ঘ্রাণ অনুভূতি যত প্রবল, ক্যান্সার ঝুঁকি তত বেশি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৪ অক্টোবর : ঘ্রাণ অনুভূতি যত বেশি প্রবল, স্তন ও জরায়ুর মতো ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তত বেশি। পাবলিক লাইব্রেরি অব সাইন্সে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইঁদুরের ওপর গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে। cancers and smellইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার কেক মেডিসিন স্কুলের পক্ষ থেকে পরিচালিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ইঁদুরের ঘ্রাণ অনুভূতির তীব্রতার সাথে পিরিয়ড, স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সার ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে, যে সব ইঁদুরের কোষে বিআরসিএ১ নামের জিনের উপস্থিতি থাকে তাদের এ ঝুঁকি বেশি। গবেষকরা দেখতে পান, এ জিন বহনকারী নারী ইঁদুরের রজঃচক্র সাধারণ ইঁদুরের তুলনায় সরাসরি ঘ্রাণ দ্বারা বেশি প্রভবিত হচ্ছে। এসব ইঁদুরের জরায়ুর কোষ স্বতন্ত্রভাবেই ঘ্রাণ অনুভূতির প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ ব্যাপারে প্রতিবেদনের রচয়িতা লুইস ডুবেয়ু জানান, এ গবেষণার দ্বারা প্রতীয়মান হয় বিআরসিএ১ বহনকারী নারীর ঘ্রাণ অনুভতি প্রবল হলে তার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এ জিন বহনকারী জরায়ু ঘ্রাণ অনুভূতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। এমনকি এর প্রভাব রজঃচক্রেও পড়তে পারে, যা স্তন ও জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, স্তন ও জনন অঙ্গের কিছু নির্দিষ্ট টিস্যু এ ক্যান্সার ঝুঁকির মূল কারণ। আমরা দেখেছি যে, বিআরসিএ১ জিন এসব কোষকে সরাসরি প্রভাবিত করে না। তবে অন্যান্য টিস্যুর সাথে এসব টিস্যুর যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করেই এমনটি করে থাকে। ডুবেয়ু জানান, সব কোষেই ঘ্রাণ অনুভূতির গ্রাহক আছে বলে বিজ্ঞানীর অনেক আগেই নিশ্চিত হয়েছেন। কিন্তু নাক ছাড়া অন্যান্য অঙ্গের ঘ্রাণ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে এখনো বেশি কিছু জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, এ উদ্ভাবন দূরবর্তী কোষগুলোর মধ্যকার যোগাযোগে বিআরসিএ১’র প্রভাব বিস্তারের একটি নমুনা মাত্র। তার আশা, এ গবেষণা ঘ্রাণভিত্তিক ক্যান্সার চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে পথ দেখাতে পারে।

Leave a Reply