হোটেল বয় থেকে কোটিপতি

চন্দনাইশ সংবাদদাতা, ০৮ অক্টোবর ২০১৯ ইংরেজী, মঙ্গলবার: চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবের পিয়ন মনছুর হোটেল বয় থেকে কোটিপতি। চন্দনাইশ পৌর এলাকায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতি আলিশান ৪ তলা বাড়ি, নগরীতে রয়েছে ড্রাইভিং স্কুল। তার পিতা সিরাজুল ইসলাম একজন রিক্সা চালক।
জানা যায়, হারলার রিক্সা চালক সিরাজুল ইসলামের ১ম স্ত্রী’র ১ম ছেলে আবুল মনছুর প্রকাশ মিন্টু (৩৫)। কাওমি মাদ্রাসা থেকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। প্রথমে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় হোটেল বয় হিসেবে চাকুরী নেয়। পরবর্তীতে এলাকার এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে নগরীর সৈনিক ক্লাবে চাকুরী পায়। সেখান থেকে ১২ বছর পূর্বে অন্য এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় আবাহনী লিমিটেড (চট্টগ্রাম) এ পিয়ন হিসেবে যোগদান করে। তার পিতা সিরাজুল ইসলাম ২য় বিয়ে করে সরকারের দেয়া হাশিমপুর গুচ্ছগ্রামে বসবাস করে। বর্তমানেও রিক্সা চালিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন তিনি।


বিগত ১২ বছরে মনছুর চন্দনাইশ পৌরসভার নয়াহাট এলাকায় ২ বছর পূর্বে জনৈক ওসমান চৌধুরীর নিকট থেকে ৬ শতক জমি ক্রয় করে মাটি ভরাট করে। পরবর্তীতে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ তলার ফাউন্ডেশন দিয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট পাকা দালান নির্মাণ করে। তবে দালানের নীচ তলা সম্পন্ন করলেও ২য় থেকে ৪র্থ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি। ৪ তলায় একটি আলিশান কক্ষ নির্মাণ করা হয়, যেখানে মনছুর বাড়িতে বেড়াতে আসলে থাকে। নীচ তলায় ভবনের ভিতরে বাহিরে টাইলস লাগিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে তুলে। তার ঘরের দরজাগুলি ব্যয়বহুল এবং দৃষ্টিনন্দন। একইভাবে ঘরে রাখা ফার্নিচারগুলো অনেক নামী-দামী এবং ভিআইপি ডিজাইনের।

স্থানীয়দের মতে মনছুরের রয়েছে চৌধুরী পাড়া এলাকায় ২স্পটে ২০ শতকের অধিক জায়গা ক্রয়কৃত জমিতে মাটি ভরাট করে গাছ রোপন করে। চন্দনাইশের পাহাড়ী এলাকায় বেশ কিছু জায়গা ক্রয় করেছে, তার মালিকানাধীন ২টি ডাম্পার গাড়ি, ১টি মোটর বাইক, একটি বিমান শো-হাইচ রয়েছে। এ সকল ব্যাপারে মনছুর জানান, সে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে হালিশহর আবাহনী ক্লাবে পিয়ন হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় পরে বহদ্দারহাট এলাকায় হোটেল বয় হিসেবে কাজ করে। পরবর্তীতে এলাকার এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় নগরীর সৈনিক ক্লাবে কাজ পায়। পরে আবাহনী ক্লাবে যোগদিয়ে দৈনিক ২ থেকে ৫ হাজার, কোন কোন সময় ১০ হাজার টাকার অধিক বকসিস পেতেন বলে জানান। তবে তাদের মাসিক কোন বেতন ভাতা ছিল না।

এভাবে তাদের সাথে ৪৪ জন পিয়ন এ ক্লাবে কাজ করত। এর আগে মনছুর তার মা-ভাই নিয়ে তার নানার বাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত। সে আরও জানান, সিআরবি’তে একটি ড্রাইভিং স্কুল আছে। সেখানে ২টি কারগাড়ি রয়েছে, তার ডাম্পার গাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছে। নয়াহাটের পাশে ৬ শতক জমি ক্রয় করে মাটি ভরাট করে ৪ তলা বাড়ি নির্মাণ করতে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ব্যাংকেও বর্তমানে কিছু টাকা জমা রয়েছে। তবে ঘরের কাজ সম্পন্ন করা মত টাকা না থাকায় ঘরের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না বলে জানান। হাইচ গাড়ি এবং পাহাড়ে জায়গা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। ড্রাইভিং স্কুলটি ৩ জনে মিলে করেছে, স্কুলে থাকা ২টি কার গাড়ির মূল্য ৪ লক্ষ টাকা বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*