চট্টগ্রামের হোটেলে বাসি পচা মুরগির মাংস দুর্গন্ধভরা পরোটার খামি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ অক্টোবর : চট্টগ্রামের হোটেলে বাসি পচা মুরগীর মাংস, দুর্গন্ধভরা পরটার খামি, নোংরা-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার বিক্রি এবং লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করার দায়ে নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় ১১টি রেস্তোরাঁকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা fcebdকরা হয়েছে। গতকাল সোমবার বহদ্দারহাট ওভারব্রিজ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামছুজ্জামান ও চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল কায়ছার। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামছুজ্জামান বলেন, হোটেলগুলোর রান্না ঘরের পরিবেশ খুব বেশি নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন ছিল। বাসি-পচা মুরগী মাংস ফ্রিজে রেখে বিক্রয় করছিল মদিনা হোটেল। মাংসগুলো যখন উদ্ধার করা হয় তখন তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। ভোক্তা অধিকার আইনে মদীনা হোটেলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া হোটেল ওয়েল প্যালেসে বাসি পরটার খামি পরের দিন বিক্রয়ের জন্য ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। এগুলোও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তেলে ভাজলে পচা গন্ধ কমে যায়। আর এইভাবে হোটেলগুলো দীর্ঘদিন ব্যবসা করছিল। তিনি জানান, এবার তাদের সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ছাড় দেয়া হবে না। খাদ্যে ভেজাল বন্ধে হোটেল মালিকদের সচেতনতা তৈরিতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ফ্রিজে কাঁচা মাংস রাখা যাবে। তবে রান্না করা মাংস ফ্রিজে রাখার নিয়ম নেই। হোটেল গুলো নোংরা পরিবেশে ক্রেতাদের খাবার পরিবেশন করছিল। এই ধরনের খাবার খেয়ে যে কেউ অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। হোটেলে অগ্নি নির্বাপণ না থাকা, অবৈধ প্রক্রিয়ায় আবাসিক হোটেল পরিচালনা এবং অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য পরিবেশন করায় নাদিয়া হোটেল, হোটেল তাজ প্যালেস, ক্রাউন রেস্টুরেন্ট, মদিনা হোটেল, হোটেল জামান, এশিয়া কাবাব ও রেস্টুরেন্ট, হোটেল কর্ণফুলি, হোটেল ধানসিঁড়ি, হোটেল ওয়েল প্যালেসসহ ১১টি আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯, অগ্নি নির্বাপক আইন ২০০৩ ও বাংলাদেশ হোটেল এন্ড রেস্তোরাঁ আইন ২০১৪ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এ জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল কায়ছার। অভিযানে র‌্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর জাহাঙ্গীর আলম ও এএসপি জালাল আহম্মেদসহ র‌্যাবের দুটি মোবাইল টিম সহায়তা প্রদান করে।

Leave a Reply