সৌদি আরব মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২১ জুন ২০১৭, বুধবার: সৌদি আরব মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করেছে। এর আগে তিনি ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ছিলেন। ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন নায়েফ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের স্থলে স্থলাভিষিক্ত হলেন সৌদি বাদশাহ সালমানের পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমান। বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স নায়েফ সম্পর্কে সৌদি বাদশাহ সালমানের ভাতিজা।
রাজতন্ত্রের দেশ সৌদি আরবে যুবরাজই বাদশাহর উত্তরসূরি। বুধবার এক ফরমানে বাদশাহ ওই পদে পরিবর্তন আনেন। সৌদি আরবের উত্তরাধিকার নির্ধারণ কমিটির ভোটাভুটিতে ৪৩ টি ভোটের মধ্যে ৩১টি ভোট পান মোহাম্মেদ বিন সালমান। মঙ্গলবার মধ্যরাতে মক্কার আল সাফা প্রাসাদে উত্তরাধিকার নির্ধাণ কমিটির ওই বৈঠক হয়।
সৌদি বাদশার ডিক্রিতে প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সউদ বিন নাইফকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মেদ বিন নায়েফ (৫৭) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত মার্চে যুবরাজ মোহাম্মদ যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন এবং হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ভোজসভায় আমন্ত্রণ জানান। এর আগে ২০১৫ সালে যখন বাদশাহ সালমানের ভাতিজা নায়েফকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করা হয়েছিল তখন দেশটিতে ক্ষমতার হস্তান্তর হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেছিলেন। বাদশাহ সালমানের সৎভাই প্রিন্স মাকরিনকে সরিয়ে ভাতিজা নায়েফকে ক্রাউন প্রিন্স করা হয়েছিল।
সৌদি বাদশাহ সালমানের বয়স বর্তমানে ৮১ বছর। পরবর্তী সৌদি বাদশাহ হিসেবে ক্রাউন প্রিন্সরাই দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। বাদশাহ সালমানের উত্তরসূরী হিসেবে সৌদি আরবে মোহাম্মদ বিন সালমান ও বাদশাহর ভাতিজা নায়েফকেই মনে করা হয়। বাদশাহ পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমান বর্তমানে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সৌদি নেতৃত্বে যে আরব দেশগুলো কাতারের বিরুদ্ধে অবরোধ ও সম্পর্কচ্ছেদ করেছে তার অন্যতম পুরোধা হচ্ছেন মোহাম্মদ বিন সালমান।
মোহাম্মদ বিন সালমান ১৯৮৫ সালের ৩১ আগষ্ট জেদ্দায় জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সে কোনো দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি একই সঙ্গে হাউস অব সাউদ রয়াল কোর্টের প্রধান, কাউন্সিল ফর ইকোনোমিক এন্ড ডেভলভমেন্ট এ্যাফেয়ার্সের প্রধান। সৌদি সিংহাসনের পেছনে মোহাম্মদ বিন সালমানকেই আসল ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে মনে করা হয়। বাদশাহ সালমানের তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তার মায়ের নাম ফাহদা বিনতে ফালাহ বিন সুলতান। ফাহদা আল আজমান গোত্রের প্রধান রাকান বিন হিথালায়ানের নাতনি।
প্রিন্স মোহাম্মদ তার ভাইবোনদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। কিং সউদ ইউনিভার্সিটি থেকে আইনের ওপর তিনি ব্যাচলর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং তারপর তিনি বাদশাহ সালমানের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সৌদি ক্যাবিনেটে তিনি এক্সপার্ট কমিশনের কনসালটেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
২০০৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোহাম্মদ বিন সালমান রাজনীতিতে যোগ দেন ও বাদশাহ সালমানের বিশেষ পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ২০১১ সালের অক্টোবরে ক্রাউন প্রিন্স সুলতান বিন আব্দুলআজিজ মারা যাওয়ার পর একই বছর নভেম্বরে বাদশাহ সালমান প্রিন্স মোহাম্মদকে দ্বিতীয় উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। এসময় প্রিন্স মোহাম্মদকে বাদশাহ ব্যক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োগ দেন। আল-আরাবিয়া/উইকি পিডিয়া/প্রেসটিভি/সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*