৪ গুণের বেশি ঋণ আমানত ১০ বছরে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ইংরেজী, বুধবার: সরকারের টানা দুই মেয়াদের শাসনামলে গত ১০ বছরে আগের ১০ বছরের ঋণের আমানত বেড়েছে প্রায় চার গুণের বেশি। গত ১০ বছরে দেশ বদলেছে, গতিশীল হয়েছে অর্থনীতির চাকা। নজরকাড়া অগ্রগতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের সময়কালে বাংলাদেশে এনবিআর রাজস্ব আদায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশের ব্যাংকিং খাত দশ বছরের ব্যবধানে অনেক প্রসারিত হয়েছে। বেড়েছে ব্যাংক ও শাখার সংখ্যা। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোয় যেখানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা, সেখানে চলতি বছর জুনে তা বেড়ে হয়েছে ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা। আর ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। দশ বছরে ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। আর ঋণ বেড়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ উল্লেখিত সময়ে আমানত ও ঋণ বেড়েছে ৪ গুণের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য-উপাত্তে দেখানো হয়েছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের সার্বিক চিত্র ও বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ছিল ৪৭টি কিন্তু দশ বছরে ব্যাংকের সংখ্যা ১১টি বেড়ে ৫৮ হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের মোট শাখা বেড়েছে ৩ হাজার ২২৮টি। ২০০৮ সালে শাখা ছিল ৬ হাজার ৬৮৬টি। এসব শাখাগুলোয় সর্বমোট ৯ কোটি ২১ লাখ সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫৮০ কোটি ডলার থেকে প্রায় ৬ গুণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত ১০ বছরে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ দশমিক ৫৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এ ছাড়া গত দশ বছরে কৃষি খাতে ঋণ ১২ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা, শিল্প খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে দেড় লাখ কোটি টাকা, রপ্তানি ও বাণিজ্যিক ঋণ ৬৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা এবং চলতি মূলধন খাতে ঋণ ৩৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা হয়েছে।
আলোচ্য দশ বছরে অন্তর্ভুক্তিমূলক মুদ্রানীতিও প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে উচ্চপ্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সুদহারও ক্রমেই কমে এসেছে। আর্থিক খাতে সংস্কার, ডিজিটাইইজেশন, মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে অনলাইন সেবা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা। নতুন নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে স্বল্প সুদে ঋণ দিতে ৮ থেকে ১০টি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এসব তহবিল থেকে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তারা স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়তে পারছেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: