সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করা আপনার পবিত্র কর্তব্য

আ ব ম খোরশিদ আলম খান : Khorshed Khan Photoচট্টগ্রাম-ঢাকা তিন সিটিতে নির্বাচনি উৎসব এখন তুঙ্গে। লাগাতার তিন মাস ধরে হরতাল অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানুষ পোড়ানোর বীভৎসতা থেকে দেশবাসী বেঁচে গেল। তিন সিটি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে ধীরে ধীরে দেশবাসী স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে এ নির্বাচনের বিকল্প ছিল না। তিন সিটিতে হঠাৎ করে নির্বাচন দিয়ে সরকার বড় রাজনৈতিক দূরদর্শীতা দেখিয়েছে। বিরোধী জোটের সহিংস আন্দোলন মোকাবিলায় সিটি নির্বাচন দেওয়াকে দেশবাসী সরকারের বড় সাফল্য ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে। প্রধান বিরোধী দল সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে প্রথমে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগলেও শেষমেশ নির্বাচনি প্লাটফরমে এসে জনগণের দাবি ও প্রত্যাশাকে আমলে নিয়েছে বলা যায়। বিগত জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচনের বাইরে থাকলে বিএনপিসহ সমমনা ২০ দল রাজনৈতিক দিক থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়তো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও নির্দলীয় নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও তিন সিটিতেই এখন দুই প্রধান জোটে রাজনৈতিক উৎসব আবহ বিরাজ করছে। নির্বাচন সরাসরি দলীয় রূপ পেয়েছে। বিশেষ করে তিন সিটিতেই মেয়র পদে বড় দুই দলের প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও আরো বহু দল নির্বাচনি মাঠে সক্রিয়। বিশেষ করে ঢাকায় উত্তর-দক্ষিণে দুই সিটিতে দুই দলের চারজন হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীর বিপরীতে আরেকজন প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিএনপি থেকে বেরিয়ে গঠিত দল বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীর ছেলে মাহী বি চৌধুরীও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসছেন বলে মিডিয়ায় খবর আসছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে মেয়র পদে লড়ছেন ১২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সদ্য পদত্যাগী মেয়র চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পক্ষে বিএনপি সমর্থিত আলহাজ্ব এম মনজুর আলম এবং নাগরিক কমিটি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছিরের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আশা করা গেলেও নির্বাচনি দৌড়ে মোটামুটি এগিয়ে আছেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠ ও সুন্নি নাগরিক ঐক্য পরিষদের প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন (চরকা প্রতীক)। বিএনএফ এর পক্ষে অধ্যাপক আরিফ মঈনুদ্দিন, সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের হোসাইন মুজিবুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওয়ায়েজ উদ্দীনের পক্ষে কিছুটা জনসমর্থন আঁচ করা যায়। যদিও শেষোক্ত এ চারজনের তৎপরতা বেশ জোরালো। স্বপ্নের সমৃদ্ধ মেগাসিটি স্লোগানে আ.জ.ম নাছির, বেকারত্বমুক্ত আধুনিক নগরী গড়ার প্রত্যয়ে এম মনজুর আলম, জলাবদ্ধতা-অপরিচ্ছন্নতামুক্ত বিশ্বমানের নগরী প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে মাওলানা এম এ মতিনের নির্বাচনী লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছেন নগরবাসী। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি জাতীয় রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হলেও চট্টগ্রামে নেতৃত্বের কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে মেয়র প্রার্থী সোলায়মান শেঠ তেমন কারিশমা দেখাতে পারছেন না বলে অনেকে মনে করেন।
চট্টগ্রামে মেয়র পদে মনজুর-নাছিরের মধ্যে দ্বিমুখী ভোটযুদ্ধের কথা বেশ জোরেশোরে বলা হলেও আরো দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসতে পারেন। বিশেষত, চট্টগ্রাম সুন্নি জনঅধ্যুষিত এলাকা। এখানকার লাখ লাখ মানুষ সুন্নি মতাবলম্বী। নগরীতে বহু সংখ্যক নীরব ভোটার সুন্নি নাগরিক ঐক্যের মেয়র প্রার্থী এম এ মতিনের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ালে ভোটের চিত্র পাল্টে যেতে পারে। তিন বছর আগে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি অরাজনৈতিক দল ইসলাম ও ঈমান রক্ষার কথা বলে দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক ঝড় তোলে। প্রায় দুই বছর আগে নানা দাবিতে ঢাকার শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের নামে হেফাজতে ইসলাম ব্যাপক তান্ডব চালায়। এরই প্রেক্ষাপটে হেফাজতকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত সমন্বয় কমিটি। যার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন বর্তমান মেয়র প্রার্থী মাওলানা এম এ মতিন। চট্টগ্রাম লালদিঘী মাঠে গত বছর আহলে সুন্নাতের ব্যানারে লক্ষাধিক মানুষের মহাসমাবেশের মাধ্যমে দেশবাসীর নজরে আসে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। সিটি নির্র্বাচনে নগরীর সুন্নি ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর বলে অনেকের ধারণা। হেফাজত ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে মেয়র পদে সরাসরি কাউকে প্রার্থী না করলেও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওয়ায়েজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে তারা পরোক্ষ সমর্থন জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত আহলে সুন্নাত প্রার্থী এম এ মতিনের পক্ষে সুন্নি মতাদর্শীরা একাট্টা হলে এবং হেফাজত ইসলামের সমর্থকরা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষে রায় দিলে মেয়র পদে ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে বলে অনেকের বিশ্বাস।
ধর্মীয় ইস্যু নির্বাচনে না আনতে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা আছে। তবুও ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি-বিশ্বাস নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না এ কথা কেউ হলফ করে বলতে পারবে না। তবে শেষ পর্যন্ত চসিক নির্বাচনে আ.জ.ম নাছিরের পক্ষে প্রগতিশীলগোষ্ঠীর ঐক্য, এম মনজুর আলমের পক্ষে জাতীয়তাবাদী ঘরানার লোকদের জাগরণে এবং সুন্নি-অসুন্নিদের মধ্যে ভোটযুদ্ধ বেশ জমে উঠতে পারে। তবে মেয়র পদে যারাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসুক নগরবাসী সৎ, নীতিবান, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী ব্যক্তিদের নির্বাচিত করবেন এটাই প্রত্যাশা। চট্টগ্রাম নগরবাসীর ভাগ্য বদলে দিতে গতিশীল যোগ্য নেতৃত্বকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। ইতিমধ্যে সকল মেয়র প্রার্থী অসংখ্য প্রতিশ্র“তি দিয়ে নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। অনেক প্রতিশ্র“তি মেয়র প্রার্থীদের এখতিয়ারের বাইরে বলেও অভিযোগ আছে। নির্বাচনের আগে হাজারো প্রতিশ্র“তি প্রদান এবং নির্বাচন শেষে প্রতিশ্র“তির কথা বেমালুম ভুলে যাওয়া এটাই আমরা দেখে আসছি।
চট্টগ্রামে ৬৫ লাখ মানুষের বসবাস। একদিকে আকাশচুম্বি দালান কোঠায় নগরী ইট পাথরের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে নগরীতে অতি দরিদ্র প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস করছে বস্তিতে। পর্বতসম এই নাগরিক বৈষম্য কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। জলাবদ্ধতা-অপরিচ্ছন্নতা নগরবাসীর প্রধান সমস্যা। সকল প্রার্থী এদিকে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভুলেন নি। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে মেগাসিটি, উন্নত, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ, জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন বিশ্বমানের নগরী গড়তে হলে যোগ্য সৎ জনদরদী ব্যক্তিদের মেয়র-কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত করা নগরবাসীর পবিত্র কর্তব্য। বারবার ঘুরে ফিরে বিত্ত ও পেশিশক্তির দাপটেসৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করা আপনার পবিত্র কর্তব্য
আ ব ম খোরশিদ আলম খান : চট্টগ্রাম-ঢাকা তিন সিটিতে নির্বাচনি উৎসব এখন তুঙ্গে। লাগাতার তিন মাস ধরে হরতাল অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানুষ পোড়ানোর বীভৎসতা থেকে দেশবাসী বেঁচে গেল। তিন সিটি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে ধীরে ধীরে দেশবাসী স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে এ নির্বাচনের বিকল্প ছিল না। তিন সিটিতে হঠাৎ করে নির্বাচন দিয়ে সরকার বড় রাজনৈতিক দূরদর্শীতা দেখিয়েছে। বিরোধী জোটের সহিংস আন্দোলন মোকাবিলায় সিটি নির্বাচন দেওয়াকে দেশবাসী সরকারের বড় সাফল্য ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে। প্রধান বিরোধী দল সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে প্রথমে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগলেও শেষমেশ নির্বাচনি প্লাটফরমে এসে জনগণের দাবি ও প্রত্যাশাকে আমলে নিয়েছে বলা যায়। বিগত জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচনের বাইরে থাকলে বিএনপিসহ সমমনা ২০ দল রাজনৈতিক দিক থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়তো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও নির্দলীয় নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও তিন সিটিতেই এখন দুই প্রধান জোটে রাজনৈতিক উৎসব আবহ বিরাজ করছে। নির্বাচন সরাসরি দলীয় রূপ পেয়েছে। বিশেষ করে তিন সিটিতেই মেয়র পদে বড় দুই দলের প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও আরো বহু দল নির্বাচনি মাঠে সক্রিয়। বিশেষ করে ঢাকায় উত্তর-দক্ষিণে দুই সিটিতে দুই দলের চারজন হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীর বিপরীতে আরেকজন প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিএনপি থেকে বেরিয়ে গঠিত দল বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীর ছেলে মাহী বি চৌধুরীও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসছেন বলে মিডিয়ায় খবর আসছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে মেয়র পদে লড়ছেন ১২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সদ্য পদত্যাগী মেয়র চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পক্ষে বিএনপি সমর্থিত আলহাজ্ব এম মনজুর আলম এবং নাগরিক কমিটি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছিরের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আশা করা গেলেও নির্বাচনি দৌড়ে মোটামুটি এগিয়ে আছেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠ ও সুন্নি নাগরিক ঐক্য পরিষদের প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন (চরকা প্রতীক)। বিএনএফ এর পক্ষে অধ্যাপক আরিফ মঈনুদ্দিন, সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের হোসাইন মুজিবুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওয়ায়েজ উদ্দীনের পক্ষে কিছুটা জনসমর্থন আঁচ করা যায়। যদিও শেষোক্ত এ চারজনের তৎপরতা বেশ জোরালো। স্বপ্নের সমৃদ্ধ মেগাসিটি স্লোগানে আ.জ.ম নাছির, বেকারত্বমুক্ত আধুনিক নগরী গড়ার প্রত্যয়ে এম মনজুর আলম, জলাবদ্ধতা-অপরিচ্ছন্নতামুক্ত বিশ্বমানের নগরী প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে মাওলানা এম এ মতিনের নির্বাচনী লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছেন নগরবাসী। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি জাতীয় রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হলেও চট্টগ্রামে নেতৃত্বের কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে মেয়র প্রার্থী সোলায়মান শেঠ তেমন কারিশমা দেখাতে পারছেন না বলে অনেকে মনে করেন।
চট্টগ্রামে মেয়র পদে মনজুর-নাছিরের মধ্যে দ্বিমুখী ভোটযুদ্ধের কথা বেশ জোরেশোরে বলা হলেও আরো দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসতে পারেন। বিশেষত, চট্টগ্রাম সুন্নি জনঅধ্যুষিত এলাকা। এখানকার লাখ লাখ মানুষ সুন্নি মতাবলম্বী। নগরীতে বহু সংখ্যক নীরব ভোটার সুন্নি নাগরিক ঐক্যের মেয়র প্রার্থী এম এ মতিনের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ালে ভোটের চিত্র পাল্টে যেতে পারে। তিন বছর আগে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি অরাজনৈতিক দল ইসলাম ও ঈমান রক্ষার কথা বলে দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক ঝড় তোলে। প্রায় দুই বছর আগে নানা দাবিতে ঢাকার শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের নামে হেফাজতে ইসলাম ব্যাপক তান্ডব চালায়। এরই প্রেক্ষাপটে হেফাজতকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত সমন্বয় কমিটি। যার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন বর্তমান মেয়র প্রার্থী মাওলানা এম এ মতিন। চট্টগ্রাম লালদিঘী মাঠে গত বছর আহলে সুন্নাতের ব্যানারে লক্ষাধিক মানুষের মহাসমাবেশের মাধ্যমে দেশবাসীর নজরে আসে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। সিটি র্নির্বাচনে নগরীর সুন্নি ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর বলে অনেকের ধারণা। হেফাজত ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে মেয়র পদে সরাসরি কাউকে প্রার্থী না করলেও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওয়ায়েজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে তারা পরোক্ষ সমর্থন জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত আহলে সুন্নাত প্রার্থী এম এ মতিনের পক্ষে সুন্নি মতাদর্শীরা একাট্টা হলে এবং হেফাজত ইসলামের সমর্থকরা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষে রায় দিলে মেয়র পদে ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে বলে অনেকের বিশ্বাস।
ধর্মীয় ইস্যু নির্বাচনে না আনতে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা আছে। তবুও ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি-বিশ্বাস নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না এ কথা কেউ হলফ করে বলতে পারবে না। তবে শেষ পর্যন্ত চসিক নির্বাচনে আ.জ.ম নাছিরের পক্ষে প্রগতিশীলগোষ্ঠীর ঐক্য, এম মনজুর আলমের পক্ষে জাতীয়তাবাদী ঘরানার লোকদের জাগরণে এবং সুন্নি-অসুন্নিদের মধ্যে ভোটযুদ্ধ বেশ জমে উঠতে পারে। তবে মেয়র পদে যারাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসুক নগরবাসী সৎ, নীতিবান, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী ব্যক্তিদের নির্বাচিত করবেন এটাই প্রত্যাশা। চট্টগ্রাম নগরবাসীর ভাগ্য বদলে দিতে গতিশীল যোগ্য নেতৃত্বকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। ইতিমধ্যে সকল মেয়র প্রার্থী অসংখ্য প্রতিশ্র“তি দিয়ে নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। অনেক প্রতিশ্র“তি মেয়র প্রার্থীদের এখতিয়ারের বাইরে বলেও অভিযোগ আছে। নির্বাচনের আগে হাজারো প্রতিশ্র“তি প্রদান এবং নির্বাচন শেষে প্রতিশ্র“তির কথা বেমালুম ভুলে যাওয়া এটাই আমরা দেখে আসছি।
চট্টগ্রামে ৬৫ লাখ মানুষের বসবাস। একদিকে আকাশচুম্বি দালান কোঠায় নগরী ইট পাথরের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে নগরীতে অতি দরিদ্র প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস করছে বস্তিতে। পর্বতসম এই নাগরিক বৈষম্য কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। জলাবদ্ধতা-অপরিচ্ছন্নতা নগরবাসীর প্রধান সমস্যা। সকল প্রার্থী এদিকে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভুলেন নি। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে মেগাসিটি, উন্নত, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ, জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন বিশ্বমানের নগরী গড়তে হলে যোগ্য সৎ জনদরদী ব্যক্তিদের মেয়র-কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত করা নগরবাসীর পবিত্র কর্তব্য। বারবার ঘুরে ফিরে বিত্ত ও পেশিশক্তির দাপটে নির্বাচিত হওয়া অভিজাত এলিট শ্রেণীর মৌসুমি বিত্তবান রাজনীতিকদের বর্জন করার সময় এসেছে। সাধারণ পরিবারের সৎ, সুশিক্ষিত, নীতিবান জনদরদী ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি করা উচিত। না হয় চট্টগ্রাম নগরবাসী তথা জনগণের ভাগ্য সেই তিমিরেই রয়ে যাবে। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক
সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচিত করা আপনার পবিত্র কর্তব্য
আ ব ম খোরশিদ আলম খান : চট্টগ্রাম-ঢাকা তিন সিটিতে নির্বাচনি উৎসব এখন তুঙ্গে। লাগাতার তিন মাস ধরে হরতাল অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানুষ পোড়ানোর বীভৎসতা থেকে দেশবাসী বেঁচে গেল। তিন সিটি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে ধীরে ধীরে দেশবাসী স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। সংঘাতময় পরিস্থিতি থেকে দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে এ নির্বাচনের বিকল্প ছিল না। তিন সিটিতে হঠাৎ করে নির্বাচন দিয়ে সরকার বড় রাজনৈতিক দূরদর্শীতা দেখিয়েছে। বিরোধী জোটের সহিংস আন্দোলন মোকাবিলায় সিটি নির্বাচন দেওয়াকে দেশবাসী সরকারের বড় সাফল্য ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে। প্রধান বিরোধী দল সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে প্রথমে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগলেও শেষমেশ নির্বাচনি প্লাটফরমে এসে জনগণের দাবি ও প্রত্যাশাকে আমলে নিয়েছে বলা যায়। বিগত জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচনের বাইরে থাকলে বিএনপিসহ সমমনা ২০ দল রাজনৈতিক দিক থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়তো বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও নির্দলীয় নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও তিন সিটিতেই এখন দুই প্রধান জোটে রাজনৈতিক উৎসব আবহ বিরাজ করছে। নির্বাচন সরাসরি দলীয় রূপ পেয়েছে। বিশেষ করে তিন সিটিতেই মেয়র পদে বড় দুই দলের প্রার্থী রয়েছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ছাড়াও আরো বহু দল নির্বাচনি মাঠে সক্রিয়। বিশেষ করে ঢাকায় উত্তর-দক্ষিণে দুই সিটিতে দুই দলের চারজন হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থীর বিপরীতে আরেকজন প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিএনপি থেকে বেরিয়ে গঠিত দল বিকল্প ধারার চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরীর ছেলে মাহী বি চৌধুরীও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসছেন বলে মিডিয়ায় খবর আসছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামে মেয়র পদে লড়ছেন ১২ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সদ্য পদত্যাগী মেয়র চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পক্ষে বিএনপি সমর্থিত আলহাজ্ব এম মনজুর আলম এবং নাগরিক কমিটি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ.জ.ম নাছিরের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আশা করা গেলেও নির্বাচনি দৌড়ে মোটামুটি এগিয়ে আছেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত আলহাজ্ব সোলায়মান আলম শেঠ ও সুন্নি নাগরিক ঐক্য পরিষদের প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন (চরকা প্রতীক)। বিএনএফ এর পক্ষে অধ্যাপক আরিফ মঈনুদ্দিন, সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের হোসাইন মুজিবুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওয়ায়েজ উদ্দীনের পক্ষে কিছুটা জনসমর্থন আঁচ করা যায়। যদিও শেষোক্ত এ চারজনের তৎপরতা বেশ জোরালো। স্বপ্নের সমৃদ্ধ মেগাসিটি স্লোগানে আ.জ.ম নাছির, বেকারত্বমুক্ত আধুনিক নগরী গড়ার প্রত্যয়ে এম মনজুর আলম, জলাবদ্ধতা-অপরিচ্ছন্নতামুক্ত বিশ্বমানের নগরী প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে মাওলানা এম এ মতিনের নির্বাচনী লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছেন নগরবাসী। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি জাতীয় রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হলেও চট্টগ্রামে নেতৃত্বের কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে মেয়র প্রার্থী সোলায়মান শেঠ তেমন কারিশমা দেখাতে পারছেন না বলে অনেকে মনে করেন।
চট্টগ্রামে মেয়র পদে মনজুর-নাছিরের মধ্যে দ্বিমুখী ভোটযুদ্ধের কথা বেশ জোরেশোরে বলা হলেও আরো দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসতে পারেন। বিশেষত, চট্টগ্রাম সুন্নি জনঅধ্যুষিত এলাকা। এখানকার লাখ লাখ মানুষ সুন্নি মতাবলম্বী। নগরীতে বহু সংখ্যক নীরব ভোটার সুন্নি নাগরিক ঐক্যের মেয়র প্রার্থী এম এ মতিনের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ালে ভোটের চিত্র পাল্টে যেতে পারে। তিন বছর আগে হেফাজতে ইসলাম নামে একটি অরাজনৈতিক দল ইসলাম ও ঈমান রক্ষার কথা বলে দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক ঝড় তোলে। প্রায় দুই বছর আগে নানা দাবিতে ঢাকার শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের নামে হেফাজতে ইসলাম ব্যাপক তান্ডব চালায়। এরই প্রেক্ষাপটে হেফাজতকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত সমন্বয় কমিটি। যার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন বর্তমান মেয়র প্রার্থী মাওলানা এম এ মতিন। চট্টগ্রাম লালদিঘী মাঠে গত বছর আহলে সুন্নাতের ব্যানারে লক্ষাধিক মানুষের মহাসমাবেশের মাধ্যমে দেশবাসীর নজরে আসে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। সিটি র্নির্বাচনে নগরীর সুন্নি ভোটাররা বড় ফ্যাক্টর বলে অনেকের ধারণা। হেফাজত ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে মেয়র পদে সরাসরি কাউকে প্রার্থী না করলেও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওয়ায়েজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে তারা পরোক্ষ সমর্থন জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত আহলে সুন্নাত প্রার্থী এম এ মতিনের পক্ষে সুন্নি মতাদর্শীরা একাট্টা হলে এবং হেফাজত ইসলামের সমর্থকরা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষে রায় দিলে মেয়র পদে ভোটের হিসাব নিকাশ পাল্টে যেতে পারে বলে অনেকের বিশ্বাস।
ধর্মীয় ইস্যু নির্বাচনে না আনতে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা আছে। তবুও ধর্মীয় আবেগ অনুভূতি-বিশ্বাস নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না এ কথা কেউ হলফ করে বলতে পারবে না। তবে শেষ পর্যন্ত চসিক নির্বাচনে আ.জ.ম নাছিরের পক্ষে প্রগতিশীলগোষ্ঠীর ঐক্য, এম মনজুর আলমের পক্ষে জাতীয়তাবাদী ঘরানার লোকদের জাগরণে এবং সুন্নি-অসুন্নিদের মধ্যে ভোটযুদ্ধ বেশ জমে উঠতে পারে। তবে মেয়র পদে যারাই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসুক নগরবাসী সৎ, নীতিবান, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অধিকারী ব্যক্তিদের নির্বাচিত করবেন এটাই প্রত্যাশা। চট্টগ্রাম নগরবাসীর ভাগ্য বদলে দিতে গতিশীল যোগ্য নেতৃত্বকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে। ইতিমধ্যে সকল মেয়র প্রার্থী অসংখ্য প্রতিশ্র“তি দিয়ে নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। অনেক প্রতিশ্র“তি মেয়র প্রার্থীদের এখতিয়ারের বাইরে বলেও অভিযোগ আছে। নির্বাচনের আগে হাজারো প্রতিশ্র“তি প্রদান এবং নির্বাচন শেষে প্রতিশ্র“তির কথা বেমালুম ভুলে যাওয়া এটাই আমরা দেখে আসছি।
চট্টগ্রামে ৬৫ লাখ মানুষের বসবাস। একদিকে আকাশচুম্বি দালান কোঠায় নগরী ইট পাথরের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে নগরীতে অতি দরিদ্র প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস করছে বস্তিতে। পর্বতসম এই নাগরিক বৈষম্য কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। জলাবদ্ধতা-অপরিচ্ছন্নতা নগরবাসীর প্রধান সমস্যা। সকল প্রার্থী এদিকে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ভুলেন নি। চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে মেগাসিটি, উন্নত, প্রযুক্তিসমৃদ্ধ, জলাবদ্ধতামুক্ত, পরিচ্ছন্ন বিশ্বমানের নগরী গড়তে হলে যোগ্য সৎ জনদরদী ব্যক্তিদের মেয়র-কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত করা নগরবাসীর পবিত্র কর্তব্য। বারবার ঘুরে ফিরে বিত্ত ও পেশিশক্তির দাপটে নির্বাচিত হওয়া অভিজাত এলিট শ্রেণীর মৌসুমি বিত্তবান রাজনীতিকদের বর্জন করার সময় এসেছে। সাধারণ পরিবারের সৎ, সুশিক্ষিত, নীতিবান জনদরদী ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি করা উচিত। না হয় চট্টগ্রাম নগরবাসী তথা জনগণের ভাগ্য সেই তিমিরেই রয়ে যাবে। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক
নির্বাচিত হওয়া অভিজাত এলিট শ্রেণীর মৌসুমি বিত্তবান রাজনীতিকদের বর্জন করার সময় এসেছে। সাধারণ পরিবারের সৎ, সুশিক্ষিত, নীতিবান জনদরদী ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি করা উচিত। না হয় চট্টগ্রাম নগরবাসী তথা জনগণের ভাগ্য সেই তিমিরেই রয়ে যাবে। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*