হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ২ : শিক্ষকসহ আহত ১০

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : দিনাজপুরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েHazi Danas আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় মিল্টন ও জাকারিয়া নামে দুই ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছাত্র-শিক্ষকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি মিটিং করে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নিহত মিল্টন পশু চিকিৎসা বিভাগের এবং জাকারিয়া বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখার আহমেদ রিয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার রায় সিটনের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ নূর হোসেন হল দখল করে নেয়। এদিকে রিয়েল ও সিটনের দখলকৃত নূর হোসেন হলের দখল পুনরায় ফিরে পেতে অপর গ্রুপ হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক জেমি, শেখ রাসেল হলের সভাপতি পলাশ ও ছাত্রলীগ নেতা নয়নের নেতৃত্বে পাল্টা হামলা চালালে পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখার আহমেদ রিয়েল অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পুলিশ ও বহিষ্কৃত নেতা জেমি, পলাশ, নয়নসহ ছাত্রদল ও শিবিরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় পুলিশ ও বহিষ্কৃত নেতাদের গুলিতে মিল্টন ও জাকারিয়া নিহত এবং জাহিদ, সিফাতসহ পাঁচ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক জেমি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে সেমিনার চলাকালীন সময়ে রিয়েল ও সিটনের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভিসিসহ সকলের উপর হামলা চালায়। আমরা আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিই। এ সময় পুলিশ তাদের প্রতিহত করতে আসলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এই মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। হাবিপ্রবির প্রক্টর এটিএম শফিকুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষে আহত ৭-৮ জনকে আমরা উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তবে এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম খালেকুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে কতজন হাতহত হয়েছেন তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে ছাত্রলীগের ৩ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে গত ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। দীর্ঘ ১ মাস ১২ দিন পর গত ১১ জানুয়ারি খুলে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি আবাসিক হল। ওইদিন কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয় হাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর একটি গ্রুপ শিক্ষকদের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ নিয়ে গত ১৮ জানুয়ারি সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন রিয়েল ও সিটন গ্রুপ। সূত্র : শীর্ষ নিউজ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*