৬ দফা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সাহিত্য চর্চা পরিষদ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৭ জুন ২০১৯, শুক্রবার: আজ ৭ জুন ২০১৯ইং শুক্রবার সকাল ১০টায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সাহিত্য চর্চা পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী’র সভাপতিত্বে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শওকত ইমরানের সঞ্চালনায় ছয় দফা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা লালদীঘি পাড় সোনালী হলে অনুষ্টিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর,সাবেক চট্টগ্রাম জেলা গর্ভনর জাকেরুল হক চৌধুরী’র পুত্র, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ নেতা লায়ন মাহ্ফুজুল হক চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার সহ সভাপতি ডাঃ এ কে এম ফজলুল হক সিদ্দিকী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথির চিকিৎসক পরিষদ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ চন্দন দত্ত, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, সভা আরও উপস্থিত ছিলেন আইন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি রেবা বড়ুয়া, কে এইচ এম তারেক, এস এম হাসান, বিলাল হোসেন, কোরবান আলী বাবু, নারীনেত্রী সালমা বেগম নূপুর, টিপলু বড়ুয়া, রফিকুল ইসলাম রুবেল, মোরশেদ চৌধুরী বাহাদুর, মোঃ ফারুক হাসান, সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি বাবুল কান্তি দাশ, সহ সভাপতি উত্তম সরকার পিপলু, আলী ফয়সাল, মোঃ মফিজ, ডি কে দাশ (মামুন), সাংবাদিক কামাল হোসেন, ছাত্রনেতা বোরহান উদ্দিন গিফারী প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ছয় দফার মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আন্দোলন তরান্বিত হয়। ১৯৪৭ সালে লাহোর চুক্তিতে দ্বৈত শাসন না থাকলেও স্বায়ত্তশাসনের স্পষ্টতা ছিল। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানীরা পূর্ব পাকিস্তানীদের সব সময় শোষণ নির্যাতন নিপীড়ন আর শাসন করতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৭ই জুন ছয় দফা ঘোষণা করে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বৈরচারী আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। এর প্রতিবাদে ১৯৬৬ সালের ৭ই জুন পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়। সেদিন তেজগাঁও এলাকায় পিকেটিংয়ের সময় শ্রমিক মনু মিয়াসহ ১১ জন শহীদ হন। এতে বাঙালির মুক্তির আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। আর এই ৬ দফা দাবী চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠ হতেই ঘোষিত হয়। বঙ্গবন্ধু’র ঘোষিত ৬ দফার দূরর্দশি ও যৌক্তিক দাবী ছিল বলে এই দাবীতে বাঙালি একত্রিত হয়ে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলতে সক্ষম হয়েছিল। বাঙালিরা মনে করেছিল এই দাবীতেই আমাদের মুক্তি মিলবে, তাই বাংলার মুক্তি পাগল মানুষ এই ছয় দফার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এক দফা তথা স্বাধীনতার দাবীতে রুপ নেয়। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এই দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তাই ছয় দফাই বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে পরিগণিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*