সৌদি আরব থেকে পাঠানো দুম্বার মাংস এবার অনেকেই পায়নি

নিউজগার্ডেন ডেস্ক, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার: দুঃস্থদের জন্য সৌদি আরব থেকে পাঠানো দুম্বার মাংস প্রতি বছর পেলেও এবার পায়নি মাদারীপুরের এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলো। মাংস কোথায় কীভাবে বিতরণ হয়েছে সেটি জানেন না প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা। তারা অভিযোগ করছেন, বিতরণকারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মীরাই ভাগাভাগি করে নিয়ে গেছে এই মাংস। তবে বিরতণকারীদের দাবি, সব কিছু নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। মাংস বিতরণ নিয়ে অনিয়মের কথা লোকমুখে ছড়িয়েছে জেলায়। এ নিয়ে সরকারি কর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনাও হচ্ছে।
জেলার চার উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাতে বিতরণ করা হয় এই মাংস। মোট ৪০২ কার্টন মাংস এসেছিল এই জেলার জন্য। প্রতিটি কার্টনে ১০ কেজি করে মোট চার হাজার ২০ কেজি মাংস বিতরণ করার কথা।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে এই মাংস চার উপজেলায় পাঠানো হয়। প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসব মাংস গ্রহণ করেন। নিয়ম লঙ্ঘন করে এই মাংস পরে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তারা ভাগ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক এতিমখানার পরিচালক জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউর রহমান ও প্রকল্প কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যক্তিগত কারণে উপজেলায় কর্মরত না থাকায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জান্নাত আরা নাহিদ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কিছু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বার, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় উপস্থিত কয়েকজনের মাঝে মাংস বিতরণ করেছেন। অনেক অনুরোধ করেও প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় মাংস দেয়া হয়নি। কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও পেয়েছেন এই ভাগ।
সরকারি শিশু পরিবার (বালক) সহকারী তত্ত্বাবধায়ক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর এই এতিমখানার ১০০ জন এতিমদের জন্যে দুম্বার মাংস দেয়া হয়। অথচ এই বছর আমাদের কাউকে কিছু জানানো হয়নি। গোপনে কাদের মাঝে মাংস দেয়া হয়েছে, তাও জানি না।’
জানতে চাইলে মাংস বিতরণকারী ভূমি কর্মকর্তা জান্নাত আরা নাহিদ বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে সঠিক নিয়মে গোশত বিতরণ করা হয়েছে।’
মাদারীপুর জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা গোবিন্দ্র চন্দ্র রায় জানান, গবির, দুঃস্থ ও এতিম পরিবারের জন্যে সৌদি আরব থেকে ১০ কেজি পরিমাণ প্যাকেটে মাদারীপুর সদর উপজেলায় ১০১ কার্টন, কালকিনি উপজেলায় ১০৬ কার্টন, রাজৈর উপজেলায় ৬৫ কার্টন ও শিবচর উপজেলার জন্যে ১৩০ কার্টন দুম্বার মাংস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। এতিমখানা, মাদ্রাসা অথবা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গরিবদের মাধ্যে এগুলো বিতরণ করার কথা। সরকারি কোনো কর্মচারী বা কর্মকর্তার এই মাংস নেয়ার কথা নয়। যদি কেউ নিয়ে থাকে তা অন্যায় হয়েছে।’
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘যতটুকু মাংস বরাদ্দ হয়েছে তা উপজেলায় বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই পাঠানো হয়েছিল। তারা কীভাবে বিতরণ করেছে তা আমার জানা নেই। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*