স্বেচ্ছাসেবক দলের বয়স ফুরাবে কবে?

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটির বয়স পাঁচ বছর সাত মাস। তিন দফায় গঠিত কমিটিতে নেতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারশ জনে। অথচsheccasebok do আন্দোলনের মাঠে এদের দেখা মেলা ভার। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় দলের বেশির ভাগই নিষ্ক্রিয়। তবে খালেদা জিয়ার দল পুনর্গঠনের ঘোষণায় অনেকে নড়েচড়ে বসেছেন। নিষ্ক্রিয়তায় দল থেকে ছিটকে পড়ার ভয়ে অনেকে আতঙ্কিতও। নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামীতে যদি নতুন কমিটি হয় তাহলে এবার যেন লবিং বা তদবিরে পদ না পায় সেদিকে দলের লক্ষ্য রাখতে হবে। এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মাধ্যমে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়দের তালিকা করে সংগঠন পুনর্গঠন করতে হবে। এমনটা হলেই স্বেচ্ছাসেবক দল আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে ধারণা তাদের। ১৯৮০ সালের ১৯ আগস্ট, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দলের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক দল প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সময় এই সংগঠনের বিষয়ে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, “সৎ নিষ্ঠাবান কর্মীদের সমন্বয়ে এই সংগঠনটি গড়ে তোলা হবে। এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশে ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, মহামারীসহ যে কোনো জাতীয় দুর্যোগ ও দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করবে। কোনো কাজেই তারা ব্যর্থ হবে না। অন্যরা যেখানে ব্যর্থ হবে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে এগিয়ে যাবে।” দলের প্রতিষ্ঠাতা এমন প্রত্যাশা করলেও ২০১৩ ও ২০১৫’র আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবক দল কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারছে তার হিসাব মেলাতে পারছেন না কেন্দ্রীয় নেতারা। সংগঠনটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বললে তারা জানান, অন্যসব অঙ্গ সংগঠনের চেয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলে নেতার সংখ্যা বেশি। কিন্তু লবিং, তদবিরে বেশির ভাগ পদ দখল হওয়ায় এসব নেতারা আন্দোলনে থাকেন না। ফলে এই সংগঠনটির ওপর বিএনপি চেয়ারপারসন বেশি ভরসা রাখলেও তা কাজে দিচ্ছে না। সংগঠনের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১১ অক্টোবর হাবিব উন নবী খান সোহেলকে সভাপতি ও মীর সরফত আলী সপুকে সাধারণ সম্পাদক এবং শফিউল বারী বাবুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে বর্তমান কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ২১ আগস্ট ৩৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। এখানেই শেষ নয়। পরবর্তীতে গোপনে কমিটিতে নেতার সংখ্যা বাড়ানো হয়। সব মিলে নেতার সঙ্গে দাঁড়ায় প্রায় ৪শ জনে। এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলেও ঢাকা মহানগর চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। ২০০৯ সালের শেষের দিকে ঢাকা উত্তরে ইয়াসিন আলী ও দক্ষিণে আলী রেজাউর রহমান রিপনের নেতৃত্বে এই কমিটি দেয়া হয়। এতোদিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল বলতে সবাই এই দুই নেতাকেই চেনেন। এ কারণে পদ পদবী না পেয়ে এখানকার কর্মীরা দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামতে চান না বলে জানা গেছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সভাপতি একজন সুবক্তা হিসেবে পরিচিত হলেও আন্দোলনের মাঠে তাকে ব্যর্থ বলছেন সংগঠনেরই নেতারা। একজন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গত আন্দোলন নিয়ে আমাদের সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ প্রথম সারির নেতারা গোটা সময় জুড়ে আত্মগোপনে ছিলেন। অনেকে এখনো আছেন। এভাবে তো সংগঠন চলতে পারে না।” তিনি অবিলম্বে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্যদের দিয়ে সংগঠন পুনর্গঠনের দাবি জানান। সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাচ্চু জানান, দুই দফার আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী খুন ও গুমের শিকার হয়েছে। এবারের আন্দোলনে শুধু ঢাকায় ১৬২ জন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এরপরে আছে সিলেট। এছাড়া সারাদেশের কয়েক হাজার নেতাকর্মী জেলে আছে। এদিকে তিন মাসের আন্দোলনের শুরুতে কেন্দ্রীয় সভাপতিকে একদিন রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলে দেখা গেছে। তবে এখন আর খোঁজ নেই। অন্যদিকে আন্দোলনের শুরু থেকে এখনো লোকচক্ষুর আড়ালে আছেন সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু। তবে এই দুই শীর্ষ নেতা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে দাবি তাদের ঘনিষ্ঠজনদের। যদিও ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাংলামোটর থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবুসহ আটক হয়েছিলেন সপু। ওই আটক হওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জনও ছিল। অন্যদিকে ওইসময় ঢাকায় আন্দোলন জমাতে ব্যর্থ হওয়ায় খালেদা জিয়া সপুসহ বিএনপির পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে কয়েকদফা চেষ্টা করলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনির হোসেন বলেন, “বিগত আন্দোলনে পুরোপুরি সফল না হলেও আমরা মোটামুটি ভূমিকা রেখেছি। সবাই যার যার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছে।” অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দল পুনর্গঠনের বিষয়টি পত্রপত্রিকায় দেখছি। হয়তো ভেতরে ভেতরে কাজ চলছে।” সূত্র : ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*