতে গুরুত্ব দিয়েছেন। ঢাকার মিরপুরে ‘টাকা জাদুঘর’ পরিদর্শন করলে স্বাধীন বাংলাদেশের সব ধরনের ব্যাংক নোটের সঙ্গে পরিচিত হবেন। নিজের দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য যারা জানতে চান তাদের অবশ্যই স্বাধীন বাংলাদেশের ব্যাংক নোট তৈরির ইতিহাস জানতে হবে। টাকা জাদুঘর পরিদর্শন করার পর বাংলাদেশের সব ব্যাংক নোট তৈরির ইতিহাস জানতে পারবেন। ভবিষ্যতে আপনি যদি ব্যাংক নোট সংগ্রহ করতে চান তাহলে বাংলাদেশের ব্যাংক নোট দিয়ে আপনার সংগ্রহটা শুরু করতে পারেন। সারা পৃথিবীতে ব্যাংক নোট সংগ্রহকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হয়।

Leave a Reply