নিউজগার্ডেন ডেস্ক : সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর লাশ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এ জন্য মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে কবর খোঁড়া শুরু হয়েছে। কবর খুঁড়ছেন আটজন। coko1কবর খোঁড়ার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন জিয়া পরিবারের পক্ষে আতিকুর রহমান রুম্মন এবং স্থানীয় ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও গুলশান থানা বিএনপির নেতা আবদুল আলীম নকী। বনানী কবরস্থানের ১৮ নম্বর ব্লকের শুরুর দিকে চিরতরে আরাফাত রহমান কোকোকে শায়িত করার কাজ চলছে। এর আগে ওই স্থানে কোনো কবর ছিল না। এ বিষয়ে আবদুল আলীম নকী জানান, আমরা চেয়েছিলাম যাতে বড় রাস্তার সঙ্গে জায়গা পাওয়া যায়। অনেক চেষ্টার পর জায়গাটির ব্যবস্থা হয়েছে। তবে, কোকোর কবরের নম্বর এখনো নির্ধারিত হয়নি। কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল বারী জানান, একেবারে নতুন কবর হওয়ায় এখনো কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি। দাফন শেষ হলে আমরা একটি নম্বর দেব। কবর খোঁড়ার কাজে নিয়োজিত আছেন আবদুর রহমান, জিতু মিয়া, মো. জসিম, শফিউল্লাহ, জালাল, সৈয়দ আলী, মজিদ মিয়া ও আবদুল কালাম। বর্তমানে কবর খোঁড়ার এক-তৃতীয়াংশ কাজ শেষ হয়েছে। এদিকে, কোকোর দাফন নিয়ে বনানী কবরস্থানে পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামুল হক। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও যাতে কোনো সমস্যা না হয়। একই সঙ্গে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দশ দেন তিনি। সার্বিক নিরাপত্তায় বনানী কবরস্থানে দুই প্লাটুন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানা গেছে। এর আগে, মঙ্গলাবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে সরেজমিন বনানী কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) উত্তরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামুল হক কবর খোঁড়ার নির্দেশ দেন। কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল বারী ওই সময় জানান, কবর খুঁড়তে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে জানান, ‘একজন সাবেক সেনাপ্রধানের সন্তান হিসেবে অধিকার থাকার পরও শুধু রাজনৈতিক কারণে কোকোর লাশ বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাই বনানী কবরস্থানে লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় কোকোর লাশ দেশে পৌঁছে। লাশ গুলশান কার্যালয়ে নেওয়ার পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কিছুক্ষণ রাখা হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মালয়েশিয়ায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতীয় মসজিদ নাগারায় রবিবার দুপুরে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: