৮টি সরকারি স্কুলের ভর্তিতে বাতিল হওয়া ফলাফল এখনো প্রকাশ করতে পারেনি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ জানুয়ারী ২০১৭, সোমবার: মোবাইল অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের মাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলে ত্রুটি থাকার অভিযোগে মহানগরীর ৮টি সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির ভর্তিতে বাতিল হওয়া ফলাফল এখনো প্রকাশ করতে পারেনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে নবম শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু হাজারো শিক্ষার্থী। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল যাচাইয়ে সহসা শিক্ষাবোর্ডের সাড়া না পাওয়া পুনরায় ফলাফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে।
নগরীর ৮টি সরকারি স্কুলে ৯ম শ্রেণির ৭৫০ আসনের বিপরীতে অনলাইনে আবেদন জমা পড়েছিল ৭ হাজার ৬৪৮টি। জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার নির্দেশনা ছিল। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৪ হাজার ১৩৫ জন শিক্ষার্থী।
উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক সায়রা ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমার ছেলে জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সরকারি স্কুলের ভর্তিতে ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে নবম শ্রেণিতে আমার ছেলে স্থান পেয়েছিল। কিন্তু পরদিন পত্রিকায় দেখলাম ত্রুটিপূর্ণ থাকায় ফলাফল বাতিল করা হয়েছে। ফলাফল বাতিল হওয়ার বিষয় হয়তো এ প্রথম। অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিন থেকে স্কুলে ক্লাস করছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো নবম শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমও শেষ করতে পারেনি।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, টেলিটকের মাধ্যমে প্রকাশিত নবম শ্রেণির ভর্তি ফলাফলে (৫ জানুয়ারি) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছিল। কেননা, ফলাফলে অনেক গোল্ডেন জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী স্থান পায়নি এবং ভর্তিতে তারতম্য দেখা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওইদিনই ফলাফল বাতিল করা হয়। নতুনভাবে ফলাফল প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, জানুয়ারি মাসে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারছেন না। তবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নবম শ্রেণির ভর্তির ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুব হাসান বলেন, নবম শ্রেণির ভর্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির পুনর্নিরীক্ষণের কাজ চলছে। তাই ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নবম শ্রেণির ভর্তির বিষয়টি দেখভাল করা হবে বলে তাদের জানিয়েছি।
এবছর কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৪০ আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ৫৬৮টি। সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪০ আসনে ১২৬০টি, নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫০ আসনে ১৫৮৫টি। চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আসনে ৮০ আসনে ৭৫৯টি, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬০ আসনে ৮২৪টি, হাজী মুহাম্মদ মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০আসনে ৪৫৫টি, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮০ (ছাত্র ৪০ ও ছাত্রী ৪০) আসনে ৮০৭টি (বালক ৫১৩ ও বালিকা ২৯৪), সিটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬০ আসনে ৩৯০টি আবেদন জমা পড়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*