সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর আকুতি

জিয়াউল হাসান, ২৩ জানুয়ারী ২০১৯ ইংরেজী, বুধবার: মেয়র, আমরা জানি আপনারা অনেক বড় বড় প্রকল্প নিয়ে ভাবছেন এবং বাস্তবায়ন করবেন ইনশাআল্লাহ। আপনি দায়িত্ব গ্রহনের সাথে সাথে আপনার বিলবোর্ড অপসারণ কর্মসুচি আমাদের জনসাধারনের কাছে অসাধারন একটি পদক্ষেপ ছিল। সেদিন কিন্তু আমরা নগরবাসী অনেক আশান্বিত হয়েছিলাম পরিবর্তনের।
বর্তমান সময়ের সবচে বড় সমস্যা পুরো নগরে বিশৃঙ্খল যানের চলাচল। একমাত্র আপনিই পারেন কঠোর হস্তে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। আমরা বাঙ্গালীরা অনেক বেশি আবেগ প্রবন এবং স্বার্থপর তাই বাস্তবিক চিন্তাধারা থেকে অনেক দুরে থাকি।
প্রিয় মেয়র, কিছু পদক্ষেপ এখনই না নিলেই নয়। আজ মানুষের জনজীবন অস্থির হয়ে উঠেছে সড়কের নৈরাজ্যতায়। এখানে যে যেমন খুশি অন্য শহর হতে এসে অসৎ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ছে। মাদক – সন্ত্রাস রাহাজানি বাড়ছে। যার মন চায় সে ভ্যান নিয়ে হকারী করছে বা রিক্সা – সিএনজি নিয়ে সড়কে নেমে পড়ছে।
মাননিয় মেয়র, এভাবে তো একটা পুরনো অতি গুরুত্বপূর্ণ শহর চলতে পারে না। আমাদের শহরটি ভৌগলিক কারনে অনেক বেশি উন্নয়নের দাবীদার। আমরা পর্যটন শিল্পে অন্যান্য যেকোন দেশের তুলনায় অনেকবেশি অগ্রসর হতে পারি। সেকারণেই, এখানে বসবাস করতে হলে প্রতিটি মানুষকে অনেকবেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। আজ যারা হকিং করছে, রিক্সা-সিএনজি চালিয়ে বিশৃঙ্খলভাবে অস্থির জীবনযাপন করে নগরজীবন অতিস্ট করে তুলছে তাদের খুব সহজেই অন্য পেশায় নিয়োজিত করা যায়। শুধু প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক এবং সময়োপযোগি পরিকল্পনা ও সঠিক বাস্তবায়ন।
কিছু যুগোপযোগি কার্যাদি বাস্তবায়নের অনুরোধপত্র। সকল মুল সড়ক হতে রিক্সা বাতিল করাটা প্রথম এবং প্রধান কাজ, সি এন জির সংখ্যা পরিমিত করে এর মালিকানা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যেমন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, শারিরীক প্রতিবন্ধী, অসহায় যেকোন পরিবার ও অন্যান্যরা যাচাই বাছাইয়ের পর। পরিবহনখাতের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য কে রহিতকরণ বিশেষভাবে বিবেচ্য। গণপরিবহন ব্যবস্থা সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালন এবং ব্যবস্থাপনার দ্বায়ীত্ব যেকোন অভিজ্ঞ বেসরকারী প্রতিস্ঠানকে দেওয়া।যাতে সঠিক রাজস্ব আদায় হবে, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরন এবং শতভাগ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যাবে । সেইসাথে যোগ্য লোকের কর্মসংস্থানও বেড়ে যাবে। পাশাপাশি গণপরিবহন অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু কম্পানির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ।ফুটপাত হতে হকার মুক্ত করে কিছু নির্দিস্ট এলাকায় ভাসমান রাতের মার্কেট তৈরী করে দেওয়া যেতে পারে। সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ফুটপাতগুলো পুরোপুরি লোহার বেস্টনি ঘেরা করে ফেলা যাতে সড়কের যেকোন স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়া রোধ করা যায় এবং পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ তৈরী করে দেওয়া।
মাননিয় মেয়র, উপরের কাজগুলো করতে অনেক বেশি টাকার এবং সময়েরও প্রয়োজন নেই কিন্তু দক্ষ-পরিশ্রমী-উদ্যমী এবং দেশপ্রেমিক একদল কর্মী বাহিনী লাগবে যারা পরিকল্পনামাফিক সকল সরকারী সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কার্যসাধন করবেন দ্রুততার সাথে।
আমরা পুরো বাংলাদেশ তথা সমগ্র পৃথিবীর রোল মডেল হতে পারি খুব সহজেই আর একাজে চট্রগ্রাম শহরের লোকেদের নিয়োজিত করতে পারলে সবচে বেশি কার্যকরি ফল পাওয়া যাবে। আপনার এই মহতকাজ চট্রগ্রামবাসী আজীবন ধরে স্বরণ করবে এবং আপনি নিশ্চিতভাবেই এই কাজের জন্য অমরত্ব লাভ করবেন।
এভাবে দেশের প্রতিটি শহরে পরিকল্পনামাফিক উন্নয়নের উদ্যেগ নিলে দেশ আগামী ৫ বৎসরে আমুল পরিবর্তন হয়ে যাবে। সবাই সমালোচনা না করে সঠিক দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করলেই পরে একটি সুন্দর ভবিষ্যত আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ। লেখক: ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক

Leave a Reply

%d bloggers like this: