হজযাত্রী নিবন্ধন নিয়ে হাব-ধর্ম মন্ত্রণালয় মুখোমুখি

হজযাত্রী নিবন্ধন নিয়ে হাব-ধর্ম মন্ত্রণালয় মুখোমুখি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : হজযাত্রী নিবন্ধন ফি ও প্রক্রিয়া নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাব (হজ্জ এজেন্সীজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) ও ধর্ম মন্ত্রণালয়।
পরিবর্তিত হজ ব্যবস্থাপনায় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত হজযাত্রীদের এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) নম্বর দিয়ে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের সময় বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের এক লাখ ৪৮ হাজার ৩৩১ টাকা জমা দিতে হবে। বাকি টাকা দিতে হবে ১০ জুনের মধ্যে।
গত ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ হবে দুই লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৬ টাকা। হজ এজেন্সিগুলো সর্বোচ্চ দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে।
হাবের নেতারা বলছেন, শুধু মোয়াল্লেম ফি (২৩ হাজার টাকা) নিয়ে হজযাত্রী নিবন্ধনের সুযোগ রাখতে হবে। একই সঙ্গে এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) বাধ্যতামূলক না করে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে হাব। হজ ব্যবস্থাপনা এগিয়ে আনার পরিপ্রেক্ষিতে টাকা জমার এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে হজযাত্রীর সংখ্যা গত হজের অর্ধেকও হবে না বলে দাবি করছে হজ এজেন্সি মালিকরা।
ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতি বছরই হজযাত্রীরা কিছু এজেন্সির প্রতারণার শিকার হন। এ এজেন্সিগুলো টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। এতে সরকারের ভারমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। পরে সরকারকেই টাকা খরচ করে প্রতারণার শিকার হজযাত্রীদের হজে পাঠাতে হয়। এ অবস্থা এড়াতে এবার বিমান ভাড়া মোয়াল্লেম ফিসহ আরও কিছু ফি রেজিস্ট্রেশনের সময় রেখে দেওয়া হবে।

হাবের সভাপতি ইব্রাহিম বাহার নিউজগার্ডের্নকে বলেন, আমাদের বেশিরভাগ হজযাত্রী গ্রামগঞ্জের, তারা সচ্ছল নয়। দেড় লাখ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হলে এবার ১০ হাজার হজযাত্রীও হবে না।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক দাবি করে তিনি বলেন, ‘হজ প্যাকেজ তৈরিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আমরা যে মতামত দিয়েছি, তা তারা রাখেনি। আমাদের মত ছিল ৩০ হাজার টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে বাকি টাকা কয়েকটি কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে।’
এমআরপির পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ রাখারও দাবি জানান তিনি। ইব্রাহিম বাহার বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কাগজ পাওয়ার পর আমরা প্যাকেজ ঘোষণা করব। আমাদের দাবি মেনে না নিলে হজযাত্রীদের স্বার্থে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইব।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (হজ) জাহাংগীর আলম নিউজগার্ডেনকে বলেন, হজযাত্রীদের প্রতারণা থেকে বাঁচাতে সরকার নিবন্ধনের সময় দেড় লাখ টাকার মতো ফি পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাব ব্যবসার কথা চিন্তা করবে, আর সরকার জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করবে এটাই স্বাভাবিক। হাবের দাবি মেনে নেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
নতুন ব্যবস্থাপনার কারণে হজযাত্রী কমবে কিনা, জানতে চাইলে উপ-সচিব বলেন, কিছু সমস্যা হয়ত হবে। তবে হজযাত্রী কমবে বলে তো মনে হয় না। এ ছাড়া সৌদি আরবে এক লাখ হজযাত্রী পাঠাতেই হবে এমন কোনো নিয়মও তো নেই। যারা নিয়ম মেনে আবেদন করবেন তারাই শুধু হজে যাবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়াও উদ্বোধন করা হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন জানান। ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান এতে উপস্থিত থাকবেন।
আগামী বছরের ২২ সেপ্টেম্বর (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৯ জিলহ্জ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কোটা অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজ পালন করতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে ৯১ হাজার ৭৫৮ জনের হজ পালন করার সুযোগ রয়েছে।
এবার সৌদি সরকার ইলেকট্রনিক হজ ব্যবস্থাপনার আওতায় হজযাত্রীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো বাধ্যতামূলক করেছে। এ জন্য হজের কার্যক্রম এগিয়ে আনা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় চলতি বছরের হজ প্যাকেজ অনুমোদন দেওয়া হয় ১০ মার্চ। হজের টাকা জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল গত ১ জুন।
কিন্তু আগামী বছরের হজ প্যাকেজ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয় গত ৮ ডিসেম্বর। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হবে তিন লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা। অপরদিকে সাশ্রয়ী প্যাকেজ-২ এর মাধ্যমে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা খরচ হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: