৮৬ নম্বর সড়কে পুলিশি ব্যারিকেড

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের উভয়মুখে ব্যারিকেড দিয়েছে পুলিশ।Khalada Office ওই সড়কে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয় রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে যেখানে তিনি অবস্থান করছেন। শনিবার বিকেল থেকে সড়কটিতে কোনো গাড়ি বা কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ৮৬ নম্বর সড়কের উভয়মুখে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয়েছে। এদিকে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে না গিয়ে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় গুলশানে নিজের কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছেন বেগম খালেদা জিয়া। শনিবার বিকালে এই দোয়া মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসন অংশ নেবেন বলে তার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে গুলশান কার্যালয়ে বাদ আসর মিলাদ মাহফিল হবে। সেখানে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকবেন।” প্রতিবছরই বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গর্ব আর শোকের এই দিনটি পালন করা হলেও দিনের মূল কর্মসূচি থাকে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। শনিবারও একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শেষে শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেয়ার পর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণে নামে মানুষের ঢল। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও গত প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তবে এবার শহীদ মিনারে যাননি তিনি। লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া বিএনপি জোটের কোনো দল বা নেতাকেও প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেখা যায়নি। সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে শহীদ বেদীতে ফুল দেন দলের নেতাকর্মীরা। ‘পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও নিরাপত্তাজনিত’ কারণে খালেদা জিয়া এবার শহীদ মিনারে যাননি বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এদিকে জাতীয় শহীদ দিবস উপলক্ষে সকাল থেকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। উত্তোলন করা হয়েছে শোকের কালো পতাকা। গত ৩ জানুয়ারি থেকে এই কার্যালয়ে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। তখন থেকেই দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ বেশ কয়েকজন নেতাও তার সঙ্গে আছেন। এদিকে শনিবারও পুলিশি বাধায় খালেদা জিয়ার জন্য আনা খাবার ওই কার্যালয়ে দিতে পারেননি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের একটি দল। এক পর্যায়ে রাস্তার উপর খাবার রেখে চলে যান তারা। খালেদা জিয়ার জন্য ভাত-মাছ-মাংস, পানি, কলা ও জুস এনেছিলেন তারা। বেলা সোয়া ১২টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার রেজাউর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের উত্তর দিকের মোড়ে পৌঁছালে তাদের পথ আটকায় পুলিশ। এরপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “এটা দুঃখজনক- আমরা আমাদের সাবেক সেনা প্রধানের স্ত্রীর জন্য মানবিক কারণে কিছু খাবার নিয়ে এসেছিলাম, তা সেখানে নিতেও দিচ্ছে না পুলিশ। এমনকি সেগুলো পৌঁছে দিতেও চাচ্ছে না তারা। “এ থেকে বোঝা যায়, পরিস্থিতি এখানে স্বাভাবিক নয়। আমরা গণমাধ্যমে শুনেছিলাম, বেগম জিয়ার কার্যালয়ে খাবার যাচ্ছে না। তা আজ প্রত্যক্ষ করলাম।” সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*