‘পরিবার বলেছিলো গানের মানুষ ছাড়া বিয়ে দেবে না’

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৮ অক্টোবর: জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী। নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশ কিছু জনপ্রিয় গান তিনি উপহার দিয়েছেন। নিয়মিত অ্যালবাম ও চলচ্চিত্রের গানে কন্ঠ দিচ্ছেন। দেশ-বিদেশের স্টেজেও তার ব্যস্ততা ব্যপক। নিজের বর্তমান ব্যস্ততা, গান ও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজকের ‘আলাপন’-এ কথা বলেছেন দিনাত জাহান মুন্নী। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ফয়সাল রাব্বিকীন alapanকেমন আছেন? কোথায় আছেন? অনেক ভালো আছি। সব কিছুর মধ্যে দিয়ে অনেক ভালো কাটছে সময়। সামনে অনেক শো রয়েছে, তার জন্য প্র্যাকটিস করতে প্র্যাকটিস প্যাডে এসেছি। চলতি পথে অথবা বিভিন্ন স্থানে নিজের গান শুনতে কেমন লাগে? খুব ভালো লাগে। এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। কারণ এক সময় এরকম স্বপ্ন ছিলো। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এর জন্য শ্রোতাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এই যে এখন আপনার সঙ্গে কথা বলার সময়ও কিন্তু পাশের বিল্ডিং থেকে আমার একটি গান শুনতে পাচ্ছি। এটি ‘ব্ল্যাকমানি’ ছবির গান। ‘তোমার সাথে দেখা না হলে’ শিরোনামের এ গানটির সাড়া পাচ্ছি অনেক । এখনকার ব্যস্ততা কি নিয়ে? শো নিয়ে অনেক ব্যস্ত। দেশের ভেতর বিভিন্ন স্থানে শো করছি। দু মাস আগেই কানাডায় শো করে ফিরেছি। সামনেই অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় শো করার কথা রয়েছে। কানাডায় আমি চারবার গিয়েছি। সেখানে আমার একটি ভালো শ্রোতা রয়েছে। আমেরিকা গেলে কানাডায়ও আবার শো করা হতে পারে। এছাড়াও চলচ্চিত্র ও অ্যালবামেরও কাজ করছি। একক অ্যালবামের কি খবর? একক অ্যালবাম রেডি করে লেজারভিশনে জমাও দিয়ে দিয়েছিলাম। তবে গানগুলোতো অনেক আগের করা, তাই আরও একটু চিন্তা ভাবনা করছি। আরও ডিফরেন্ট কিছু আইডিয়া নিয়ে গান তৈরি করবো বলে ভেবেছি। একই রকম কাজতো অনেক করেছি। এই অ্যালবামটায় গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করতে চাই। সংগীত জগতে ১৯ বছর ধরে কাজ করছেন। আগের ও চলতি দুই প্রজন্মের সঙ্গেই কাজ করছেন। এ প্রজন্মের তরুণরা কেমন করছে বলে আপনার মনে হয়? আমি সব সময় সময়ের সঙ্গে চলার চেষ্টা করি। এখনও আমি প্রতিনিয়ত শিখছি। যখন এন্ড্রু কিশোর দা’র সঙ্গে কাজ করতাম তখন অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করতাম, এখনও সেটা করি। আমি এ সময়ের মধ্যে হৃদয় খান, রাফাতসহ অনেকের সঙ্গে কাজ করেছি। অনেক তরুণই অসাধারণ কাজ করছে। আর ভালোর সঙ্গে মন্দ সব সময়ই ছিলো, এখনও আছে। এটা স্বাভাবিক। তবে জেনে, বুঝে ও শিখে গানে আসা দরকার। এক্ষেত্রে আমরা যারা সংগীত সংশ্লিষ্ট তাদের এবং মিডিয়ার অনেক বড় একটি ভূমিকা রয়েছে। কারণ ভালোকে প্রমোট করা উচিত। এমন কাউকে প্রমোট করা উচিত না যার দ্বারা সংস্কৃতি, সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে না।
আপনার সংসার জীবন ২০ বছর এ পা রেখেছে। অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা কেমন? অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা দুটিই চমৎকার। এক্ষেত্রে আমার স্বামী কবির বকুলের পাশাপাশি আমি আমার আশেপাশের মানুষদের সহযোগিতাটাও অনেক পেয়েছি। কারণ সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসা না পেলে এতটা দীর্ঘপথ পাড়ি দেয়া কঠিন ছিলো। সবার মায়া ও টানের ফলে এ জার্নিটাকে জার্নি মনে হয়নি। আমার ও বকুলের পরিবারের অনেক সহযোগিতা ছিলো এক্ষেত্রে। সংসার জীবনে তিতা মিঠা সম্পর্কতো থাকেই। সেটা স্বাভাবিক বিষয়। অনেকেই বলে থাকেন মিডিয়ার মানুষদের বিয়ে কিংবা সংসার বেশিদিন টেকে না। সেদিক থেকে কিছুটা হলেও আমরা উত্তীর্ণ হতে পেরেছি। অবশ্য এ জার্নিটার জন্য যে স্বস্তিকর পরিবেশ প্রয়োজন ছিলো, সেটা আমরা পেয়েছিলাম। দুজনই সংগীতের মানুষ। এই বিষয়টি কি সহায়ক ছিলো এক্ষেত্রে? অবশ্যই সহায়ক ছিলো। আমার পরিবার বলেছিলো গানের মানুষ ছাড়া বিয়ে দেবে না। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারসহ অনেক বড় বড় প্রস্তাব সে সময় ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিলো। কখনও কোন কারণে আমাকে গান ছেড়ে দিতে বললে ঝরঝর করে কাঁদতাম। আসলে বকুল কয়টা দামি শাড়ি আমাকে দিয়েছে সেটা আমার কাছে বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো সে গান গাওয়ার আগে এখনও আমার ডায়েরিটা ঠিক করে দেয়। এটাই আমার কাছে বড় বিষয়। আপনার বড় মেয়ে প্রেরণা গান করছে? সন্তানদের নিয়ে আপনার চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনা কি রকম? আমার বড় মেয়ে প্রেরণা, মেঝো মেয়ে প্রতিক্ষা ও ছেলে প্রচ্ছদ। ওদের নিয়েই আমার জগত। আমার দুই মেয়েই ভিকারুন্নেসা স্কুলে পড়ে। প্রেরণা এবার ক্লাস টেনে উঠেছে। এরই মধ্যে আমেরিকার টাইম টিভিতে ওর সাক্ষাৎকার প্রচার হয়েছে। মজার বিষয় হলো প্রেরণা যে গান করে সেটা আমি আর বকুল জানতামই না। ও যখন ক্লাস এইটে পড়ে তখন একটি গান করে সেটা ইউটিউবে ছেড়েছিলো। এরপর ডেইলি স্টারে সাক্ষাৎকার ছাপা হয় ওর। তারপর প্রেরণা আমাদের দেখালো ওর গানের ভিউয়ার্স কত বেড়ে গেছে। বিষয়টি এভাবে জেনে এত ভালো লেগেছে বোঝাতে পারবো না। প্রেরণার গানের কন্ঠ ও স্টাইল দেখে আইয়ুব বাচ্চু ভাই নিজে ওর একক অ্যালবামের দায়িত্ব নিয়েছেন। এরই মধ্যে গানের কাজও শুরু হয়েছে। প্রেরণা এমনিতে গীটার শিখেছে লিটন অধিকারি রিন্টু ভাইয়ের কাছ থেকে। এ পর্যায়ে স্বামী, সংসার ও সন্তান নিয়ে বলতে পারেন আমি অনেক সুখী। একটা কথা বলতে চাই যে, যে অবস্থাতেই থাকিনা কেন তাতেই আমি হ্যাপি।

Leave a Reply