১৯ জানুয়ারি সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধী সুন্নি মহাসমাবেশ

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারী ২০১৭ শনিবার: বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সুরক্ষা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরী, বিশ্বব্যাপী মুসলিম গণহত্যা বন্ধের দাবী ও ইসলামের শান্তির বাণী সর্বস্তরের জনতার নিকট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আগামী ১৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় লালদীঘি ময়দানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে দেশব্যাপী অনুষ্ঠেয় মহাসমাবেশের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় সুন্নি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে আজ ১৪জানুয়ারী শনিবার দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটির সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- আহলে সুন্নাত সমন্বয় কমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য স.উ.ম আবদুস সামাদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- সাম্প্রতিক সময়ে নাসিরনগর সহ বেশ কিছু জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপর যে পরিকল্পিত হামলা হয়েছে এতে জড়িত দুষ্কৃতিকারী এবং পরিকল্পনাকারীদের কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি এবং নিরীহ মানুষের উপর একই অভিযোগে হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানাচ্ছি। সন্ত্রাসবাদ, তথাকথিত জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের দল, মতের উর্ধে ওঠে দমন করতে হবে, এদের জাতিয় শত্র“ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এদের পৃষ্ঠপোষক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর নজরদারি বাড়াতে হবে। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সকল জঙ্গি হামলা এবং হত্যাকান্ডের বিচার করতে হবে। আজ দেশে অনেক জঙ্গিহামলাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয় বটে, কিন্তু আল্লামা ফারুকি সহ বিভিন্ন পীর-ফকির হত্যাকান্ডের বিচারের ক্ষেত্রে এক ধরনের ধীরে চলো নীতি অনুসৃত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে-যা শান্তিপ্রিয় সূফিবাদী সুন্নি মুসলমানদের হতাশ করার পাশাপাশি সন্দেহপ্রবন করে তুলছে। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি-এ সন্দেহ দূর করতে হবে। আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, দরবার-দরগাহ-খানকাহ’র প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে জঙ্গি ও সম্প্রীতি বিনষ্টকারী চক্রের বিরুদ্ধে জাতিয় মোর্চা গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করি। দেশের শিক্ষানীতি এবং পাঠ্যবই যেন ইসলামি মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক না হয় সে বিষয়ে নজরদারি রাখতে হবে-অন্যথায় জঙ্গিবাদ বার বার গর্জে ওঠার সাহস পাবে। সাথে সাথে ইসলাম অবমাননাকর যে কোন তৎপরতা কঠিন শাস্তির আওতায় আনার দাবি আবারো জানাচ্ছি। ধর্ম অবমাননাকর পদক্ষেপই এ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ক্ষেত্রে এবং জঙ্গিবাদ উস্কানিতে বেশি কার্যকর ছিল বলে আমরা জানি-তাই এ বিষয়ে কঠিন আইন এবং শাস্তির চাপ না থাকলে, শুধু নসীহত করে শান্তিÍ প্রতিষ্ঠা সহজ হবেনা। এ সব বিষয়ে দরকার সরকারের আন্তরিকতা এবং গনসচেতনতা-যা মিডিয়ার সহযোগিতা ছাড়া আলোর মুখ দেখা কঠিন। তাই তিনি প্রশাসন, মিডিয়াসহ সর্বস্তরের দেশবাসীকে ১৯ জানুয়ারী মহাসমাবেশ সফল করার আহক্ষান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবারের মহাসমাবেশে ২০১৩ সালের ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সুন্নি মহাসমাবেশের চেয়ে অধিক সমাগম হবে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন- প্রধান সমন্বয়ক মাওলানা এম.এ. মতিন। উপস্থিত ছিলেন মাওলানা এম.এ. মান্নান, স.উ.ম আবদুস সামাদ, অধ্যক্ষ তৈয়ব আলী, নুরুল ইসলাম জেহাদী, মাওলানা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ্, এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, মাস্টার আবুল হোসেন, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, হাবিবুল মোস্তফা সিদ্দিকী, মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, মাছুমুর রশিদ কাদেরী, মারুফ রেজা, খোরশেদুল ইসলাম সুমন, মিজানুর রহমান, নাছির উদ্দিন রুবেল প্রমুখ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: