নতুন জিন যা নারী দেহে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৪ অক্টোবর : নারীর দেহে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়-এমন এক ধরনের জিন খুঁজে পেয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। এই জিনটি নারী ছাড়াও পুরুষের দেহেও রয়েছে। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা কম। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর শরীরে বিসিএআর-১ টাইপের জিন আছে তাদের হৃদরোগ বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বেশি। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকিটা কিছুটা কম। ladyগবেষকরা বলছেন, এই বিষয়টি প্রমাণ করে নারী-পুরুষের হৃদরোগের জন্য ভিন্ন জিন দায়ী। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কার্ডিওভাসকুলার বংশগতি নিয়ে এই গবেষণা নিবন্ধটি প্রকাশ করে। প্রায় চার হাজার নর-নারীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণায় নর-নারীর জিন, রক্ত কণিকা, ধমনীর ঘনত্ব তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন যেই জিন চিহ্নিত করা হয়েছে তা নারীর দেহে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং রক্ত কণিকায় বিভিন্ন রোগ তৈরির জন্য দায়ী। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নারী দেহের এই জিনটিকে আরও ভালভাবে বুঝার চেষ্টা করছেন। গবেষকরা মনে করেন, যখন জিনটি ইস্ট্রজেন হরমোনের সাথে প্রাকৃতিকভাবে মিশে যায় তখনই হৃদরোগের ঝুঁকিটা বেশি তৈরি করে। আগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জিনের কোষগুলো গণহারে প্রবাহিত হয়ে রক্ত কণিকাগুলোকে ঘন করে। আর এই ঘন রক্ত কণিকা হৃদপিণ্ডের ব্লক তৈরি করে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণার প্রধান লেখক ফ্রেয়া বোর্ডম্যান প্রেটি বলেন, আমরা দীর্ঘদিনের গবেষণায় নারী-পুরুষের হৃদরোগের ঝুঁকির জন্য পৃথক জিনকে কারণ হিসেবে দেখছি। এই জিন শুধু নারীদের হৃদরোগের ঝুঁকির জন্য দায়ী। তবে আমরা মনে করছি আরও অনেক কারণও এর জন্য দায়ী হতে পারে। তিনি আরও বলেন, যদি আমরা নিশ্চিত হতে পারি এই জিনটিই হৃদরোগের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের নতুন লক্ষ্য হবে এর ওষুধ আবিষ্কার করা।

Leave a Reply