১০ মাসে ২৯০ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনা অব্যাহত রয়েছেDalar। গেল সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৯০ কোটি (২.৯ বিলিয়ন) ডলার কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত অর্থবছরে কিনেছিল ৪৭৯ কোটি ডলার। আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে বর্তমানে ৭৭.৮০ টাকায় ডলার কেনাবেচা হচ্ছে। গত ৪ মাস ধরে টাকা-ডলারের বিনিময় হার এই একই দরে স্থির রয়েছে। রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে বলে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলেন, বাজার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনা-বেচা নিয়মিত ব্যাপার। বাজার স্থিতিশীল রাখতেই ডলার কেনা হচ্ছে। বর্তমানে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, যখন প্রয়োজন পড়বে অর্থাৎ বাজারে ডলারের প্রয়োজন হবে তখন বিক্রি করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ১০ মাসে (গত বছরের ১লা জুলাই থেকে ৫ই মে পর্যন্ত) বাজার থেকে মোট ২৯০ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছরের শেষদিকে বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কিছু ডলার বিক্রিও করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১২ সালের প্রথম দিকে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ৮৫ টাকায় উঠেছিল। এরপর থেকে তা কমতে কমতে ২০১৩ সালের শুরুতে ৮০ টাকার নিচে নেমে আসে। ব্যাংকগুলোতে এই বিনিময় হারে সামান্য গড়মিল থাকলেও আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত বছরের অক্টোবরে ৭৭.৪০টাকায় নেমে এসেছিল। এরপর তা কিছুটা বেড়ে গত জানুয়ারি থেকে ৭৭.৮০ টাকায় স্থির রয়েছে। ২০০৩ সালে বাংলাদেশে ভাসমান মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা (ফ্লোটিং) চালু হয়। অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বাজারের উপর ছেড়ে দেয়া হয়। তার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার-টাকার বিনিময় হার ঠিক করে দিত। সে দরেই ডলার লেনদেন হতো। এদিকে এপ্রিল মাসে ১২৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে অর্থাৎ জুলাই-এপ্রিল সময়ে এক হাজার ২৫৫ কোটি ২০ লাখ (১২.৫৫ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে তা ৬.৪% বেশি। অর্থবছর শেষে রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৪.২৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিছিলেন প্রবাসীরা। তার আগের বছরে (২০১২-১৩) পাঠান ১৪.৪৬ বিলিয়ন ডলার। মার্চ মাসে রেমিটেন্স এসেছিল ১৩৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। একক মাস হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে; ১৪৯ কোটি ২৫ লাখ ডলার। অন্যদিকে সর্বশেষ গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪.০৮ বিলিয়ন ডলারে। ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। চলতি সপ্তাহে এশিয়ানক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১০০ কোটি ডলারের বেশি আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ কমে আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সূত্র : শীর্ষ নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*