৩০০ কোটি টাকার লেনদেন পুঁজিবাজারে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৩ জানুয়ারী ২০১৭, সোমবার: চলতি বছরের শুরু থেকেই যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুঁজিবাজার। লেনদেন হাজার কোটি টাকা পেরিয়ে দুই হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে সাড়ে ছয় বছর পর সূচকও বেড়েছে ৫০০ পয়েন্টের বেশি।
সোমবার বাজার শুরুর পর পর ব্যাপকভাবে কেনাবেচা শুরু হয়। ৩০ মিনিটেই লেনদের ছাড়িয়ে যায় ৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মিনিটে ১০ কোটি টাকা।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত একটানা চার ঘণ্টা লেনদেন চলবে। এই হারে চলতে থাকলে লেনদেন কোথায় গিয়ে ঠেকে তা দেখার বিষয়।
লেনদেনের শুরু থেকেই সূচক বাড়ে গত দিনের চেয়ে বেশি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আগের দিনের তুলনায় ডিএসই সাধারণ সূচক বেড়েছে ৫০ পয়েন্ট। বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম।
এই সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান ব্যাংকিং খাতের। প্রথম আধা ঘণ্টায় এই খাতের সব কটি শেয়ারের দাম বাড়ে প্রথম ৩০ মিনিটে।
২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ধসের পর এই পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। বাজার বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে সতর্কভাবে বিনিয়োগ করতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে আর মূল ভিত্তি বিবেচনায় রেখে শেয়ার কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষও গত বৃহস্পতিবার মিট দ্য প্রেসে একই আহ্বান জানিয়েছে। তবে তারা পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক উত্থানকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না। তারা বলছেন, গত ছয় বছরে বিশেষ করে ব্যাংকের শেয়ারের দাম তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল। মৌলভিত্তিসম্পন্ন এই শেয়ারের প্রতি আগ্রহ ফিরে পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ জন্যই সূচক বাড়ছে।
তবে ধার দেনা করে বা অলঙ্কার বেঁচে বা জমি বন্ধক রেখে পুঁজিবাজারে না আসতে সতর্ক করে দিয়েছিলেন তারা। বাজার উত্থানকে কেন্দ্র করে ১৯৯৬ এবং ২০০৯-১০ সালে বহু মানুষ হুজুগে বিনিয়োগ করে সর্বশাস্ত হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাজারে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পুঁজিবাজারে সতর্ক হয়ে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন হুজুগে মেতে বিনিয়োগ করে পরে সরকারকে আর অর্থমন্ত্রীকে সব দোষ দিলে তা মেনে নেয়া হবে না।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অবশ্য বলেছেন দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। এ জন্য বাজার ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। আর আগামী তিন বছরে বাজার একটি শক্তিশালী অবস্থানে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*