৭২ বছরে কেউ কথা রাখেনি!

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৮ মে ২০১৯, বুধবার: ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সময়ের বিচারে ভারত স্বাধীন হয়েছে ৭২ বছর। এই বাহাত্তর বছরে কেউ কথা রাখেনি। ইতিহাস বলছে, দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিশ্রুতি ছিল সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে তারা কাজ করবে। তাদের জান-মালের নিরাপত্তা দেবে। হিসাব মেলাতে বসলে দেখতে পাবেন, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনেও দেশের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলি সংখ্যালঘুদের একই প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছে।-যুগশঙ্খ
ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলতে ৬টি গোষ্ঠীকে বোঝায়। মুসলিম, খ্রিষ্টান, পারসি, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখ। এদের মধ্যে ৫টি সম্প্রদায়কে ভোটের বোড়ে করা সম্ভব হয় না রাজনৈতিক দলগুলির। কারণ তাদের অধিকাংশই শিক্ষিত এবং সমাজ মনস্ক। ফলে তাদেরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়কে স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলি ব্যবহার করে আসছে। ধর্মের ভিত্তি দেশভাগ হওয়ার কারণেই এই দেশের মুসলিমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকে। আর একে সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করে চলেছে রাজনৈতিক দলগুলি। পুরো ভারতের কথা না হয় বাদই দিলাম খোদ আমাদের পশ্চিমবাংলা যাকে সম্প্রীতির অনন্য রাজ্য বলা হয়ে থাকে। সেখানে সংখ্যালঘুরা সংবিধানে প্রদত্ত অধিকার পেয়েছে?
১৯৪৭-৬৭ একটানা কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল। বিশ বছরে এই রাজ্যের সংখ্যালঘুরা শুধুই উপেক্ষার শিকার হয়েছিল। ৬৪-র ভয়াবহ দাঙ্গায় কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে মুসলিমরা বিতাড়িত হয়েছিল। ইতিহাস বলছে সেদিনের দাঙ্গার নেপথ্যে শাসক কংগ্রেস দলের ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না।
১৯৬৭-৭১ দাঙ্গার ভয়াবহ স্মৃতিকে উসকে দিয়ে কংগ্রেস দলেই ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তৈরি হয়েছিল বাংলা কংগ্রেস। এই বাংলা কংগ্রেসকেই আঁকড়ে ধরেছিল এই রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিমরা। ৬৭ সালে ক্ষমতায় আসে যুক্তফ্রন্ট সরকার, সেই সরকার দু’বছর অতিবাহিত করার পরেই ভেঙে যায়। আবার ক্ষমতায় আসে যুক্তফ্রন্ট সরকার। এবার এই সরকারে সামিল হয় মুসলিম লীগ। সেই সময় মুসলিম লীগ বিধানসভায় ভাল আসন পেয়েছিল।
১৯৭২ সালে সারা ভারতজুড়ে কংগ্রেস হাওয়ায় ভর করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস দল। সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের নেতৃত্বে গঠিত হয় কংগ্রেস মন্ত্রীসভা। এই মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ দফতরের কয়েকটিতে মুসলিম বিধায়কদের মন্ত্রী করা হয়। ফলে কিছুটা হলেও পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন সিদ্ধার্থশংকর রায়। তিনি এরাজ্যের সরকারি চাকরিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের হার অনেকটাই দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র পুলিশেই ৯ শতাংশ চাকরি পেয়েছিল মুসলিমরা।
কিন্ত ৬৪ দাঙ্গার ভয়াবহতা তখনও মুসলিমদের মন থেকে মুছে যায়নি। আর অনেক আগে থেকেই নির্দল সাংসদ সৈয়দ বদরুদ্দোজা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবীরের মত মানুষরা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বামেরা। ৩৪ বছরে বামেদের আমলে সংখ্যালঘুদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। দাঙ্গার ভয় দেখিয়ে, বিজেপির জুজু দেখিয়ে, আর নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতায় থেকেছে বামেরা।
বাম আমলে সংখ্যালঘু সমাজ যেটুকু উন্নয়ন করতে পেরেছে তার নেপথ্যে সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না, বরং সংখ্যালঘু সমাজ নিজেদের তাগিদ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ছিলো।
অথচ স্বীকার করতেই হবে বামেদের ক্ষমতায় টিকে থাকার নেপথ্যে ছিল রাজ্যের মুসলিমদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাদের রক্তের বিনিময়ে বামপন্থীরা এ রাজ্যে ৩৪ বছর ক্ষমতায় টিকে ছিল। খাদ্য আন্দোলনে শহীদ নুরুল ইসলাম লাশ দেখিয়ে বামপন্থীরা সমগ্র রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ঢেউ তুলেছিল ক্ষমতায় আসার পর নুরুলের মাকেই ভুলে গিয়েছিলেন জ্যোতিবাবুরা।
২০১১ ক্ষমতায় এলো তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘুরা সেদিন যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে না দাঁড়াতেন তাহলে হয়তো আজকে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখা যেত না। নন্দীগ্রামের আবদুস সামাদ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মমতা ঝাঁপিয়ে পড়েন নন্দীগ্রামে। আর নন্দীগ্রামের মানুষ তখন সিপিএমের হার্মাদদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এই রকম একজন নেত্রীকে খুঁজছিলেন। যাইহোক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার আগে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কী পূরণ করেছেন? রিজওয়ানুরের মা ইনসাফ পেয়েছেন?
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দশহাজার আন-এডেড মাদ্রাসা করবেন। দিয়েছেন? না মাত্র ২৩৪টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*