হিজড়া সিন্টু বাগুই ভারতের বিচারকের আসনে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১০ মার্চ ২০১৯ ইংরেজী, রবিবার: তার জন্ম এক যৌনপল্লীতে, তার ওপর তিনি হিজড়া। এই দুটি কারণে ছোটবেলা থেকেই প্রতিকূল পরিবেশে কাটাতে হয়েছে তাকে। তবে সব প্রতিকূলতা জয় করে বিচারকের আসনে আসীন হন সিন্টু বাগুই। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুরের শেওড়াফুলির বাসিন্দা তিনি। শনিবার শ্রীরামপুরের লোক আদালতের বিচারক হিসেবে আসীন হন তিনি। বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর সিন্টু বলেন, ‘যৌনকর্মীর সন্তান এবং হিজড়া হিসেবে সম্ভবত আমিই প্রথম এই দায়িত্ব পালন করলাম। আত্মবিশ্বাস বাড়ল।’ খবর আনন্দবাজারের। আদালতে জমে থাকা কিছু মামলা বা লঘু অপরাধ এবং মামলার পূর্বাবস্থায় থাকা বিষয়ের নিষ্পত্তি হয় লোক আদালতে। প্রাক্তন বা বর্তমান বিচারক, আইনজীবী এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি বিচারক হন। শনিবার ছিল জাতীয় লোক আদালত। হুগলি জেলার চার মহকুমায় লোক আদালত বসেছিল। সম্প্রতি হুগলি জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (ডালসা) তরফে সমাজকর্মী হিসেবে সিন্টুকে বিচারকের আসনে বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। শ্রীরামপুরে লোক আদালতের পাঁচটি বেঞ্চ বসেছিল। তার একটির বিচারক সিন্টু। দেড় বছর আগে এখানেই লোক আদালতের বিচারক ছিলেন হিজড়া শ্যাম ঘোষও। শনিবার সিন্টুর সঙ্গে ছিলেন ‘ডালসা’র সচিব অনির্বাণ রায় ও আইনজীবী অংশুমান চক্রবর্তী। অনির্বাণ জানান, ওই বেঞ্চে বিএসএনএল সংক্রান্ত প্রায় আড়াইশো বিষয়ের বেশির ভাগই নিষ্পত্তি হয়েছে। সিন্টু অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিন্টুর কথায়, ‘স্যার (অনির্বাণবাবু) নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ভরসা রেখেছেন। কোনও অসুবিধা হয়নি।’
সিন্টু জানান, দশ বছর বয়স থেকে তার মধ্যে ‘মেয়েলি’ ভাব প্রকট হতে থাকে। এ নিয়ে বাড়িতে বকুনি শুনতে হয়েছে, মারও খেতে হয়েছে। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পরে ক্রমশ জড়িয়েছেন রূপান্তরকামীদের আন্দোলনে। তাঁর কথায়, ‘আন্দোলনের সূত্রে অনেক জায়গায় যেতে হয়। নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরি। এক সময় টিপ্পনী করতেন, এমন অনেকেই আজ উৎসাহ দেন। বাড়ির পরিবেশও সহজ হয়ে গিয়েছে। আমার সাফল্যে বাড়ির সবাই খুশি। দিদি নিজে আমাকে শাড়ি পড়িয়ে দেয়।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: