নিরাপত্তা উদ্বেগে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্তের আশঙ্কা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ অক্টোবর : আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক সফর পিছিয়ে দিচ্ছে এবং সফরকালে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীর অনুরোধ জানাচ্ছে। বাংলাদেশী গার্মেন্ট কারখানা মালিক আর বায়িং এজেন্টরা একথা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক বিদেশীwsj হত্যাকাণ্ডের ফলে অর্থনীতির ওপর প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করছে সরকার। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘রিসেন্ট কিলিং টেকিং টোল অন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘বিদেশীদের ওপর অব্যাহত হুমকি’র সতর্কবার্তা দেয় পৃথক দুই হামলায় একজন ইতালিয়ান ও একজন জাপানি নাগরিক নিহত হবার পর। একই রকম সতর্কবার্তা আসে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি ও জাপান দূতাবাস থেকে। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস হামলা দুটির দায় স্বীকার করে। বাংলাদেশী কর্মকর্তারা দেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থানের ধারণা উড়িয়ে দেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুলিশ জানিয়েছে তারা কমপক্ষে একডজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা আইএসের প্রতি সমর্থন জোগাতে কাজ করছিল বলে বলা হয়। ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজার ও জাপানি নাগরিক হোসি কোনিও হত্যার আগে ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক ব্লগারদের ওপর কয়েকটি নির্মম হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছে আনসারুল্লাহ বাংলাটিম। নিষিদ্ধঘোষিত এ গ্র“পের সঙ্গে আইএস ও সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি প্রধান তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ। এ খাতে ৪০ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে, যার বেশিরভাগই নারী। আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ২৫০০ কোটি ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে। মোহাম্মদি গ্র“প নামের বড় একটি তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক জানান, গত সপ্তাহে তিনি তার তিন ক্রেতার জন্য সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা করেন। তার অন্য বায়াররা আগেই সফর বাতিল করেছেন। রুবানা বলেন, ‘আমি না পারছি তাদের শঙ্কা নাকচ করতে, না পারছি আমার অবস্থানের পক্ষে কথা বলতে।’ তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মোহাম্মদি গ্র“প আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান হেনস এন্ড মরিটজ, সিয়ার্স হোল্ডিংস এবং ওয়ালমার্টের জন্য পোশাক উৎপাদন করে থাকে। সুইডেনের এইচএন্ডএম ও মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠান গ্যাপ গত সপ্তাহে তাদের ঢাকা সফর বাতিল করেছে। এইচএন্ডএমের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ‘যথাযথ নিরাপত্তা পদক্ষেপ’ নিচ্ছেন। আর পরিস্থিতি নিয়ে ‘অপর ব্রান্ডগুলোর সঙ্গে নিবিড় আলোচনা বজায় রেখেছেন’। গ্যাপ তাৎক্ষণিকভাবে কোন মন্তব্য করেনি। বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের অন্যতম বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ভিএফ কর্পোরেশনের এক মুখপাত্র বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা বিষয়াদি নিয়ে মন্তব্য করেনি তবে ‘পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণ’ করবেন তারা। এ মাসের শুরুতে হওয়ার কথা একটি কনফারেন্সে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) কনফারেন্সটি বাতিল করে। বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিদেশী নাগরিক হত্যাকা-ের পর ‘ওভার রিঅ্যাকশন’ দেখা গেছে। পরিস্থিতি দ্রুতই ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে’ বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অর্ডারের পরিমাণ কমবে এমনটা তিনি আশা করেননি। হত্যাকাণ্ডগুলোর পর ঢাকা ও চট্টগ্রামে হোটেল বুকিং কমে গেছে। ট্যুর পরিচালকরা জানিয়েছেন, বিদেশী পর্যটকরা সফর এড়িয়ে চলছেন। ফলে কয়েক ডজন ট্যুর বাতিল হয়েছে। বেসরকারি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং ত্রাণ সংস্থাগুলো তাদের বিদেশী নাগরিকদের ঢাকার বাইরে সফরে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করছেন তারা। দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র একজন কর্মকর্তা এমনটা জানিয়েছেন। শনিবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা হালনাগাদ করে প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, ‘পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর ভবিষ্যতে হামলা হতে পারে’। আর ‘সন্ত্রাসী হুমকি অব্যাহতভাবে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য’। বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলছে বিদেশী নাগরিকদের জন্য দেশ নিরাপদ। সরকার ঢাকার কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তল্লাশি চৌকিগুলোতে পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়েছে। আর আধাসামরিক বাহিনী মোটরসাইকেলে টহল জোরদার করেছে। তাবেলা ও হোসিও’র হত্যার দায় স্বীকার করে আইএস। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর অনলাইন তৎপরতা নজরদারি করে এমন একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান সাইট (এসআইটিই) ইন্টেলিজেন্স গ্র“প আইএসের বার্তা প্রকাশ করে। শুক্রবার ঢাকার পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, তাবেলা হত্যায় কোন জঙ্গি যোগসূত্র মেলেনি। তার এ বক্তব্যে মন্ত্রীদের করা মন্তব্য প্রতিধ্বনিত হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ড দুটির তদন্ত চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হামলার জন্য বিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দায়ী করেছেন। বিএনপি বলছে, এমন দাবি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’। দলটি দেশে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানায়। সূত্র : শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply