চাহিদা বেশি তবু কমছে পূর্বাঞ্চলের রেলপথ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ অক্টোবর : ২০১২-১৩ সালে পূর্বাঞ্চলের রেলপথ ছিল ১ হাজার ২৭৩ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৮৭ কিলোমিটার কমে দাড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৭ দশমিক ৩২ কিলোমিটারে। অথচ ২০০৫-০৬ সাল থেকে পশ্চিমাঞ্চলের trainমিটারগেজ রেলপথ ৫৩৪ দশমিক ৬৭ কিলোমিটারে স্থির রয়েছে। পূর্বাঞ্চলে না থাকলেও পশ্চিমাঞ্চলের ব্রডগেজ রেলপথ ২০০৫-০৬ থেকে ৬৫৯ দশমিক ৩৩ কিলোমিটারে স্থির রয়েছে। ২০১১-১২ সালে পূর্বাঞ্চলে ৩৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ স্থাপন হলেও ২০০৫-০৬ থেকে পশ্চিমাঞ্চলে ৩৭৪ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ চালু আছে। রেলওয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম মকবুল আহম্মদ বলছেন, রেলপথ কমেনি। কয়েকটি সেকশান বন্ধ রয়েছে। রেলপথ বাড়লো না কমলো সে বিষয়টি তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা বলে দাবি করেছেন তিনি। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, রেলপথ কমেছে এমন তথ্য আমার জানা নেই। আর রেলপথ বাড়লো না কমলো তা দেখা আমার কাজ নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেলপথ কমার পাশাপাশি বিপুল চাহিদা সত্ত্বেও পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সেবার মানও দিন দিন কমছে। গত দুই বছরে পশ্চিমাঞ্চলে রেলওয়ে স্টেশনের সংখ্যা বাড়লেও গত পাঁচ বছর ধরে পূর্বাঞ্চলে রেলওয়ে স্টেশনের সংখ্যা বাড়েনি।বরং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যাত্রীসেবার মান কমেছে। এ বিষয়ে জিএম মকবুল আহাম্মদ বলেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব বেশি। এই রুটে ভিআইপি যাত্রীরা যাতায়াত করেন। এছাড়া বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন করতে হয়। জানা গেছে, পূর্বাঞ্চল রেলের পুরোটাই মিটারগেজ রেলপথ হলেও পশ্চিমাঞ্চলের মিটারগেজ ও ব্রডগেজের সম্মিলনে ট্রেন চলাচল করে। দেশের প্রধান বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ রাজধানী ঢাকার সংযোগ স্থাপনের অন্যতম বাহন রেলপথ হওয়ায় রেলের সিংহভাগ রাজস্ব আসে পূর্বাঞ্চল থেকে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে রেলের সবচেয়ে বেশি আয় হলেও রেলপথ সংকুচিত হওয়ার ফলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ে। পাশাপাশি সেবার মান কমে যাওয়ায় রেলের ওপর আস্থা হারাচ্ছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নত বিশ্বে মিটারগেজ রেলপথ তুলে নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ ব্রডগেজ এবং ডুয়েলগেজ রেলপথে অনেক দ্রুত গতি, কম খরচে বেশি যাত্রী পরিবহন করা যায়। ফলে নতুন রেলপথ তৈরি হচ্ছে না। রেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চলে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। গত কয়েক বছরে রেলের উন্নয়নে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও কোচ, ইঞ্জিন আমদানি হয়নি। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিভিন্ন সেকশনে চাহিদা থাকলেও রেলপথের সংখ্যা বাড়েনি। জিএম মকবুল আহম্মদ জানান, ১৯৮৯ সাল থেকেই পূর্বাঞ্চল রেলের বিভিন্ন সেকশন বন্ধ হতে থাকে। ১৯৯৭ সালের ১৭ আগষ্ট বন্ধ হয়ে যায় ফেনী-বেলুনিয়া সেকশনের ২৭ কিলোমিটার রেলপথের ট্রেন সার্ভিস। তবে এর বেশি তথ্য জানা নেই বলে জানান জিএম মকবুল আহম্মদ। তিনি বলেন, আমি এর আগে ৬ মাস জিএম’র দায়িত্ব পালন করেছি। কয়েক মাস আগে আবার দায়িত্ব নিয়েছি।

Leave a Reply