৫৬টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এক টাকাও পরিশোধ করেনি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ৩১ জুলাই, রবিবার: ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করাকেই নিয়ম বানিয়ে ফেলছেন দেশের কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। ৫৬টি প্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এক টাকাও পরিশোধ করেনি। পুরোটাইcib খেলাপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায়। আরো ১২টি প্রতিষ্ঠান চার হাজার ১৬৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছে মোটে এক হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। বাকি দুই হাজার ৫৪১ কোটি টাকাই খেলাপি। এসব ঋণখেলাপি ব্যক্তি একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন। দেশের শীর্ষ খেলাপি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড ১৫টি ব্যাংক থেকে ৯১৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। এর খেলাপির পরিমাণ ৮০১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়া খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এ তথ্য তুলে ধরেছে সিআইবি। দেখা গেছে, ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপি ৬৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। তাঁরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ১৩ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। পরিশোধ করেছেন মোটে এক হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। বাকি ১১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকাই খেলাপি। সিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে ১০০ কোটি টাকার ওপরে ঋণগ্রহীতাদের ঋণস্থিতির ৮৭.৭৯ শতাংশই খেলাপি। আর এই ৬৮ খেলাপির প্রত্যেকের কাছে গড়ে ব্যাংকগুলোর পাওনা ১৭১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ৫০০ কোটি টাকার ওপরে ঋণ নেওয়া খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ পরিশোধে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ বর্ধিত সময় দেওয়ার অংশ হিসেবে ৪৫টি আবেদনের বিপরীতে ১১টি শিল্প গ্রুপের ১৪ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা ঋণ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এসব ঋণ খেলাপি ছিল। পুনর্গঠন করা না হলে খেলাপিদের তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠান শীর্ষে থাকত। সিআইবির সর্বশেষ তালিকায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপির সংখ্যা এখন ৩। এগুলো হলো মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড, ঢাকা ট্রেডিং হাউস ও ম্যাক্স স্পিনিং মিলস।
১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপির তালিকায় অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. শওকত চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান যমুনা অ্যাগ্রো কেমিক্যালের নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকে ১২০ কোটি ১০ লাখ টাকা নিয়ে কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। এ ছাড়া বেসিক ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকেও প্রতিষ্ঠানটি ৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছে।
জানতে চাইলে শওকত চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসা করলে ঋণ লাগে। ঋণ নিয়েছি। এটা নিয়ে তালিকা করার দরকার কী? আর খেলাপির অভিযোগে আমার নামে মামলা হয়েছে। মামলা চলবে। দুই পক্ষেরই হার-জিতের সম্ভাবনা আছে। এ নিয়ে তাড়াহুড়ার কী আছে?’
গত এপ্রিল মাসের তথ্য নিয়ে সিআইবির করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে এখন সবচেয়ে বড় ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের দাদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ১৫টি ব্যাংক থেকে ৯১৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৮০১ কোটি ৩৪ লাখ টাকাই খেলাপি। কম্পানিটি এবি ব্যাংক থেকে ৬১ কোটি ৯৯ লাখ, অগ্রণী থেকে ২৬০ কোটি ১১ লাখ, ব্যাংক এশিয়া থেকে ৩৬ কোটি ৮৩ লাখ, সিটি ব্যাংক থেকে ৫৬ কোটি ১৪ লাখ, ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে ৭১ কোটি ৮০ লাখ, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫৯ কোটি ২২ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ৫৫ কোটি ৩৯ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ১৪২ কোটি ৭০ লাখ, ওয়ান ব্যাংক থেকে ২৮ কোটি ৫৪ লাখ, পূবালী ব্যাংক থেকে ছয় কোটি ১৯ লাখ ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা নিয়ে এক টাকাও পরিশোধ করেনি। তবে এক্সিম ব্যাংক থেকে ৩৪ কোটি ৯১ লাখ, শাহজালাল থেকে ১৬ কোটি ৯৫ লাখ এবং সাউথইস্ট থেকে ৬১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পুরোটা পরিশোধ করেছে।
মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্সের কোনো কর্তাব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে ভোজ্য তেলের উৎপাদক, আমদানিকারক ও বিপণনকারীদের নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কম্পানিটি এখন আর চালু নেই।
সিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান ঢাকা ট্রেডিং হাউস। প্রতিষ্ঠানটি ছয়টি ব্যাংক থেকে ৫৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এক টাকাও পরিশোধ করেনি। পাট রপ্তানিকারক এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকে ৪৬ কোটি ৭৪ লাখ, বিডিবিএল থেকে ৪২ কোটি সাত লাখ, এক্সিম থেকে ১২৩ কোটি ৫৯ লাখ, জনতা ব্যাংক থেকে ২৮০ কোটি ৫১ লাখ, শাহজালাল ব্যাংক থেকে দুই কোটি ১৭ লাখ এবং সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা নিয়ে কানাকড়িও পরিশোধ করেনি।
দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান হলমার্ক গ্রুপের ম্যাক্স স্পিনিং মিলস। সোনালী ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটি ৫২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এক টাকাও পরিশোধ করেনি। চতুর্থ সর্বোচ্চ খেলাপি প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা স্পিনিং মিলস। এটিও সোনালী ব্যাংক থেকে ৪৭৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা নিয়ে কানাকড়িও ফেরত দেয়নি। এ ছাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে ৩৪৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা নিয়ে এক টাকাও পরিশোধ না করা হলমার্ক ফ্যাশন লিমিটেড পঞ্চম শীর্ষ ঋণখেলাপি।
তালিকায় এর পরের অবস্থানেই রয়েছে শাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি জনতা ব্যাংক থেকে ৩১৩ কোটি টাকা নিয়ে পরিশোধ করেছে মাত্র চার লাখ।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ভিত্তিক এমএম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্টস লিমিটেড ১১টি ব্যাংক থেকে ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এখন ২৮৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা খেলাপি। মোস্তফা গ্রুপের এ প্রতিষ্ঠানটি এবি ব্যাংক থেকে ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ, অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৫৮ কোটি ৬৮ লাখ, বিডিবিএল থেকে ৭৫ কোটি ৭৮ লাখ, কমার্স ব্যাংক থেকে ১৪ কোটি ৭৫ লাখ, জনতা ব্যাংক থেকে ৩০ কোটি ৯১ লাখ, রূপালী ব্যাংক থেকে ২৯ কোটি চার লাখ টাকা নিয়ে এক পয়সাও পরিশোধ করেনি। তবে ঢাকা ব্যাংক থেকে নেওয়া ৮৮ কোটি ছয় লাখ, ইসলামী ব্যাংক থেকে নেওয়া ১০৩ কোটি ৭৮ লাখ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে নেওয়া ১৪ কোটি ১৮ লাখ, সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে নেওয়া ২৯ কোটি ৪৯ লাখ এবং ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে নেওয়া সাত কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণের পুরোটাই পরিশোধ করেছে।
শতভাগ খেলাপি : সালেহ কার্পেট মিলস লিমিটেড অগ্রণী, বিডিবিএল, জনতা ও সোনালী ব্যাংক থেকে ২৭৮ কোটি ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পুরোটাই খেলাপি হয়েছে। আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেড যমুনা, জনতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ২৭০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এক পয়সাও পরিশোধ করেনি। এসকে স্টিল এবি, আল-আরাফাহ্, শাহজালাল ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শতভাগ খেলাপি।
