চট্টগ্রামে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে র‌্যালী

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ অক্টোবর : টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ২০৩০ (এসডিজি)র উন্নয়ন কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের দারিদ্রের অবসান Food Rightsএবং আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ক্ষুদামক্তির অ্ঙ্গীকার। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ খাদ্য অধিকার ও পুষ্ঠি নিরাপত্তার বিষয়ে সমর্থন দিয়ে ক্ষুদ্র মুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে এসডিজি অনুমোদন করেছে। আর এসডিজি বাস্তবায়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সহযোগিতামুলক আইন ও নীতি। নীতি ও আইন যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তাই এসডিজির মুল লক্ষ্য অনুযায়ী দেশে সবার খাদ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন দরকার। সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য অধিকার আইন এর দাবি জানিয়ে চট্টগ্রামে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাদ্য অধিকার প্রচারাভিযান চট্টগ্রামের আয়োজনে ১৯ অক্টোবর নগরীর চান্দগাঁও চত্বরে র‌্যালী ও গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। খাদ্য অধিকার প্রচারাভিযান চট্টগ্রামের আহবায়ক এস এম নাজের হোসাইনের নেতৃত্বে র‌্যালী ও গণজমায়েতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিকার প্রচারাভিযান চট্টগ্রামের যুগ্ন আহবায়ক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, বায়েজিদ থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব আহমদ নবী লেদু, রৌফাবাদ উর্দুভাষী বিহারীকলোনীর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের সরকারী শিশু নিবাসের সমাজসেবা কর্মকর্তা নবিউল হক, চট্টগ্রাম ল্যাবরেটরী ¯ু‹ল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ইসমাইল ফারুকী, অন্বেষা চিটাগাং এর প্রধান নির্বাহী আবুল কাসেম, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক জানে আলম, প্রাইম ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবু ইউনুচ, আইএসডিই বাংলাদেশ’র কর্মসুচি সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম, ইশিকা ফাউন্ডেশনের মোঃ জহিরুল ইসলাম, সিএসডিএফ’র মাহবুবুল আলম, আজগর হোসেন, সুচনা সমাজ কল্যান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার বিউটি, ওমেন হোম এর সাধারন সম্পাদক ফারহানা আকতার, সিএসডিএফ’র আজগর হোসেন, শিক্ষক নবী হোসেন, ফেরদৌসী আকতার, সুবর্না দেবী, ইসরাত জাহান লিপি, শম্ভু দে প্রমুখ। র‌্যালী শেষে গণজমায়েত এ বক্তাগণ বলেন বর্তমান সরকার ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে দেশে খাদ্য নিরাপত্তায় অগ্রগতি সাধিত হলেও নিরাপদ খাদ্যের বেলায় মারাত্মক হুমকিতে আছে। বাংলাদেশের সংবিধানে সবার জন্য খাদ্য অধিকারের কথা বলা হলেও এ পর্যন্ত সকলের জন্য খাদ্য অধিকার আইন প্রণীত হয়নি। ২০০৭ সালে আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তা সংরক্ষনাগার হিসাবে সার্ক ফুড ব্যাংক গঠন করা হয়। খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে বহুজাতিক কোম্পানী গুলির একছত্র আধিপত্য সবার জন্য পুরো খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। আর সে কারণে বিগত বিশ বছরে দেশে খাদ্যের মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুনেরও অনেক বেশী, অথচ মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলিতে খাদ্যের মুল্য সেভাবে বাড়েনি। অন্যদিকে প্রকৃত কৃষক তার উৎপাদিত খাদ্য পণ্যের ন্যায্য মুল্য পায় না, যা মধ্যস্বত্বভোগী ও ফাড়িয়ারা এবং খাদ্য ব্যবসবায়ীরাই সিংহভাগ হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে দেশীয় কৃষক প্রতিবছরই লোকসান গুনছে। সেকারনেই সবার জন্য খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা প্রদানে রাস্ট্রকে বাধ্য করার বিষয়ে ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই। গণজমায়েতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন, নিরাপদ খাদ্য আইনের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্যের যোগান নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম জোরদার, স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠির জন্য রেশনিং ব্যবস্থা এবং সরকারি বণ্টন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, কৃষিতে ভর্তুকির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষীদের সরাসরি ভর্তুকির আওতায় আনা, প্রান্তিক কৃষক এবং বর্গাচাষীদের নিয়ে সমবায় গড়ে তোলার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদার, সমবায়ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিতকরণ, সকল পর্যায়ে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, নারী কৃষকদের স্বীকৃতি ও তাদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, পশু পালনকারী, জেলেদের মতো জনগোষ্ঠীর জন্য ভূমি নিরাপত্তা, শিক্ষা, আর্থিক লেনদেনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার উৎস নিশ্চিতকরণ, খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সরকারকে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদনে পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিকুল আবহাওয়া, বন্যা, খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে ফসল টিকে থাকতে পারে তা নিশ্চিত করা; ২০২০ সালের মধ্যে বীজ, শস্য, পালন করা পশুর জিনগত বৈচিত্র বাড়ানোয় কাজ করা; বিশ্ব খাদ্য পণ্যের বাজারে দাম স্থিতিশীল ও ক্রেতার হাতের নাগালের মধ্যে রাখতে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ, কৃষিভিত্তিক গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর দাবী জানানো হয়।

Leave a Reply