হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ০৩ জুন ২০১৭, শনিবার: পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। ফসল নষ্ট হওয়ার প্রভাব পড়েছে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম ধান-চালের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে। দেশের এই বৃহৎ ধানের মোকামে ধানের আমদানি নেমে এসেছে অর্ধেকে। তা ছাড়া যে পরিমাণ ধান বাজারে আসছে তার গুণগত মানও তেমন একটা ভালো নয়। এসব ধান থেকে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে তা খুবই নি¤œমানের। তারপরও নিরুপায় হয়ে চাতালকল মালিকরা এসব ধান কিনছেন। আর এসব নিম্নমানের ধান নিয়ে দুচিন্তায় পড়েছে চাতালকল মালিকরা। তাদের দাবি এই ধান ক্রয় করে চালে রূপান্তরিত করতে গিয়ে প্রতি চালানেই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ধান ব্যবসায়ী ও চাতালকল মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহৎ ধান-চালের মোকাম হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ। এখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ হাওরাঞ্চলের কৃষকরা নৌকা দিয়ে ধান বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। প্রতি বছরই বোরো মওসুমে এই বৃহৎ ধানের মোকামে ব্যস্ততা থাকলেও এবারের চিত্রটা ভিন্ন। যেখানে প্রতিদিন ৬০-৭০ হাজার মণ ধান বাজারে বেচাকেনা হতো সেখানে এই বছর ধানের আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর যেসব ধান আসছে তার গুণগত মানও তেমন একটা ভালো না। উজান থেকে নেমে আসা পানিতে হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় এসব জমির ধান খুবই নিম্নমানের। এই কারণেই আশুগঞ্জ মোকামে ক্রেতাদের ভিড়ও নেই আগের মতো। আর এর পুরোপুরি প্রভাব পড়েছে উপজেলার চাতালকলগুলোতে। এসব চাতালকলে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যেও নেই ব্যস্ততা। চলতি বছর খাদ্য গুদামে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানও ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আশুগঞ্জ উপজেলা চাতালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ জানান, আশুগঞ্জ মোকামে যেখানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হতো সেখানে ১৫-২০ হাজার মণের বেশি ধান আমদানিই হচ্ছে না। আর বাজারে যে ধান আমদানি হচ্ছে তাও আবার খুবই নিম্নমানের। প্রতি মণ ধান মোটা ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা এবং চিকন ধান ৬০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব ধানে অন্যান্য বছরের তুলনায় মণপ্রতি আট থেকে ১০ কেজি করে চাল উৎপাদন কম হচ্ছে। যার কারণে ধান-চাল ও চাতালকল ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।
জেলা চাতালকল মালিক সমিতির নেতা কামরুজ্জামান রিপন জানান, ধানের আমদানি কম থাকায় এবং ধান থেকে চাল রূপান্তর করতে খরচ বেশি হওয়ায় অনেক চাতালকল এখন পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার এবার চালের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে সে মূল্যে আমাদের পক্ষে গুদামে চাল দেয়া সম্ভব হবে না। কারণ এই নি¤œমানের ধান কিনে চালে রূপান্তর করে প্রতি কেজি চালের দাম পড়ে ৩৮ টাকা। গুদামে চাল দিলে প্রতি কেজিতে চার টাকা লোকসান দিতে হবে।
জেলা চাতালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো: জিয়াউল করিম খান সাজু জানান, বর্তমানে আশুগঞ্জ মোকামে ধানের আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর অল্প পরিমাণ যে ধান আসছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এ ছাড়া এসব ধান থেকে যে চাল উৎপাদন হচ্ছে তাতে করে চাতালকল মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ধানের অভাবে চাতালকলগুলো বন্ধ করে দেয়া ছাড়া ব্যবসায়ীদের আর কোনো উপায় থাকবে না। অচিরেই সরকারকে ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে চালের দাম নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে।
আশুগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, এই গুদামের অধীনে সিদ্ধ ৯ হাজার ১৬২ টন আর আতব তিন হাজার ৩৭৮ টন চাল সংগ্রহ করা হয়। সরকারিভাবে বোরো মওসুমে সিদ্ধ চাল ৩৪ টাকা আর আতব চালের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৩ টাকা। স্থানীয় মোকামে ৪০ টাকার নিচে চাল পাওয়া যায় না। লোকসান দিয়ে সরকারি গুদামে চাল দিতে আগ্রহী নন ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*