এ ছাড়া টি অ্যান্ড ব্রাদার নিট কম্পোজিট লিমিটেড সোনালী ব্যাংক থেকে ২১২ কোটি ৮২ লাখ, খালেক অ্যান্ড সন্স অগ্রণী ব্যাংক থেকে ২০৬ কোটি ২০ লাখ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১৮৮ কোটি ছয় লাখ, এক্সপার টেক লিমিটেড সোনালী ব্যাংক থেকে ১৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পুরোটাই খেলাপি হয়েছে। শতভাগ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা ওয়ান ডেনিম মিলস লিমিটেড ব্যাংক এশিয়া, সিটি ব্যাংক, ডিবিবিএল, ইস্টার্ন, জনতা ও সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে মোট ১৭৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে।
ওয়াল-মার্ট ফ্যাশন লিমিটেড সোনালী ব্যাংকের ১৭০ কোটি তিন লাখ, এমবিএ গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড জনতা ব্যাংকের ১৬৯ কোটি চার লাখ, ইমদাদুল হক ভূঁইয়া সিটি ব্যাংকের ১৬৩ কোটি ৪০ লাখ, ম্যাক শিপ বিল্ডার্স অগ্রণীর ১৫৯ কোটি ৪৪ লাখ, মাস্টার্ড ট্রেডিং ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৫২ কোটি ৩০ লাখ, হিন্দুল ওয়ালি টেক্সটাইল লিমিটেড জনতার ১৫২ কোটি তিন লাখ, সোনালী জুট মিলস লিমিটেড সোনালী ও উত্তরার ১৪৫ কোটি ৫১ লাখ, দুয়েল অ্যাপারেলস লিমিটেড ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৪৩ কোটি ৫৯ লাখ, এ জামান ব্রাদার্স ঢাকা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও পূবালীর ১৪১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেনি।
মুন বাংলাদেশ লিমিটেড অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১৪০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা নিয়ে কানাকড়িও পরিশোধ করেনি। অবৈধভাবে গ্রুপটিকে ঋণ দিয়ে অগ্রণীর এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদ চাকরিচ্যুত হয়েছেন। মামলা হয়েছে ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেড প্রাইম ব্যাংক থেকে ১৩৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এক টাকাও পরিশোধ করেনি। দুর্নীতি দমন কমিশন কম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এর কর্তাব্যক্তিরা দুবাই পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।
১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে তাবাচ্ছুম এন্টারপ্রাইজ পূবালীর ১৩২ কোটি ৯০ লাখ, আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেড প্রাইম ব্যাংকের ১৩১ কোটি চার লাখ, সিদ্দিক অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেড ওয়ান ও প্রাইম ব্যাংকের ১৩০ কোটি পাঁচ লাখ, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা.) লিমিটেড রূপালীর ১২৯ কোটি ৯৬ লাখ, লাকি শিপ বিল্ডার্স সিটি ব্যাংকের ১২৯ কোটি আট লাখ, টেলিবার্তা লিমিটেড এবি ব্যাংক, ঢাকা, সাউথইস্ট ও উত্তরার ১২৮ কোটি ৭০ লাখ, ডেল্টা সিস্টেমস লিমিটেড বেসিক ব্যাংকের ১২৮ কোটি ৪২ লাখ, পদ্মা ব্লিচিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড কৃষি ব্যাংকের ১২৮ কোটি ৩০ লাখ, দ্য অয়েল টেক্স লিমিটেড বেসিক ব্যাংকের ১২৭ কোটি ৬৯ লাখ, সিদ্দিক ট্রেডার্স অগ্রণীর ১২৩ কোটি ৬৩ লাখ, নিউ রাখি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড সোনালীর ১২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
এ ছাড়া এপোলো ট্রেডিং লিমিটেড ডাচ্-বাংলা ও ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ১২২ কোটি ৫৭ লাখ, অর্জন কার্পেট অ্যান্ড জুট ওয়েভিং মিলস অগ্রণী, বিডিবিএল, জনতা ও সোনালী থেকে ১২২ কোটি সাত লাখ, যমুনা এগ্রো কেমিক্যাল কমার্স ব্যাংক থেকে ১২০ কোটি ১০ লাখ, মাকসুদা স্পিনিং মিল ডাচ্-বাংলা থেকে ১১৯ কোটি ৯৫ লাখ, সুপার সিক্স স্টার শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ইস্টার্ন, প্রাইম, সোস্যাল ইসলামী ও সাউথইস্ট থেকে ১১৯ কোটি ২৩ লাখ, মনোয়ারা ট্রেডিং ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ১১৬ কোটি ৯৩ লাখ, টেকনো ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড বেসিক ও সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ১১৫ কোটি ৩৯ লাখ, ঢাকা টেলিফোন কম্পানি লিমিটেড এবি, অগ্রণী, ডিবিবিএল, এক্সিম, আইএফআইসি, জনতা, মার্কেন্টাইল, প্রিমিয়ার, স্ট্যান্ডার্ড, ইউসিবিএল ও উত্তরা থেকে ১১৩ কোটি ৩৮ লাখ, জাসমির ভেজিটেবল অয়েল জনতা থেকে ১১১ কোটি ৯৩ লাখ, মা টেক্স বেসিক থেকে ১১১ কোটি ২২ লাখ, শাহজালাল থেকে বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেড ১০৯ কোটি ৬৭ লাখ, বেসিক থেকে প্রোফিউশন টেক্সটাইলস লিমিটেড ১১১ কোটি ৯০ লাখ, সাউথইস্ট থেকে মাহবুব স্পিনিং ১০৮ কোটি সাত লাখ, জনতা থেকে গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স ১০৭ কোটি ৮৮ লাখ, রূপালী থেকে জাপান বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং ১০৭ কোটি ৩৮ লাখ, সোনালী থেকে রহিমা ফুড করপোরেশন ১০৫ কোটি ৭৫ লাখ, অগ্রণী থেকে সর্দার অ্যাপারেলস লিমিটেড ১০৫ কোটি ৫৮ লাখ, বেসিক থেকে নিউ অটো ডিফাইন ১০১ কোটি ৮৭ লাখ এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে অনিকা এন্টারপ্রাইজ ১০১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এক পয়সাও পরিশোধ করেনি। এসব কম্পানির নেওয়া ঋণের পুরোটাই খেলাপি হয়ে গেছে। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান আইএফপি সোনালী থেকে ১৩৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ঋণের পুরোটাই খেলাপি হয়েছে। সামান্য পরিশোধ, বাকিটা খেলাপি
শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২টি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে চার হাজার ১৬৬ কোটি টাকা নিয়ে মাত্র এক হাজার ৬২৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড, এমএম ভেজিটেবল অয়েল, সরিশ কম্পোজিট টাওয়েল লিমিটেড ছাড়াও বাকি ৯টি প্রতিষ্ঠানের একটি হলো ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটি এবি, ব্যাংক এশিয়া, সিটি, ডিবিবিএল, প্রাইম, সোস্যাল ইসলামী ও সাউথইস্ট থেকে ৩৩১ কোটি ৭২ লাখ টাকা নিয়েছে। বর্তমানে এর খেলাপির পরিমাণ ১৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এ ছাড়া লিনা পেপার মিলস লিমিটেড অগ্রণী, ব্যাংক এশিয়া, জনতা ও সোনালী থেকে ২১১ কোটি সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ১৫৩ কোটি ৭৯ লাখ। নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেড আইএফআইসি ও জনতা থেকে ৪১২ কোটি ১২ লাখ টাকা নিয়ে আইএফআইসির ১৭০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। তবে জনতার কাছ থেকে নেওয়া ২৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ক্রিস্টাল স্টিলস অ্যান্ড শিপ ব্রেকিং লিমিটেড প্রিমিয়ার থেকে ৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পুরোটা পরিশোধ করলেও বেসিকের ১১৫ কোটি ৬১ লাখ টাকার পুরোটা খেলাপি করেছে। আর বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট থেকে ৯৯ লাখ ও রূপালী থেকে নেওয়া ১১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও ওয়ান ব্যাংকের ২৪০ কোটি ৭১ লাখ টাকার মধ্যে ১১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা খেলাপি হয়েছে।
ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড ঢাকা ব্যাংক থেকে ৪৪ কোটি ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী থেকে তিন কোটি ৮০ লাখ, ইস্টার্ন থেকে ৬৪ লাখ, প্রাইম ব্যাংক থেকে ৫৭ কোটি ২৬ লাখ এবং সাউথইস্ট থেকে ৪০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নিয়ে কোনো অর্থই পরিশোধ করেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১০২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বন্ধ হয়ে যাওয়া জিএমজি এয়ারলাইনস ন্যাশনাল ব্যাংক ১৭০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা নিয়ে তা পরিশোধ করেছে। তবে সোনালী ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির নেওয়া ১৬৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার পুরোটাই খেলাপি হয়েছে। স্কলাস্টিকা লিমিটেডের ঢাকা ব্যাংক থেকে নেওয়া চার কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ হলেও আইএফআইসি থেকে নেওয়া ১৭২ কোটি সাত লাখ টাকার মধ্যে ১৫৬ কোটি ৩৬ লাখই খেলাপি হয়েছে। এ ছাড়া এমকে শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড স্টিল মিলস লিমিটেড সিটি ব্যাংক থেকে ১৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১০৮ কোটি সাত লাখ টাকা খেলাপি হয়েছে। সূত্র: কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*