আজ মহালয়া, মহামায়া বরণে অপেক্ষা আর মাত্র কয়েকদিন

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার, ১২ অক্টোবর : শরতের মেঘমুক্ত আকাশ আর ঝরা শিউলি ফুল কৈলাস শিখর থেকে শক্তিরূপে দশভুজা মা দুর্গার আগমনী বার্তা জানান দেয়। আজ শুভ মহালয়া। বছর ঘুরে আবার পিতৃপক্ষের অবসানে সূচনা হলো দেবীপক্ষের। Durgaদশভুজা শক্তিরূপে মা দুর্গা মন্ডপে মন্ডপে অধিষ্ঠান করবেন আজ। সনাতন ধর্ম্বালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরুর আগে আজ চন্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে মর্ত্যলোকে। হিন্দু শাস্ত্র মতে মহালয়া অর্থ- মহান আলোয় দুর্গতি নাশিনী দেবী দুর্গাকে আবাহন। আগামী সোমবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও মূলত মহালয়ার দিন থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার আগমনীধ্বনি শোনা যায় মন্দিরে মন্দিরে। এ দিনে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। আর এই চন্ডীতেই রয়েছে কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে দেবী দুর্গার। এ মহালয়া বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। শাস্ত্রীয় বিধান মতে, মহালয়ার অর্থ হচ্ছে মহান আলোয় দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে আবাহন। দুর্গাপূজার দুটি পক্ষের (১৫দিনে একপক্ষ) রয়েছে, একটি হলো পিতৃপক্ষ, অন্যটি দেবীপক্ষ। অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের শেষ হয়, আর পরের দিন প্রতিপদ তিথিতে শুরু হয় দেবীপক্ষের। এবার তিথির বিচারে রবিবার দিবাগত রাত ১টা চুয়ান্ন মিনিট চৌদ্দ সেকেন্ডে অমাবস্যা তিথি শুরু হয়ে ৩টা চুয়ান্ন মিনিট চৌদ্দ সেকেন্ড পর্যন্ত থাকবে সোমবার ভোর পাঁচটা সাঁইত্রিশ মিনিট আটত্রিশ সেকেন্ড এর পর শুরু হবে প্রতিপদ। ধর্ম মতে, এই দিনে দেব-দেবীকূল দুর্গাপূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করেন। মহালয়ার দিন ভোরে মন্দিরে মন্দিরে শঙ্খের ধ্বনি ও চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে আবাহন জানানো হয়। এদিন গঙ্গাতীরে ভক্তরা মৃত আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার মঙ্গল কামনায় তর্পণ করে থাকেন। সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন ঘোড়ায় চড়ে। এর ফলস্বরূপ পৃথিবীতে রোগ শোকের আশংকা বৃদ্ধি পাবে। আবার বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী স্বর্গলোকে বিদায় নেবেন গজে(হাতি) চড়ে। যার ফল স্বরূপ সুজলা, সুফলা শষ্য শ্যামল হয়ে উঠবে বসুন্ধরা। দূর্গাপূজা সম্পর্কে কক্সবাজারস্থ রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের পৌরহিত পন্ডিত বিজয় কৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তে তিনি এই পূজার আয়োজন করায় দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজাও বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে যাওয়ার আগে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন। অকালে তথা শরৎকালে অনুষ্ঠিত হওয়া এই পূজা তখন থেকেই অকালবোধন নামে পরিচিত। মহালয়ারদিন মন্দিরে মন্দিরে শোনা যাবে- জয়ন্তী, মংগলাকালী, ভদ্রকালী, কপালিনী, দুর্গাশিবা, ক্ষমাধাত্রী, স্বাহা স্বধা নমোহস্তুতে। সর্বমংগলমংগল্যে শিবে সর্বার্থ সাধিকে, শরণ্যে স্ত্যম্বকে গৌরী নারায়নী নমোহস্তুতে। শরণাগত দীনার্ত পরিত্রাণ পরায়নে সর্বস্যার্তিহরে দেবী নারায়নী নমোহস্তুতে। যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা, নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ, নমস্তস্যৈ নমঃ নমঃ ।

Leave a Reply