হাসপাতালে এখনো ঈদের শুভেচ্ছা ব্যানার শোভা পাচ্ছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক , ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার: ‘নির্বাচন তো শেষ হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ হতে চললো তবুও কেন পাস্টার অপসারণ করা হচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোখে কি এগুলো পড়ে না। হাসপাতালের চিকিৎসার অনুকূল পরিবেশ রক্ষায় রাজনীতি টেনে আনা ঠিক হচ্ছে না।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এক সিনিয়র চিকিৎসক হাসপাতালের এক কর্মচারীকে লক্ষ্য করে পোস্টার অপসারণ না হওয়ায় এভাবেই ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন।
ক্যাজুয়েলটি ভবনের একটি পোস্টার দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের প্রাক্কালে শুভেচ্ছা জানিয়ে সাঁটানো পোস্টার এখনো দেয়ালে ঝুলছে।’ এটা শুধু এদেশেই সম্ভব বলে বিড়বিড় করতে করতে গাড়িতে উঠে চলে যান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের চৌহদ্দি-জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, এক্সরে বিভাগ, নার্সিং কলেজ ও ঢামেক ক্যাম্পাসের সর্বত্র এখনো নির্বাচনী পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে আছে। অধিকাংশ স্থানে গত ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের ‘দৃষ্টিকটু’পোস্টার ঝুলছে। শুধু বাইরেই নয়, হাসপাতালের ভেতরেও এখনো পোস্টার রয়েছে।
হাসপাতালের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, পোস্টারগুলো এমনভাবে সাঁটানো হয়েছে যে এগুলো চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে-খুঁচিয়ে তুলতে হচ্ছে। ফলে সময় বেশি লাগছে।
এসব পোস্টার অপসারণ না হওয়ায় ক্ষোভ শুধু হাসপাতালের চিকিৎসকের একার নয়, হাসপাতালে কর্মরত শত শত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও ক্ষুব্দ। যাদের পোস্টার সাঁটানো রয়েছে তারা সরকারদলীয় প্রভাবশালী ডাক্তার ও নার্স হওয়ায় প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান বলে জানান।
কোথাও কোথাও ঝুলছে ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) প্যানেলের প্রার্থীদের। এছাড়া ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে চিকিৎসক ও নার্স নেতাদের পোস্টার ও ব্যানারও শোভা পাচ্ছে।
পোস্টার অপসারণের ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. খাজা মো. আবদুল গফুর বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে গোটা হাসপাতালের পোস্টার-ব্যানার অপসারণ করা হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: