সেনাবাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকার খবর

নিউজগার্ডেন ডেস্ক : রাজধানী ঢাকায় আওয়ামামী লীগ ও বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।1000 এরপরও থামেনি আশঙ্কা। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন নগরবাসীসহ সারাদেশের মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষী বিজিবির বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। আর সেনাবাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছে কলকাতার জনপ্রিয় ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা। ‘দপ্তরে অবরুদ্ধ খালেদা, অশান্তির মুখে ঢাকা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণতন্ত্রের পক্ষে-বিপক্ষের তাল ঠোকাঠুকিতে ফের উত্তপ্ত বাংলাদেশের রাজধানী শহর। বিরোধী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে শনিবার রাত থেকেই তার গুলশনের দপ্তরে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে পুলিশ। ঢাকায় মিটিং-মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষী বিজিবির বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে। সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেনাদেরও। এর মধ্যেই ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় অন্তত ১০টি বাস ও গাড়ীতে আগুন দিয়েছে বিরোধী দলের কর্মীরা। বিএনপিসহ 01বড় রাজনৈতিক দলগুলো বয়কট করায় গত বছরের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লিগের জোট। সেই নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ঢাকায় ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ পালনে জনসভার ডাক দিয়েছিল সরকারি দল। আবার ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালনে ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। আনন্দবাজারের দাবি, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু শনিবার রাতেই পুলিশের গাড়ী খালেদার গুলশনের দপ্তর ঘিরে ফেলে কড়া পাহারা বসায়। পল্টনে বিএনপির দপ্তর থেকে দলের মুখপাত্র রুহুল কবীর রিজভিকে অসুস্থ অবস্থায় তুলে এনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সকালে ঢাকার সর্বত্র অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। গ্রেপ্তারের ভয়ে বিএনপি নেতারা প্রায় সকলেই গা-ঢাকা দেন। তবে বিএনপি অনুগত সাংবাদিকের একটি দলকে বিকেলে (রবিবার) খালেদার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়। খালেদা তাদের মাধ্যমে ঘোষণা করেন, ‘বেআইনি’ 3সরকারের নিষেধাজ্ঞা না-মেনে সোমবার ঢাকায় তিনি সভা করবেন। সন্ধ্যার পর শুরু হয় একের পর এক গাড়ীতে আগুন লাগানো। পত্রিকাটি বলেছে, সরকার কেন এমন পদক্ষেপ করল? বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বিএনপি ও জামায়াত সোমবারের বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকাজুড়ে নাশকতা চালিয়ে সরকার উচ্ছেদের চক্রান্ত করেছিল। জেএমবি, হুজি ও আলফার মতো জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে মিলেই এই চক্রান্ত হয়েছিল। সরকার পক্ষের নেতা-মন্ত্রীদের ওপর হামলা ও ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোও এই চক্রান্তের অঙ্গ ছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, তারা জানতে পেরেছিলেন, খালেদা জিয়া শনিবার রাতেই ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢুকে পড়ে সেখান থেকে সরকার ফেলার কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন এমনটাই ছিল পরিকল্পনা। এজন্য রাতেই প্রেসক্লাবে গোপনে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। প্রেসক্লাবের গায়েই কেন্দ্রীয় সচিবালয়। গোয়েন্দাদের দাবি, সেখানে জন সমাবেশ ও অবস্থান করে অরাজকতা সৃষ্টির সঙ্গে রাজধানীর অন্যত্র নাশকতা চালানো ছিল পরিকল্পনার অঙ্গ। পুলিশ দাবি করেছে, খালেদাকে আদৌ আটক বা অবরুদ্ধ করা হয়নি। গোয়েন্দা দপ্তরের কাছ থেকে নাশকতার খবর পাওয়ার পর তার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে মাত্র। একই কারণে সব দলের মিটিং-মিছিলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পাহারা বাড়ানোর পাশাপাশি বিজিবিকেও মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, আগে ভাগে মাঠে নেমে তারা এই চক্রান্ত রুখেছেন। ঢাকামুখী যানবাহনেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তা-ও সোমবার অশান্তির আশঙ্কা যাচ্ছে না ঢাকাবাসীর, এমনটাই খবর দিয়েছে আনন্দবাজার।

Leave a Reply

%d bloggers like this: