স্মৃতিশক্তি বাড়বে যেসব খাবারে

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ১১ মে: মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে কম ঘুম, চাপ, ব্যায়ামের ঘাটতি, লাইফস্টাইল, পরিবেশগত উপাদান এবং ডায়েটজনিত কারণেও স্মৃতিশক্তি কমতে পারে। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ডায়েটের কোনো বিকল্প নেই।brainfood
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ বৃদ্ধি সম্পর্কে ভয়ঙ্কর তথ্য প্রদান করেছে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, বিশ্বে স্মৃতিশক্তি সমস্যাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা চার কোটি ৭৫ লাখ। প্রতি বছর এই দলে যুক্ত হচ্ছে আরও ৭০ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। বর্তমান মানুষের মস্তিষ্কের কোষের উৎপাদনের হার নিম্নমুখী। এখানে নয়টি খাবারের কথা বলা হলো যা আপনার মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং কার্যক্ষমতাকে বৃদ্ধি করবে।
ডিম: যেকোনো পুষ্টিবিদই আপনাকে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিবেন। ডিমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিগুণ। ডিমের হলুদ অংশে কোলিন (দ্রবণীয় নিউট্রিয়েন্ট) রয়েছে, যা মস্তিষ্কের জন্য বেশ দরকারি। বিশেষ করে ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে এটি ভালো কাজ করে।
সূর্যমুখীর বীজ: এই বীজে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-ই রয়েছে, যা স্মৃতিশক্তির কার্যাবলীকে মসৃণ গতিতে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি রক্ষার্থে ত্রাণকর্তা হিসেবেও কাজ করে সূর্যমুখীর বীজ। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কোলিন রয়েছে, যা স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিশক্তির ঘাটতি পূরণে কাজ করে।
মাছের চর্বি: মাছের চর্বিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা মস্তিষ্ক গঠন ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই সহায়ক। অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য গর্ভবতী নারীদের সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন মাছ খেতে পরামর্শ দেয়া হয়। মাছ শিশুর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। স্যামন এবং টুনা মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সবচেয়ে ভালো উৎস।
বেরি: স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি এবং ব্লুবেরিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা মস্তিষ্কের সংকেত পাঠানোর পথকে শক্তিশালী করে। মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু এবং প্রদাহ প্রতিরোধ করে বেরি। এটি বললে ভুল হবে না, বেরির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ডিমেনশিয়া এবং অ্যালজেইমার বিলম্বিত করতেও সহায়তা করে।
শাক: শাক শরীর গঠনের খাবার হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া শাকে লুটেনিন নামে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি কগনিটিভ (জ্ঞান অর্জন ও চিন্তা করার ক্ষমতা) পতন প্রতিরোধ করে। লুটেইন মস্তিষ্কের প্রধান কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার উন্নয়ন করে।
বিটমূল: মেরুন রঙের এই সবজিটি নাইট্রেটের সবচেয়ে ভালো উৎস, যা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ উন্নতি করে মস্তিষ্কের কার্যাবলী বৃদ্ধি করে। ডিমেনশিয়া আক্রান্তদের মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক করে।
বাদাম: কাজু বাদাম, ক্যাশো বাদাম, চীনাবাদাম, আখরোটে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন-ই পাওয়ার ভালো উৎস। একমুঠো বাদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-ই সরবরাহ করে এবং মস্তিষ্কের কার্যাবলীর ঘাটতি পূরণ করে।
শস্যদানা: আস্ত শস্যদানা পুরো শরীরে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।
কালো চকোলেট: এতে প্রাকৃতিক উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত মাত্রায় চকোলেট খেলে এরমধ্যে থাকা ক্যাফেইন আপনার মস্তিষ্ক এবং মেজাজ স্বাভাবিক রাখবে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Leave a Reply

%d bloggers like this: